গনোরিয়াঃ একটি রোগের নাম। যা সাধারণত নারী-পুরুষ উভয়ের হতে পারে। এটি কষ্টদায়ক যৌন সংক্রামক রোগ। গনোরিয়া হচ্ছে, একটি যৌনবাহিত রোগ। পুরুষের ক্ষেত্রে এই রোগে প্রস্রাবের সময় জ্বালাপোড়া ও মূত্রনালি দিয়ে পুজ বের হয়।
পুরুষের যৌনাঙ্গ দিয়ে পুঁজ বের হওয়া, প্রস্রাবে জ্বালাপোড়া এ রোগের উপসর্গ। প্রকৃতপক্ষে এটি একটি ব্যাকটেরিয়া ঘটিত জীবাণুবাহিত রোগ। এটা পুরুষাঙ্গ, সারভিক্স বা জরায়ুর ছিদ্র, রেকটাম মলাশয় বা পায়ু, গলা ও চোখকে আক্রান্ত করতে পারে। এই ইনফেকশনজনিত কারণে বন্ধ্যাত্বও দেখা দিতে পারে।
সাধারণত নারীদের চেয়ে পুরুষরাই এই যৌনরোগে বেশি আক্রান্ত হয়। শুধু নারী ও পুরুষের মেলামেশার কারণেই এ রোগ ছড়ায়।
এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার হার ক্রমশ বাড়ছে। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশনের (সিডিসি) উপাত্তে দেখা যায়, ২০১৬ থেকে ২০১৭ সালে পুরুষদের মধ্যে গনোরিয়ার হার দ্বিগুণ হয়েছে।
গনোরিয়া রোগের উপসর্গ.
গনোরিয়ায় আক্রান্ত হলে পুরুষের বিভিন্ন গ্রন্থি যেমন প্রোস্টেট গ্রন্থি, শুক্রনালি, এপিডিডাইমিসে তীব্র প্রদাহের সৃষ্টি করে। আক্রান্ত ব্যক্তির পুরুষাঙ্গের সম্মুখভাগে পুঁজজাতীয় পদার্থ লেগে থাকতে দেখা যায় ও হালকা ব্যথা অনুভূত হতে পারে। কিছুদিন পর রোগের উপসর্গ কিছুটা কমে যায়। তবে এর মানে এই নয় যে রোগটি সেরে গেছে। এর মধ্য দিয়ে দীর্ঘমেয়াদি জটিলতা দেখা দিতে পারে। আর দীর্ঘমেয়াদি জটিলতায় শুক্রনালি বন্ধ হয়ে যেতে পারে, উপ-শুক্রাশয় (এপিডিডাইমিস) নষ্ট হয়ে যেতে পারে। ফলে আক্রান্ত ব্যক্তির পিতা হওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ হয়ে যায়।
নারীর উপসর্গ.
নারীদের ক্ষেত্রে যোনিপথের গ্রন্থি, বিশেষ করে জরায়ুমুখের গ্রন্থিগুলো এ জীবাণুতে আক্রান্ত হয়। পরে এ জীবাণু ডিম্বনালিকে আক্রমণ করে। একসময় যোনিপথ ও মূত্রপথ—উভয়ই আক্রান্ত হয় এবং পুঁজ বের হতে দেখা যায়। প্রস্রাবে তীব্র ব্যথা, জ্বালাপোড়া শুরু হয়। আবার ডিম্বনালি দিয়ে জীবাণু দেহের গভীরে প্রবেশ করতে পারে।
দীর্ঘদিন আক্রান্ত থাকলে ডিম্বনালি বন্ধ হয়ে যেতে পারে। ফলে সন্তান ধারণক্ষমতা হারাতে পারেন ওই নারী। আবার আক্রান্ত নারী কোনো সন্তান প্রসব করলে ওই সন্তানের চোখ এ জীবাণুতে আক্রান্ত হতে পারে।
গনোরিয়া রোগের কারণ.
এ রোগে অল্প বয়সের মেয়ে এবং শিশুরা ও আক্রান্ত হতে পারে। বাচ্চারা সংক্রমিত বিছানার চাদর, তোয়ালে থেকে রোগটি অর্জন করতে পারে। ঘনবসতি এবং অপরিচ্ছন্নতা থেকেও বাচ্চাদের সংক্রমিত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। তবে সন্তান ভূমিষ্ট হওয়ার পর ও আক্রান্ত মাতৃদেহ হতে সংক্রমিত হতে পারে। যৌন মিলনের সময় আক্রান্ত দেহের বহিযৌনাঙ্গ, মুখ ও পায়ু থেকে সংক্রমণ ঘটে।
ডিসচার্জ.
এই রোগের ইনফেকশনের সর্বাধিক কমন লক্ষণ হচ্ছে ডিসচার্জ। ডিসচার্জ পাতলা হতে পারে অথবা ঘন হতে পারে, এটি পুরুষভেদে নির্ভর করে। সিডিসি অনুসারে, কোনো পুরুষ ইনফেক্টেড হওয়ার দুই সপ্তাহের মধ্যে তার ডিসচার্জের অভিজ্ঞতা হবে। ডিসচার্জের বর্ণ কিংবা পরিমাণ যাই হোক না কেন কিংবা ডিসচার্জ প্রতিনিয়ত হোক বা অনিয়মিত হোক, কোনো ডিসচার্জই স্বাভাবিক নয়। যেকোনো ধরনের ডিসচার্জ হলে আপনার চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া উচিত।
নিতম্বে চুলকানি.
মায়ো ক্লিনিক অনুসারে, গনোরিয়া মলদ্বারকেও আক্রমণ করতে পারে, যার ফলে মলদ্বারীয় চুলকানি ও ডিসচার্জ বা রক্তপাত হতে পারে। এছাড়া ডায়রিয়া হতে পারে এবং প্রাকৃতিক কর্ম সারার সময় ব্যথা অনুভব হতে পারে।
গলা ব্যথা.
ওরাল সেক্স থেকেও গনোরিয়া হতে পারে। গলায় গনোরিয়া ডেভেলপ হওয়া অনেক লোকের উপসর্গ দেখা দেয় না। কারো কারো গলাব্যথা হতে পারে এবং লসিকাগ্রন্থি ফুলে যেতে পারে।
ব্যথা বা ফোলা.
গনোরিয়া ইনফেকশন পার্শ্ববর্তী স্থানে, যেমন- অণ্ডথলি ও অণ্ডকোষ, ছড়ানো শুরু করলে এপিডিডাইমিসে প্রদাহ হতে পারে, যার সঙ্গে থাকতে পারে কুঁচকি ব্যথা।
গর্ভাবস্থায় গনোরিয়া রোগ .
গনোরিয়ার জীবাণু গর্ভবতী নারীদের জননতন্ত্রের মধ্যে বিচরণ করে ডিম্ববাহী নালিতে প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি করতে পারে। এ কারণে নারীর বন্ধ্যাত্ব ঘটতে পারে বা জরায়ুর বাইরে গর্ভধারণ হতে পারে। গর্ভাবস্থায় নারীরা গনোরিয়ায় আক্রান্ত হলে শিশু জন্মের সময়ে মায়ের যোনি থেকে তার চোখে সংক্রমণ হতে পারে। শিশুকে চিকিৎসা না করলে তার চোখে প্রদাহ হবে এবং সে অন্ধ হয়ে যেতে পারে।
গনোরিয়া রোগ নির্ণয় ও পরীক্ষা.
এক্ষেত্রে রোগীর বিস্তারিত ইতিহাস শুনতে হবে। তারপর পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে হবে। যদি স্বল্পস্থায়ী আক্রমণ হয়ে থাকে তাহলে পুরুষের ক্ষেত্রে প্রস্রাবের রাস্তা থেকে নিঃসরিত পদার্থ এবং নারীদের মূত্রনালি ও জরায়ু নিঃসরিত পদার্থ পরীক্ষা করতে হবে। দীর্ঘমেয়াদি হলে প্রস্টেটগ্রন্থি ম্যাসাজের পর নিঃসরিত পদার্থ পরীক্ষা করতে হবে। এছাড়াও কালচার ও সেনসিটিভিটি পরীক্ষা করতে হবে।
গনোরিয়া রোগ থেকে মুক্তির উপায়/চিকিৎসা.
সাধারণত পেনিসিলিন ব্যবহারে সংক্রমণ সেরে যায়। পেনিসিলিন রেজিস্টেন্ট ব্যক্তিকে সেনসিটিভ ওষুধে চিকিৎসা দেয়া যেতে পারে। জটিলতাহীন গনোরিয়ার ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত একক মাত্রায় উপযুক্ত জীবাণুবিরোধী বা অ্যান্ট্রিমাইক্রোবিয়াল ওষুধ বেশ ভালো কাজ দেয়। এছাড়া অবস্থা জটিল হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে কাজ করাই উত্তম।
আমাকে গনোরিয়ার জন্য জিমেক্স এক সাথে ২ টা করে খেতে বলছে এতে কি কোন সমস্যা হবে?
চিকিৎসকের পরামর্শ ঔষধ সেবন কারই উত্তম।