গনোরিয়া কি ? উপসর্গ, কারণ, চিকিৎসা, প্রতিরোধ।

সিরিয়ালের জন্য যোগাযোগ করুন -

গনোরিয়া কি ? উপসর্গ, কারণ, চিকিৎসা, প্রতিরোধ।

গনোরিয়া কি ? উপসর্গ, কারণ, চিকিৎসা, প্রতিরোধ।

গনোরিয়াঃ একটি রোগের নাম। যা সাধারণত নারী-পুরুষ উভয়ের হতে পারে। এটি কষ্টদায়ক যৌন সংক্রামক রোগ। গনোরিয়া হচ্ছে, একটি যৌনবাহিত রোগ। পুরুষের ক্ষেত্রে এই রোগে প্রস্রাবের সময় জ্বালাপোড়া ও মূত্রনালি দিয়ে পুজ বের হয়।

পুরুষের যৌনাঙ্গ দিয়ে পুঁজ বের হওয়া, প্রস্রাবে জ্বালাপোড়া এ রোগের উপসর্গ। প্রকৃতপক্ষে এটি একটি ব্যাকটেরিয়া ঘটিত জীবাণুবাহিত রোগ। এটা পুরুষাঙ্গ, সারভিক্স বা জরায়ুর ছিদ্র, রেকটাম মলাশয় বা পায়ু, গলা ও চোখকে আক্রান্ত করতে পারে। এই ইনফেকশনজনিত কারণে বন্ধ্যাত্বও দেখা দিতে পারে। 

সাধারণত নারীদের চেয়ে পুরুষরাই এই যৌনরোগে বেশি আক্রান্ত হয়। শুধু নারী ও পুরুষের মেলামেশার কারণেই এ রোগ ছড়ায়।

এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার হার ক্রমশ বাড়ছে। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশনের (সিডিসি) উপাত্তে দেখা যায়, ২০১৬ থেকে ২০১৭ সালে পুরুষদের মধ্যে গনোরিয়ার হার দ্বিগুণ হয়েছে।

গনোরিয়া রোগের উপসর্গ.

গনোরিয়ায় আক্রান্ত হলে পুরুষের বিভিন্ন গ্রন্থি যেমন প্রোস্টেট গ্রন্থি, শুক্রনালি, এপিডিডাইমিসে তীব্র প্রদাহের সৃষ্টি করে। আক্রান্ত ব্যক্তির পুরুষাঙ্গের সম্মুখভাগে পুঁজজাতীয় পদার্থ লেগে থাকতে দেখা যায় ও হালকা ব্যথা অনুভূত হতে পারে। কিছুদিন পর রোগের উপসর্গ কিছুটা কমে যায়। তবে এর মানে এই নয় যে রোগটি সেরে গেছে। এর মধ্য দিয়ে দীর্ঘমেয়াদি জটিলতা দেখা দিতে পারে। আর দীর্ঘমেয়াদি জটিলতায় শুক্রনালি বন্ধ হয়ে যেতে পারে, উপ-শুক্রাশয় (এপিডিডাইমিস) নষ্ট হয়ে যেতে পারে। ফলে আক্রান্ত ব্যক্তির পিতা হওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ হয়ে যায়।

নারীর উপসর্গ.

নারীদের ক্ষেত্রে যোনিপথের গ্রন্থি, বিশেষ করে জরায়ুমুখের গ্রন্থিগুলো এ জীবাণুতে আক্রান্ত হয়। পরে এ জীবাণু ডিম্বনালিকে আক্রমণ করে। একসময় যোনিপথ ও মূত্রপথ—উভয়ই আক্রান্ত হয় এবং পুঁজ বের হতে দেখা যায়। প্রস্রাবে তীব্র ব্যথা, জ্বালাপোড়া শুরু হয়। আবার ডিম্বনালি দিয়ে জীবাণু দেহের গভীরে প্রবেশ করতে পারে।

দীর্ঘদিন আক্রান্ত থাকলে ডিম্বনালি বন্ধ হয়ে যেতে পারে। ফলে সন্তান ধারণক্ষমতা হারাতে পারেন ওই নারী। আবার আক্রান্ত নারী কোনো সন্তান প্রসব করলে ওই সন্তানের চোখ এ জীবাণুতে আক্রান্ত হতে পারে।

গনোরিয়া রোগের কারণ.

এ রোগে অল্প বয়সের মেয়ে এবং শিশুরা ও আক্রান্ত হতে পারে। বাচ্চারা সংক্রমিত বিছানার চাদর, তোয়ালে থেকে রোগটি অর্জন করতে পারে। ঘনবসতি এবং অপরিচ্ছন্নতা থেকেও বাচ্চাদের সংক্রমিত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। তবে সন্তান ভূমিষ্ট হওয়ার পর ও আক্রান্ত মাতৃদেহ হতে সংক্রমিত হতে পারে। যৌন মিলনের সময় আক্রান্ত দেহের বহিযৌনাঙ্গ, মুখ ও পায়ু থেকে সংক্রমণ ঘটে।

ডিসচার্জ.

এই রোগের ইনফেকশনের সর্বাধিক কমন লক্ষণ হচ্ছে ডিসচার্জ।  ডিসচার্জ পাতলা হতে পারে অথবা ঘন হতে পারে, এটি পুরুষভেদে নির্ভর করে। সিডিসি অনুসারে, কোনো পুরুষ ইনফেক্টেড হওয়ার দুই সপ্তাহের মধ্যে তার ডিসচার্জের অভিজ্ঞতা হবে। ডিসচার্জের বর্ণ কিংবা পরিমাণ যাই হোক না কেন কিংবা ডিসচার্জ প্রতিনিয়ত হোক বা অনিয়মিত হোক, কোনো ডিসচার্জই স্বাভাবিক নয়। যেকোনো ধরনের ডিসচার্জ হলে আপনার চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া উচিত।

নিতম্বে চুলকানি.

মায়ো ক্লিনিক অনুসারে, গনোরিয়া মলদ্বারকেও আক্রমণ করতে পারে, যার ফলে মলদ্বারীয় চুলকানি ও ডিসচার্জ বা রক্তপাত হতে পারে। এছাড়া ডায়রিয়া হতে পারে এবং প্রাকৃতিক কর্ম সারার সময় ব্যথা অনুভব হতে পারে।

গলা ব্যথা.

ওরাল সেক্স থেকেও গনোরিয়া হতে পারে। গলায় গনোরিয়া ডেভেলপ হওয়া অনেক লোকের উপসর্গ দেখা দেয় না।  কারো কারো গলাব্যথা হতে পারে এবং লসিকাগ্রন্থি ফুলে যেতে পারে।

ব্যথা বা ফোলা.

গনোরিয়া ইনফেকশন পার্শ্ববর্তী স্থানে, যেমন- অণ্ডথলি ও অণ্ডকোষ, ছড়ানো শুরু করলে এপিডিডাইমিসে প্রদাহ হতে পারে, যার সঙ্গে থাকতে পারে কুঁচকি ব্যথা।

গর্ভাবস্থায় গনোরিয়া রোগ .

গনোরিয়ার জীবাণু গর্ভবতী নারীদের জননতন্ত্রের মধ্যে বিচরণ করে ডিম্ববাহী নালিতে প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি করতে পারে। এ কারণে নারীর বন্ধ্যাত্ব ঘটতে পারে বা জরায়ুর বাইরে গর্ভধারণ হতে পারে। গর্ভাবস্থায় নারীরা গনোরিয়ায় আক্রান্ত হলে শিশু জন্মের সময়ে মায়ের যোনি থেকে তার চোখে সংক্রমণ হতে পারে। শিশুকে চিকিৎসা না করলে তার চোখে প্রদাহ হবে এবং সে অন্ধ হয়ে যেতে পারে।

গনোরিয়া রোগ নির্ণয় ও পরীক্ষা.

এক্ষেত্রে রোগীর বিস্তারিত ইতিহাস শুনতে হবে। তারপর পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে হবে। যদি স্বল্পস্থায়ী আক্রমণ হয়ে থাকে তাহলে পুরুষের ক্ষেত্রে প্রস্রাবের রাস্তা থেকে নিঃসরিত পদার্থ এবং নারীদের মূত্রনালি ও জরায়ু নিঃসরিত পদার্থ পরীক্ষা করতে হবে। দীর্ঘমেয়াদি হলে প্রস্টেটগ্রন্থি ম্যাসাজের পর নিঃসরিত পদার্থ পরীক্ষা করতে হবে। এছাড়াও কালচার ও সেনসিটিভিটি পরীক্ষা করতে হবে।

গনোরিয়া রোগ থেকে মুক্তির উপায়/চিকিৎসা.

সাধারণত পেনিসিলিন ব্যবহারে সংক্রমণ সেরে যায়। পেনিসিলিন রেজিস্টেন্ট ব্যক্তিকে সেনসিটিভ ওষুধে চিকিৎসা দেয়া যেতে পারে। জটিলতাহীন গনোরিয়ার ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত একক মাত্রায় উপযুক্ত জীবাণুবিরোধী বা অ্যান্ট্রিমাইক্রোবিয়াল ওষুধ বেশ ভালো কাজ দেয়। এছাড়া অবস্থা জটিল হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে কাজ করাই উত্তম।

সকল ব্লগ পোস্ট সমূহ -

গরমে ঘামাচি কেন হয়- হলে কী করবেন?

সিরিয়ালের জন্য যোগাযোগ করুন -

গরমে ঘামাচি কেন হয়- হলে কী করবেন?

গরমে ঘামাচি কেন হয়- হলে কী করবেন?

প্রচণ্ড গরম আর বিরক্তিকর ঘামের সঙ্গে যন্ত্রণার অনুষঙ্গ হয়ে আসে ঘামাচি বা হিট র‍্যাশ। যাঁরা প্রচুর ঘামেন ও গরমে কাজ করেন, তাঁদের ঘামাচি হয় বেশি। শিশুদেরও ঘামাচি হওয়ার প্রবণতা বেশি। একে প্রিকলি হিট বা মিলিয়ারিয়াও বলে।

ঘামাচি দেখতে কেমন

ত্বকে লাল লাল দানার মতো করে ঘামাচি দেখা দেয়। কখনো এগুলো ব্লিস্টার বা ছোট ফোঁড়ার মতো হতে পারে। এগুলো প্রচণ্ড চুলকায়। মাঝেমধ্যে গোটা ত্বক লালচে হয়ে পড়ে।

কোথায় বেশি হয়

যেসব জায়গা বেশি ঘামে, যেমন বগল, হাঁটু বা কনুইয়ের ভাঁজে ঘামাচি বেশি হয়। এ ছাড়া পিঠেও বেশি হতে দেখা যায়। শিশুদের ডায়াপার পরার স্থানে, মুখে এবং মাথায়ও ঘামাচি হয়।

কেন হয় ঘামাচি

ত্বকের লোমকূপে যে ঘর্মগ্রন্থি থাকে, গরম ও ঘামের কারণে তার মুখ বন্ধ হয়ে গেলে সে জায়গা লাল হয়ে ফুলে ওঠে। এটাই ঘামাচি। নবজাতক ও ছোট শিশুদের ঘর্মগ্রন্থি পুরোপুরি তৈরি নয় বলে তাদের এই সমস্যা হয় বেশি।

কী করবেন

শরীর ও ত্বক শীতল রাখতে পারলে ঘামাচি এমনিতেই সেরে যায়। সারতে তিন সপ্তাহের মতো লাগতে পারে। পানি দিয়ে গোসল করলে একটা স্বস্তিকর অনুভূতি হয়, তবে বারবার গোসল করলে ত্বক শুষ্ক হয়ে পড়তে পারে। নখ দিয়ে আঁচড়ালে বা চুলকালে সংক্রমণ হতে পারে। তীব্রতা বেশি হলে চিকিৎসকের পরামর্শে লোশিও ক্যালামাইন বা প্রয়োজনে স্টেরয়েড ক্রিম ব্যবহার করা যায়।

ঘামাচি থেকে বাঁচতে আপনি কী করতে পারেন

যেখানে বসবাস করেন বা কাজ করেন, সেখানে মুক্ত বাতাস চলাচল নিশ্চিত করুন। পাতলা ঢিলেঢালা সুতির কাপড় পরুন, যার মধ্য দিয়ে বাতাস চলাচল করতে পারবে। খুব ঘেমে গেলে পোশাক পরিবর্তন করুন। শিশুদের ডায়াপার ভিজে গেলেই ঘন ঘন পরিবর্তন করবেন। ত্বকের ভাঁজগুলো কাপড় চেপে শুষ্ক করে নেবেন। শিশুদের পরিষ্কার পাতলা সুতির কাপড় পরাবেন বা দরকার হলে খালি গায়ে ফ্যানের নিচে রাখুন। সিনথেটিক কাপড় পরাবেন না। তাদের শোয়ানোর সময় প্লাস্টিকের মেট্রেস ব্যবহার করবেন না।

সকল ব্লগ পোস্ট সমূহ -

গরমে ফ্রিজের ঠান্ডা পানি পান করে নিজের ক্ষতি করছেন না তো?

সিরিয়ালের জন্য যোগাযোগ করুন -

গরমে ফ্রিজের ঠান্ডা পানি পান করে নিজের ক্ষতি করছেন না তো?

গরমে ফ্রিজের ঠান্ডা পানি পান করে নিজের ক্ষতি করছেন না তো?

গরমে এখন হাঁসফাস করছে দেশবাসী। এ সময় পানির পিপাসায় অনেকেই অস্থির হয়ে পড়ছেন। একে তাপমাত্রা সহন ক্ষমতার উপরে, তার উপর আবার বাতাসে অত্যধিক আর্দ্রতাও কষ্ট বাড়াচ্ছে।

এই দুইয়ের আক্রমণে নাজেহাল অবস্থা সাধারণ মানুষের। ঘরের বাইরে পা দিলেই ঘেমে-নেয়ে একাকার অবস্থা। ঠান্ডা পানি পান করা ছাড়া যেন কোনো বিকল্প নেই। অনেকেই বাইরে থেকে ঘরে ঢুকেই ফ্রিজ থেকে বরফজমা ঠান্ডা পানি খাওয়া শুরু করেন তবে গ্রীষ্মের গরমে যতটা সম্ভব ঠান্ডা পানি এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা

টনসিল–ঠান্ডা–কাশি–জ্বর

গরমের মধ্যে বাইরে থেকে ফিরেই সরাসরি ফ্রিজ থেকে ঠান্ডা পানি খেলে গলা খুসখুস থেকে শুরু করে ঠান্ডা লাগা পর্যন্ত অনেক আশঙ্কাই আছে। শরীরের তাপমাত্রা সাধারণভাবে ৯৮ ডিগ্রি ফারেনহাইট। অতিরিক্ত ঠান্ডা পানি পান করার কারণে দেহের কিছু অংশের তাপমাত্রা হুট করে কমে যায়। বাইরের তাপমাত্রার সঙ্গে মানিয়ে নিতে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে শরীর।

ফলে নিয়মিত এ রকম ঠান্ডা পানি খাওয়ার ফলে মিউকাস বা শ্লেষ্মা বেড়ে টনসিলের সমস্যা, মাইগ্রেনের সমস্যা, দাঁতে ব্যথা, খাদ্যনালির সমস্যা, সর্দি, কাশি বা জ্বরের ঝুঁকি বেড়ে যায়। তৈরি হওয়া মিউকাস বা শ্লেষ্মা শ্বাসপ্রশ্বাসে বাধা তৈরি করে। তখন নানা প্রদাহযুক্ত সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়ে যায়। আমাদের গলায় শ্বাসনালির ওপরের অংশে কিছু ‘সুবিধাবাদী জীবাণু’ বাস করে। সুবিধাজনক অবস্থা পেলেই এরা আক্রমণ করে। যখন চারপাশে গরম, তখন হঠাৎ করে ঠান্ডা পানি গলায় গেলে গলার তাপমাত্রা অনেক কমে যায়। ঠান্ডা পানিতে এই জীবাণুগুলো সক্রিয় হয়ে ওঠে।

মাসল টেনশন

ঠান্ডা পানি গলার যেদিক দিয়ে যায়, ‘মাসল টেনশন’–এর ফলে সেখানকার রক্তনালিকে সংকুচিত করে। ফলে কিছু সময়ের জন্য স্বাভাবিক রক্ত চলাচল ব্যাহত হয়। যদি গলায় বা ওই সব জায়গায় কোনো ধরনের সংক্রমণ হয়ে থাকে, সেটা সেরে ওঠার প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হয়। আর আপনার আগে থেকেই ঠান্ডা লেগে থাকলে তো কথাই নেই! নাক বন্ধ হতে সময় লাগবে না। পাকস্থলীর আশপাশের রক্তনালি ঠান্ডা পানির সংস্পর্শে এসে সংকুচিত হয়ে যায়। ফলে হজমপ্রক্রিয়ায় ব্যাঘাত ঘটতে পারে।

হৃৎস্পন্দন ‘ড্রপ’ করতে পারে

ঠান্ডা পানি সাময়িক সময়ের জন্য স্বাভাবিক হৃৎস্পন্দনে বাধা দেয়। দশম ক্র্যানিয়াল নার্ভ বা ভেগাস নার্ভ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার একটা আশঙ্কা থেকেই যায়। ফলে হৃৎস্পন্দনের পতন ঘটে হার্ট অ্যাটাক পর্যন্ত হতে পারে। যাঁদের সাইনাস বা মাইগ্রেনের সমস্যা আছে, তাদের ঠান্ডা পানি খাওয়া সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।

হজমে বাধা

হজমের সময় যে পুষ্টি শোষিত হয়, সেই স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় বাধা দেয় ঠান্ডা পানি। শরীর তখন হজমপ্রক্রিয়ার চেয়ে শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে বেশি ব্যস্ত হয়ে পড়ে। শরীরে বেশি পানিশূন্যতা দেখা যায়।

চর্বিজাতীয় পদার্থ জমে যাওয়া

শরীরের চর্বিজাতীয় পদার্থ ঠান্ডা পানির সংস্পর্শে এসে জমে যায়। ফলে সেগুলো শোষণ করা বা পুড়িয়ে ফেলা আরও কঠিন হয়ে পড়ে। এমনিতেই চর্বিজাতীয় পদার্থ হজম করতে শরীরে সবচেয়ে বেশি তাপ উৎপন্ন হয়। তাই কিছু ক্ষেত্রে ঠান্ডা পানি খাওয়ার ফলে শরীর তো ঠান্ডা হবেই না, আরও গরম হবে। আর ওজন কমানো আরও কঠিন হয়ে পড়বে।

দাঁতের শিরশিরানি

ঠান্ডা পানি দাঁতের এনামেল অংশটাকে দুর্বল করে তোলে। তখন দাঁতে যেকোনো সংক্রমণের সুযোগ তৈরি হয়। আর ঠান্ডা পানি খাওয়ার ফলে দাঁতে শিরশিরেভাব হওয়া খুবই স্বাভাবিক।

কারা একেবারেই খাবেন না ঠান্ডা পানি

যাঁদের ঠান্ডা–কাশি, দাঁতের সমস্যা, কোল্ড এলার্জি, হার্টের সমস্যা, মাথাব্যথা, সাইনাস আছে, সদ্য অপারেশন হয়েছে অথবা ওজন কমাতে চান— তাঁরা একেবারেই খাবেন না। এ ছাড়া খাওয়ার পরপরই ঠান্ডা পানি খাবেন না। একান্তই যদি খেতে হয়, খাওয়ার আধা ঘণ্টা পরে খান। অবশ্যই ঠান্ডা পানির সঙ্গে সমপরিমাণ বা বেশি স্বাভাবিক পানি মিশিয়ে খাবেন।


গরমের দিনেও সকালে নিয়ম করে কুসুম গরম পানি পান করা ভালো। এটা নিয়মিত করলে খুব সহজেই পেট পরিষ্কার হয়ে যাবে। এমনকি হজমক্ষমতাও বেড়ে যাবে। গ্যাস, অ্যাসিডিটির সমস্যাও হবে না।

সকল ব্লগ পোস্ট সমূহ -

কোন ব্যথায় কি ওষুধ দেওয়া হয়?

সিরিয়ালের জন্য যোগাযোগ করুন -

কোন ব্যথায় কি ওষুধ দেওয়া হয়?

কোন ব্যথায় কি ওষুধ দেওয়া হয়?

‘ব্যথা’ মানব জীবনের খুবই আঙ্গাআঙ্গি ভাবে জড়িয়ে থাকা একটি বিষয়। আদিমকাল থেকেই মানুষের বিভিন্ন ধরনের ব্যথা হয়ে আসছে এবং এর জন্য প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে নানাবিধ চিকিৎসা পদ্ধতি আবিষ্কার হয়েছে, প্রয়োগ হয়েছে। ব্যথা নিয়ে অনেক মজার মজার কথাও প্রচলিত আছে। যেমন- ‘সর্বাঙ্গে ব্যথা, ওষুধ দেবো কোথা’ ‘ব্যথা যার মনে, ওষুধে কি আর সারিবে দেহে’। এরকম আরও অনেক আছে। যাই হোক, আজকের এই লেখার উদ্দেশ্য ব্যথার ওষুধ নিয়ে সাধারণ একটি ধারণা দেওয়া। কোন কোন ব্যথায় কি ধরনের ওষুধ ব্যবহার হয় তা সহজ কথায় তুলে ধরা।

ব্যথা কয় ধরনের?

মানুষের দেহে বিভিন্ন ধরনের ব্যথা হয়ে থাকে। আমি এগুলোকে মোট দু’ভাগে ভাগ করতে চাই। একটা হল মানসিক কারণ, আরেকটি হল শারিরিক কারণ। এই লেখায় মূলত শারিরিক কারণ নিয়েই বিস্তারিত লিখতে চাই। শেষে মানসিক কারণও থাকবে।

শারীরিক ব্যথা কয় ধরনের?

ব্যথা হয় মূলত চার ধরনের। যেমন :-
১. মাস্কুলো-স্কেলেটাল পেইন (মাংসপেশী-হাড়ের ব্যথা)।
২. ভিসেরাল পেইন (শাগ্ররীরের ভেতরের নরম অঙ্গ প্রত্যঙ্গের ব্যথা)।
৩. নিউরোপেথিক পেইন (স্নায়ুজনিত ব্যথা)।
৪. ভাস্কুলার পেইন/ ইসকেমিক পেইন (রক্ত চলাচলে বাধগ্রস্থ হওয়ার দরুন ব্যথা) 

এছাড়াও আরেকটি ব্যথা রক্তনালী/ভাস্কুলার রোগের ব্যথা বা ইনফার্কশনের ব্যথা। মূলত সবচেয়ে মারাত্মক ব্যথা হল এই ইনফার্কশন বা টিস্যু পচনের ব্যথা। আরো কিছু ব্যথা আছে, যেমন- দাতের ব্যথা, কানের ব্যথা, চোখের ব্যথা ইত্যাদি। আজকের আলোচনায় প্রধান তিন ব্যথা ছাড়াও অন্যান্য গুলো স্বল্প পরিসরে বলার চেষ্টা করবো।

সংক্ষেপে একটু ধারণা নেওয়া যাক ব্যথার ওষুধের ধরন সম্পর্কে:

ব্যথার ওষুধ প্রধানত তিন ধরনের।

যেমন-
১. সেন্ট্রালি এক্টিং: (ব্রেইন বা স্পাইনাল কর্ডে ব্যথার সংবেদনশীলতা বন্ধ করে। এদেরকে বলে অপিওয়েড। যেমন- মরফিন, পেথিডিন, ন্যালবিউফিন, ট্রামাডল ইত্যাদি)
২. লোকালি এক্টিং: (যেখানে ব্যথা-শুধু সেখানেই কাজ করবে। যেমন- NSAID, Beklcfen, Tiemonium, Hysomide)।
৩. পেইন মোডিফাইং এজেন্ট: (এরা ব্যথার মাত্রা বদলে দেবে বা কমিয়ে দেবে । যেমন- এমিট্রিপ্টাইলিন, সার্টালিন, ডায়াজেপাম, ডুলোক্সেটিন ইত্যাদি)।

এখন শুরুতেই আসা যাক।

১. মাস্কুলো-স্কেলেটাল পেইন :-

এটা মূলত হাড় এবং মাংসপেশীর ব্যথা। এটা হয় মূলত আঘাত জনিত কারণে। এই আঘাতের ধরন বিভিন্ন হতে পারে। যেমন- সরাসরি আঘাত অর্থাৎ রোড ট্রাফিক এক্সিডেন্ট বা মারামারি ফলে (ট্রমা) হতে পারে। আবার কোনও কাজ করতে গিয়ে মাসলে চাপ/টান পড়তে পারে। যাকে বলে মাসল স্ট্রেইন। যেমন- ভারী কিছু উচু করতে গিয়ে কোমড়ের মাংসপেশী বা বুকের মাংসপেশীতে টান লাগা ইত্যাদি। এই সব ক্ষেত্রে মূলত ব্যবহার হয় কিছু ব্যথার ওষুধ আর তার সাথে মাংসপেশী নরম করার ওষুধ। কারণ যে মাংসে আঘাত বা টান লাগে তা শক্ত হয়ে যায় এবং তার পাশ দিয়ে চলা নার্ভের উপর চাপ দেয়। তাই একে নরম করতে হয়। এই ব্যথাটা মৃদু থেকে তীব্র হতে পারে। নড়াচড়া করলেই ব্যথা বাড়তে পারে। অনেক সময় ব্যথা কিছুক্ষণ থেকে থেকে আসতে পারে, অনেক সময় অনবরত ব্যথা থেকে যেতে পারে।

এখন আসা যাক কি ধরনের ব্যথায় কি ওষুধ দেওয়া হয়?

একে বলে NSAID (নন-স্টেরয়ডাল এন্টি-ইনফ্লামাটরি ড্রাগ)। খুবই পরিচিত এবং প্রচলিত ওষুধ কিটোরোলাক, ন্যাপ্রোক্সেন, ডাইক্লোফেনাক, ইন্ডোমেথাসিন ইত্যাদি। এগুলোর সাইড ইফেক্ট হল এরা এসিডিটি বা বুক জ্বালা করে। তাই এর সাথে গ্যাসের ওষুধ দিতে হয়। বর্তমানে অনেক ধরনের ওষুধ আছে যাদেরকে বলে কক্স-২ ইনহিবিটর। যেমন- ইটোরিকক্সিব, সেলেকক্সিব। এদের সাইড ইফেক্ট কম। এজমার রোগীদের দেওয়া যায়। ব্লিডিং টেন্ডেন্সিও কম করে। যাই হোক, এর সাথে যে মাংসপেশী নরম করার ওষুধের কথা বলছিলাম। তা হল- স্কেলেটাল মাসল রিল্যাক্সান্ট। যেমন- বেক্লোফেন বা টলপেরিসন ইত্যাদি। বাচ্চাদেরকে আইবুপ্রফেন দেওয়া হয়।

বয়স্কদের যাদের কিডনীর অবস্থা ভাল না, পাকস্থলীর অবস্থাও মোটামুটি তাদের ক্ষেত্রে নিরাপদ হল প্যারাসিটামল। অনেকেই ভুলে যান যে, প্যারাসিটামল কিন্তু একটি ব্যথার ওষুধ। সে ক্ষেত্রে দুইটা করে ট্যাবলেট দিনে চার বেলা পর্যন্ত দেওয়া যেতে পারে। এমন কি অন্যান্য ব্যথার ওষুধের সাথেও এটা দেওয়া যায়। একে বলে সিনারজিস্টিক ইফেক্ট। অর্থাৎ ব্যথার ওষুধের কার্যকারীতা বাড়িয়ে দেয়। এর সাথে  মাংশপেশী নরম করতে এবং ব্যথা কমাতে আরও কিছু ওষুধের প্রভাব আছে। যেমন- ডায়াজেপাম, এমিট্রিপ্টাইলিন। এগুলোকে বলে পেইন মোডিফাইং এজেন্ট।

হাটু ব্যথা :-

মাস্কুলো স্কেলেটাল পেইনের মধ্যে হাটু ব্যথা একটা খুবই পরিচিত সমস্যা। এর কারণ অনুসন্ধান করে চিকিৎসা দিতে হয়। তবে খুবই পরিচিত কারণ হল অস্টিওআর্থারাইটিস। এসব ক্ষেত্রে উপরোক্ত ব্যথার ওষুধের সাথে স্টেরয়েডের একটা ভূমিকা আছে। ডেফ্লাজাকর্ট, প্রেডনিসোলন ব্যবহৃত হয়। এর পাশাপাশি গ্লুকোসামাইন, ডায়াসেরিন, কন্ড্রয়টিন ব্যবহার হয়। এগুলো হাড়ের উপরের নরম হাড় (কার্টিলেজ) তৈরীতে সাহায্য করে। এছাড়াও হাটুর মধ্যে স্টেরয়েড বা হায়ালুরোনেট (হায়ালুরোনিক এসিড) জেল ইঞ্জেকশন দেওয়া হয়।

২. ভিসেরাল পেইন :-

শরীরের হাড়-মাংস বাদে ভেতরের যত অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ বিশেষ করে নরম কোষের তৈরী তাদের সবাইকেই বলে ভিসেরা। যেমন- পাকস্তলি, পেটের সমস্ত নাড়িভুঁড়ি, লিভার, পিত্ত থলি, কিডনী, প্যানক্রিয়াস, ফুসফুস, হার্ট, রক্ত নালী, মূত্রনালী, মূত্র থলি, মেয়েদের জরায়ু, অভারি, অভারিয়ান নালি ইত্যাদি। এমন কি গলার ভেতরের গলবিল, স্বরযন্ত্র ইত্যাদি।

তবে আরো সুক্ষ ভাবে ভিসেরাল পেইন বলতে বুঝায় যে সব জায়গা নালীর মত এবং ফাঁপা- সে অঙ্গগুলোর ব্যথা। যেমন- পুরো পরিপাক তন্ত্র, পিত্ত থলি, মূত্রথলি, এপেন্ডিক্স, জরায়ু, জরায়ু নালী। এই সব জায়গার ব্যথা হলে ব্যথাটা হঠাৎ করে আসে, খামচে ধরার মত ব্যথা হয় আবার কিছুক্ষন পর ছেড়ে দেয়। তারপর আবার আসে। এভাবে চলতে থাকে। এদেরকে বলে কলিকি পেইন। এটা হয় মূলত ইনফেকশন, বা আলসারের জন্য। প্রেগনেন্সির সময়ও মাঝে মাঝে এমন ব্যথা হয়ে থাকে। যাদের অভারিতে বা ফেলোপিয়ান টিউবে ইনফেকশন হয় তাদেরও এরকম ব্যথা হতে পারে।  

৩. নিউরোপ্যাথিক পেইন :-

স্নায়ু জনিত ব্যথা। বিশেষ করে ডায়াবেটিস রোগীদের পায়ে বা সারা গা হাত পায়ে জ্বালা পোড়া করে, খোচায়, ঝিন ঝিন করে। এগুলোকে বলে পেরিফেরাল নিউরোপ্যাথী। আবার যাদের লো ব্যাক পেইন বা কোমড় ব্যথা থাকে। যেমন- কোমড়ের ডিস্ক সরে যাওয়া বা প্রোলাপ্সের জন্য যে ব্যথা হয়, তা অনেক সময় উরুর এর পেছন দিয়ে নিচের দিকে নামতে থাকে। একে বলে রেডিকুলোপ্যাথী। এদের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়- প্রিগাবালিন,  গাবাপেন্টিন। এর  সাথে এমিট্রিপ্টাইলিন, ডায়াজেপাম ইত্যাদি দেওয়া হয়। তবে এর মূল চিকিৎসা ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ বা ডিস্কের সঠিক চিকিৎসা। ফিজিওথেরাপী নেওয়া।

৪. ভাস্কুলার/ইস্কেমিক পেইন- রক্তনালীর ব্লক জনিত ব্যথা বা ইনফার্কশনের ব্যথা :-

হার্ট অ্যাটাকের ব্যথা। পৃথিবীর সবচেয়ে তীব্র ব্যথা হয় এটা। এই ব্যথা কোনো ব্যথার ওষুধ দিয়ে কমতে চায় না। তবে মরফিন বা পেথিডিন দেওয়া হয়। এর মূল চিকিৎসা হল রক্তনালীর ব্লক গলানো। তাহলেই ব্যথা চলে যাবে। এর জন্য স্ট্রেপ্টোকাইনেজ বা হেপারিন ব্যবহার হয় হাসপাতালে।

পায়ের রক্তনালীর ব্লক হলে সেই ব্লক অপসারন করতে হয় অপারেশন করে। যদি অল্প মাত্রায় ব্লক হয়। যেমন- সিগারেট স্মোকারদের বা ডায়াবেটিস রোগীদের পায়ে ব্যথা হয়। এসব ক্ষেত্রে সিলোস্টাজল, প্যন্টোক্সিফাইলিন, ফলিক এসিড, ভিটামিন বি-৬, বি-১২ ইত্যাদি দেওয়া হয়। তার সাথে মাংসপেশী নরম করা ওষুধ। প্যারাসিটামল দেওয়া যেতে পারে।

এবারে একটু করে বলতে চাই। কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যথা নিয়ে।

গলা ব্যথা :-

গলা ব্যথার প্রধান কারণ টনসিলে ইনফেকশন (টনসিলাইটিস), ফ্যারিঞ্জাইটিস, ল্যারিঞ্জাইটিস ইত্যাদি। এসব ক্ষেত্রে ভাল এন্টিবায়োটিক দিয়ে ইনফেকশন কমানো হয়। এর সাথে ব্যথা কমানোর জন্য ডায়ক্লোফেনাক, এসিক্লোফেনাক, আইবুপ্রফেন বা শুধু প্যারাসিটামল দেওয়া হয়। এর সাথে গরম পানির সাথে লবন দিয়ে গরগল এবং মেন্থল ভেপার নিতে বলা হয়।

দাঁতের ব্যথা :-

দাঁতের ব্যথার জন্য ডায়ক্লোফেনাক, এসিক্লোফেনাক, আইবুপ্রফেন বা শুধু প্যারাসিটামল দেওয়া হয়। তবে বেশি ব্যথা হলে ভল্টালিন সাপোজিটরিও দেওয়া যায়।

কানের ব্যথা :-

কানের ব্যথার জন্য প্যারাসিটামল বা আইবুপ্রোফেন দেওয়া হয়। তবে এসব ক্ষেত্রে লোকাল এন্টিবায়োটিক, এন্টিফাঙ্গাল, স্টেরয়েড ড্রপ দেওয়া হয়। এবং এতেই প্রদাহ বা সংক্রমন কমে গিয়ে ব্যথা কমে যায়।

চোখের ব্যথা :-

চোখ ব্যথার বিভিন্ন কারণ আছে। চোখের বিভিন্ন স্তরে বা লেয়ারের প্রদাহ জনিত কারণে ব্যথা হয়। আবার চোখের প্রেশার বেড়ে গিয়ে ব্যথা হতে পারে। যাকে বলে গ্লুকোমা। এসব ক্ষেত্রে এসিটাযোলামাইড, ল্যাটানোপ্রোস্ট, পাইলোকার্পিন, টাইমোলোল ইত্যাদি গ্রুপের ড্রপ দেওয়া হয়। তবে অবশ্যই এগুলো একজন চক্ষু বিশেষজ্ঞের পরামর্শে নিতে হবে। না হলে চোখের দৃষ্টি চিরতরে হারাতে হতে পারে। এছাড়া কঞ্জান্টিভাইটিস, বা ব্লেফারাইটিস হলে প্যারাসিটামল বা আইবুপ্রফেনেই কাজ হয় এবং এন্টিবায়োটিক/স্টেরয়েড ড্রপ দেওয়া হয়।  

মাথা ব্যথা :-

এটা একটা বড় অধ্যায়। এর উপরই অনেক বড় আলোচনা থাকে। সংক্ষেপে বলি। মাথা ব্যথার প্রধান ৪ কারণ।

১. টেনশন টাইপ হেডেক
২. মাইগ্রেন
৩. সাইনুসাইটিস
৪. ক্লাস্টার হেডেক।

টেনশন হেডেক :-

এটা হলে প্যারাসিটামল, দুশ্চিন্তা দূর করার জন্য ক্লোনাজেপাম, ডায়াজেপাম এবং এন্টি ডিপ্রেসান্ট যেমন- এসিটালোপ্রাম, ফ্লুপেনথিক্সল, সার্টালিন ভাল কাজ করে।

মাইগ্রেন :-

এখানে নিয়ম মানাই আসল। তারপরও টলফেনামিক এসিড, প্রপ্রানোলল, পিজোটিফেন, ফ্লুনারিজিন ইত্যাদি।

সাইনুসাইটিস :-

এখানেও নিয়ম মানতে হয়। এন্টিবায়োটিক লাগতে পারে। সাথে এন্টি-হিস্টামিন দেওয়া হয়। ব্যথার জন্য প্যারাসিটামল সহ উপরোক্ত ওষুধগুলোর সাহায্য নেওয়া যেতে পারে।

এছাড়াও মানসিক কারণে শরিরের বিভিন্ন জায়গায় ব্যথা হয়। এগুলোকে বলে সাইকো-সোমাটিক পেইন। বর্তমানে এর প্রচুর রোগী আছে। যাদের শরীরের বাস্তবে কোনো রোগ ধরা পড়ে না। অথচ মানসিক কারনে এদের ব্যথাও যেতেই চায় না। যেমন: খুব পরিচিত একটা অসুখ হল গ্যাসে সমস্যা বা বদ হজম। একে বলে নন-আলসার ডিসপেপসিয়া। নামেই বলে দিচ্ছে এতে কোনো আলসার নাই। তবুও আলসারের মতই ব্যথা হয়, গ্যাসে বুক জ্বালা পোড়া করে। আরেকটা অসুখ হল আইবিএস (ইরিটেবল বাউল সিন্ড্রোম)। কোনো সমস্যা নাই অথচ মাঝে মাঝেই পেট ব্যথা করে ওঠে, ডায়রিয়া হয় ইত্যাদি। এছাড়া মাথা ব্যথা বা বুকে ব্যথা তো আছেই। এ সব ক্ষেত্রে কিছু ওষুধ এবং কাউন্সিলিং খুব ফলপ্রসু হয়।

আবার যারা দীর্ঘদিন ডিপ্রেশন/হতাশায় ভোগেন, তাদের Non-specific Bodyache বা শরীরের বিভিন্ন জায়গায় ব্যথা হয়। এর কারন খুঁজে পাওয়া যায় না। এ সবের চিকিৎসা হওয়া উচিৎ একজন সাইক্রিয়াটিস্টের অধীনে।  

আসলে সারা শরীরের বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন ব্যথা হয়। এগুলো বুঝে সঠিক রোগনির্ণয় করে চিকিৎসা নিলে তবেই স্বস্থি মেলে। কিন্তু সঠিক রোগ নির্ণয় না করে আন্দাজে ব্যথার ওষুধ খেয়ে যাওয়া উচিৎ নয়। এতে কিডনী ক্ষতিগ্রস্থ হয়। তবে কিছু কিছু ব্যথার ওষুধ মাঝে মাঝে গ্যাপ দিয়ে খাওয়া যেতে পারে। তবে তা হতে হবে রেজিস্টার্ড ডাক্তারের পরামর্শ মতে।

সকল ব্লগ পোস্ট সমূহ -

হিটস্ট্রোক হলে কী করবেন?

সিরিয়ালের জন্য যোগাযোগ করুন -

হিটস্ট্রোক হলে কী করবেন?

হিটস্ট্রোক হলে কী করবেন?

দেশব্যাপী চলমান প্রচণ্ড তাপদাহে অতিষ্ঠ জনজীবন। রেকর্ড ছোঁয়া তাপমাত্রায় রাজধানীবাসীর জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। মাত্রাতিরিক্ত গরমে হিটস্ট্রোকের আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। এমন পরিস্থিতিতে কোনো কোনো জেলায় জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের না হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

হিট স্ট্রোক কী?

গরমের সময়ের একটি মারাত্মক স্বাস্থ্যগত সমস্যার নাম হিট স্ট্রোক। চিকিৎসা শাস্ত্র অনুযায়ী, প্রচণ্ড গরম আবহাওয়ায় শরীরের তাপ নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা নষ্ট হয়ে শরীরের তাপমাত্রা ১০৫ ডিগ্রি ফারেনহাইট ছাড়িয়ে গেলে তাকে হিট স্ট্রোক বলে।

স্বাভাবিক অবস্থায় রক্ত দেহের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখে। কোনো কারণে শরীরের তাপমাত্রা বাড়তে থাকলে ত্বকের রক্তনালি প্রসারিত হয় এবং অতিরিক্ত তাপ পরিবেশে ছড়িয়ে দেয়। প্রয়োজনে ঘামের মাধ্যমেও শরীরের তাপ কমে যায়। কিন্তু প্রচণ্ড গরম ও আর্দ্র পরিবেশে বেশি সময় অবস্থান বা পরিশ্রম করলে তাপ নিয়ন্ত্রণ আর সম্ভব হয় না। এতে শরীরের তাপমাত্রা দ্রুত বিপৎসীমা ছাড়িয়ে যায় এবং হিট স্ট্রোক দেখা দেয়।

হিট স্ট্রোক কাদের বেশি হয়?

প্রচণ্ড গরমে ও আর্দ্রতায় যে কারও হিট স্ট্রোক হতে পারে। তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে হিট স্ট্রোকের সম্ভাবনা বেড়ে যায়। যেমন-

* শিশু ও বৃদ্ধদের তাপ নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা কম থাকায় হিট স্ট্রোকের সম্ভাবনা বেড়ে যায়। এ ছাড়া বয়স্ক ব্যক্তিরা যেহেতু প্রায়ই বিভিন্ন রোগে ভোগেন কিংবা নানা ওষুধ সেবন করেন, যা হিট স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ায়।

* যাঁরা দিনের বেলায় প্রচণ্ড রোদে কায়িক পরিশ্রম করেন, তাঁদের হিট স্ট্রোকের ঝুঁকি বেশি। যেমন কৃষক, শ্রমিক, রিকশাচালক।

* শরীরে পানিস্বল্পতা হলে হিট স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ে।

* কিছু কিছু ওষুধ হিট স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ায় বিশেষ করে প্রস্রাব বাড়ানোর ওষুধ, বিষণ্নতার ওষুধ, মানসিক রোগের ওষুধ ইত্যাদি

হিট স্ট্রোকের লক্ষণগুলো কী?

তাপমাত্রা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দেহে নানা রকম প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। প্রাথমিকভাবে হিট স্ট্রোকের আগে অপেক্ষাকৃত কম মারাত্মক হিট ক্র্যাম্প অথবা হিট এক্সহসশন হতে পারে। হিট ক্র্যাম্পে শরীরের মাংসপেশিতে ব্যথা হয়, শরীর দুর্বল লাগে এবং প্রচণ্ড পিপাসা পায়। এর পরের ধাপে হিট এক্সহসশনে দ্রুত শ্বাসপ্রশ্বাস, মাথাব্যথা, ঝিমঝিম করা, বমিভাব, অসংলগ্ন আচরণ ইত্যাদি দেখা দেয়। এই দুই ক্ষেত্রেই শরীরের তাপ নিয়ন্ত্রণ ঠিক থাকে এবং শরীর অত্যন্ত ঘামতে থাকে। এ অবস্থায় দ্রুত ব্যবস্থা না নেওয়া হলে হিট স্ট্রোক হতে পারে। এর লক্ষণ গুলো হলো—
* শরীরের তাপমাত্রা দ্রুত ১০৫ ডিগ্রিº ফারেনহাইট ছাড়িয়ে যায়।
* ঘাম বন্ধ হয়ে যায়।
* ত্বক শুষ্ক ও লালচে হয়ে যায়।
* নিশ্বাস দ্রুত হয়।
* নাড়ির স্পন্দন ক্ষীণ ও দ্রুত হয়।
* রক্তচাপ কমে যায়।
* খিঁচুনি, মাথা ঝিমঝিম করা, অস্বাভাবিক আচরণ, হ্যালুসিনেশন, অসংলগ্নতা ইত্যাদি।
* প্রস্রাবের পরিমাণ কমে যায়।
* রোগী শকেও চলে যায়। এমনকি অজ্ঞান হয়ে যেতে পারে।

প্রতিরোধের উপায় কী?

গরমের দিনে কিছু সতর্কতা মেনে চললে হিট স্ট্রোকের বিপদ থেকে বেঁচে থাকা যায়। এগুলো হলো—
* হালকা, ঢিলেঢালা পোশাক পরুন। কাপড় সাদা বা হালকা রঙের হতে হবে। সুতি কাপড় হলে ভালো।
* যথাসম্ভব ঘরের ভেতরে বা ছায়াযুক্ত স্থানে থাকুন।
* বাইরে যেতে হলে মাথার জন্য চওড়া কিনারাযুক্ত টুপি, ক্যাপ বা ছাতা ব্যবহার করুন।
* বাইরে যাঁরা কাজকর্মে নিয়োজিত থাকেন, তাঁরা মাথায় ছাতা বা মাথা ঢাকার জন্য কাপড়জাতীয় কিছু ব্যবহার করতে পারেন।
* প্রচুর পানি ও অন্যান্য তরল পান করুন। মনে রাখবেন, গরমে ঘামের সঙ্গে পানি ও লবণ দুই-ই বের হয়ে যায়। তাই পানির সঙ্গে সঙ্গে লবণযুক্ত পানীয় যেমন-খাবার স্যালাইন, ফলের রস, লাচ্ছি ইত্যাদিও পান করতে হবে। পানি অবশ্যই বিশুদ্ধ হতে হবে।
* তাপমাত্রা বৃদ্ধিকারী পানীয় যেমন-চা ও কফি যথাসম্ভব কম পান করা উচিত।
* রোদের মধ্যে শ্রমসাধ্য কাজ করা থেকে বিরত থাকুন। এসব কাজ সম্ভব হলে রাতে বা খুব সকালে করুন। যদি দিনে করতেই হয়, তবে কিছুক্ষণ পরপর বিশ্রাম নিতে হবে ও প্রচুর পানি ও স্যালাইন পান করতে হবে।

আক্রান্ত হলে কী করণীয়?

প্রাথমিকভাবে হিট স্ট্রোকের আগে যখন হিট ক্র্যাম্প বা হিট এক্সহসশন দেখা দেয়, তখনই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিলে হিট স্ট্রোক প্রতিরোধ সম্ভব। এ ক্ষেত্রে ব্যক্তি নিজেই যা করতে পারেন তা হলো—
* দ্রুত শীতল কোনো স্থানে চলে যান। যদি সম্ভব হয়, ফ্যান বা এসি ছেড়ে দিন।
* ভেজা কাপড় দিয়ে শরীর মুছে ফেলুন। সম্ভব হলে গোসল করুন।
* প্রচুর পানি ও খাবার স্যালাইন পান করুন। চা বা কফি পান করবেন না।

কিন্তু যদি হিট স্ট্রোক হয়েই যায়, তবে রোগীকে অবশ্যই দ্রুত হাসপাতালে নিতে হবে, ঘরে চিকিৎসা করার কোনো সুযোগ নেই। এ ক্ষেত্রে রোগীর আশপাশে যাঁরা থাকবেন তাঁদের করণীয় হলো—
* রোগীকে দ্রুত শীতল স্থানে নিয়ে যান।
* তাঁর কাপড় খুলে দিন।
* শরীর পানিতে ভিজিয়ে দিয়ে বাতাস করুন। এভাবে তাপমাত্রা কমাতে থাকুন।
* সম্ভব হলে কাঁধে, বগলে ও কুচকিতে বরফ দিন।
* রোগীর জ্ঞান থাকলে তাঁকে খাবার স্যালাইন দিন।
* দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার ব্যবস্থা করুন।
* সব সময় খেয়াল রাখবেন হিট স্ট্রোকে অজ্ঞান রোগীর শ্বাসপ্রশ্বাস এবং নাড়ি চলছে কি না। প্রয়োজন হলে কৃত্রিমভাবে নিশ্বাস ও নাড়ি চলাচলের ব্যবস্থা করতে হতে পারে।
হিট স্ট্রোকে জীবন বিপদাপন্ন হতে পারে। তাই এই গরমে যথাযথ সতর্কতা অবলম্বন করে এর থেকে বেঁচে থাকা উচিত।

সকল ব্লগ পোস্ট সমূহ -

সাজিদ এ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস

এ্যাম্বুলেন্স সেবার জন্য যোগাযোগ করুন -

সমগ্য বাংলাদেশ ব্যাপী রোগীদের সেবায় ২৪/৭ ঘন্টা নিয়োজিত।আপনার সংকটময় মূহুর্তে হ্যালো ডাক্তার জোন আছে আপনার অতি নিকটে।

এ্যাম্বুলেন্স।

টিটু এ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস।

এ্যাম্বুলেন্স সেবার জন্য যোগাযোগ করুন -

সমগ্য বাংলাদেশ ব্যাপী রোগীদের সেবায় ২৪/৭ ঘন্টা নিয়োজিত।আপনার সংকটময় মূহুর্তে হ্যালো ডাক্তার জোন আছে আপনার অতি নিকটে।

মাহিম অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস

এ্যাম্বুলেন্স সেবার জন্য যোগাযোগ করুন - কল করতে ক্লিক করুন এসি / নন এসি সার্ভিস মাহিম অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস শহীদ শাহাবুদ্দিন সড়ক, ঢাকা ...

সংগ্রাম এ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস।

এ্যাম্বুলেন্স সেবার জন্য যোগাযোগ করুন -

সমগ্য বাংলাদেশ ব্যাপী রোগীদের সেবায় ২৪/৭ ঘন্টা নিয়োজিত।আপনার সংকটময় মূহুর্তে হ্যালো ডাক্তার জোন আছে আপনার অতি নিকটে।

মাহিম অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস

এ্যাম্বুলেন্স সেবার জন্য যোগাযোগ করুন - কল করতে ক্লিক করুন এসি / নন এসি সার্ভিস মাহিম অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস শহীদ শাহাবুদ্দিন সড়ক, ঢাকা ...

এইচ.টি এ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস।

এ্যাম্বুলেন্স সেবার জন্য যোগাযোগ করুন -

সমগ্য বাংলাদেশ ব্যাপী রোগীদের সেবায় ২৪/৭ ঘন্টা নিয়োজিত।আপনার সংকটময় মূহুর্তে হ্যালো ডাক্তার জোন আছে আপনার অতি নিকটে।

মাহিম অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস

এ্যাম্বুলেন্স সেবার জন্য যোগাযোগ করুন - কল করতে ক্লিক করুন এসি / নন এসি সার্ভিস মাহিম অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস শহীদ শাহাবুদ্দিন সড়ক, ঢাকা ...

সুমন এ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস।

এ্যাম্বুলেন্স সেবার জন্য যোগাযোগ করুন -

সমগ্য বাংলাদেশ ব্যাপী রোগীদের সেবায় ২৪/৭ ঘন্টা নিয়োজিত।আপনার সংকটময় মূহুর্তে হ্যালো ডাক্তার জোন আছে আপনার অতি নিকটে।

মাহিম অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস

এ্যাম্বুলেন্স সেবার জন্য যোগাযোগ করুন - কল করতে ক্লিক করুন এসি / নন এসি সার্ভিস মাহিম অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস শহীদ শাহাবুদ্দিন সড়ক, ঢাকা ...