অ্যালার্জির হওয়ার কারণ ও প্রতিরোধ।

সিরিয়ালের জন্য যোগাযোগ করুন -

অ্যালার্জির হওয়ার কারণ ও প্রতিরোধ।

হাঁচি থেকে শুরু করে খাবার ও ওষুধের প্রতিক্রিয়াতে এই রোগ হতে পারে। কারও ক্ষেত্রে অ্যালার্জি সামান্য অসুবিধা করে। আবার কারও ক্ষেত্রে জীবনকে দুর্বিষহ করে তোলে।

ঘরের ধুলাবালি পরিষ্কার করছেন। দেখা গেল হঠাৎ করে হাঁচি এবং পরে শ্বাসকষ্ট হচ্ছে। অথবা ফুলের গন্ধ নিচ্ছেন বা গরুর মাংস, চিংড়ি, ইলিশ বা গরুর দুধ খেলেই শুরু হল শরীর চুলকানি আর চামড়ায় লাল লাল চাকা হয়ে ফুলে ওঠা।

এলার্জি খুব কমন একটা সমস্যা। শিশুদের এলার্জি হওয়ার প্রবণতা বেশি থাকে। তবে বয়স বাড়ার সাথে সাথে লক্ষণগুলো কমে যেতে পারে। আবার অনেকের ছোটোবেলায় এলার্জির সমস্যা না থাকলেও, পরবর্তীতে নতুন করে এলার্জি দেখা দিতে পারে। কিছু বিধিনিষেধ মেনে চললে এলার্জি অনেকাংশেই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।

অ্যালার্জি কী?

20240226_235817

আমাদের শরীর সব সময়ই ক্ষতিকর বস্তুকে (পরজীবী, ছত্রাক, ভাইরাস, এবং ব্যাকটেরিয়া) প্রতিরোধের মাধ্যমে রোগ প্রতিরোধের চেষ্টা করে। কখনও কখনও আমাদের শরীর সাধারণত ক্ষতিকর নয় এমন অনেক ধরনের বস্তুকেও ক্ষতিকর ভেবে প্রতিরোধের চেষ্টা করে। সাধারণত ক্ষতিকর নয় এমন সব বস্তুর প্রতি শরীরের এ অস্বাভাবিক প্রতিক্রিয়াকে অ্যালার্জি বলা হয়।

সাধারণত যেসব জিনিসের সংস্পর্শে আসলে শরীরে এলার্জি দেখা দেয় তার মধ্যে রয়েছে—

  • নির্দিষ্ট কিছু খাবার
  • ধুলাবালি
  • গরম অথবা ঠান্ডা আবহাওয়া
  • ঘাম
  • গৃহপালিত পশু-পাখি
  • পরাগ রেণু ও ফুলের রেণু
  • সূর্যরশ্মি
  • ডাস্ট মাইট
  • মোল্ড বা ছত্রাক
  • বিভিন্ন ঔষধ
  • কীটনাশক
  • ডিটার্জেন্ট ও বিভিন্ন রাসায়নিক পদার্থ
  • ল্যাটেক্স বা বিশেষ ধরনের রাবারের তৈরি গ্লাভস ও কনডম
  • স্ট্রেস বা মানসিক চাপ

এলার্জি জাতীয় খাবারের তালিকাঃ

সচরাচর যেসব খাবারে এলার্জি হতে দেখা যায় তার মধ্যে রয়েছে—

  • চিংড়ি
  • বেগুন
  • ইলিশ মাছ
  • গরুর মাংস
  • বাদাম

এ ছাড়া শিশুদের ক্ষেত্রে ডিম ও দুধেও এলার্জি হতে পারে।

একেকজন মানুষের একেক ধরনের জিনিস অথবা খাবারে এলার্জি থাকতে পারে। তাই কোন ধরনের জিনিসের সংস্পর্শে আসলে অথবা খাবার খেলে এলার্জির লক্ষণ দেখা দিচ্ছে সেই বিষয়ে লক্ষ রাখা প্রয়োজন। এটি খুঁজে বের করতে পারলে এলার্জি নিয়ন্ত্রণে রাখা অনেক সহজ হয়ে যায়।

এলার্জির লক্ষণসমূহ

20240226_222554

শরীর এলার্জিক উপাদানের সংস্পর্শে আসার পর খুব কম সময়ের মধ্যে এর প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। এলার্জির লক্ষণগুলো হলো—

  • চামড়ায় চুলকানি, র‍্যাশ বা ফুসকুড়ি হওয়া
  • শরীরের কিছু অংশ চাকা চাকা হয়ে যাওয়া বা ফুলে যাওয়া, ফোস্কা পড়া ও চামড়া ঝরে যাওয়া
  • ঠোঁট, জিহ্বা, চোখ ও মুখ ফুলে যাওয়া
  • চোখে চুলকানি, চোখ থেকে পানি পড়া, লাল হওয়া ও ফুলে যাওয়া
  • শুকনো কাশি, হাঁচি, নাকে ও গলায় চুলকানি ও নাক বন্ধ হওয়া
  • শ্বাসকষ্ট, বুকে চাপ চাপ লাগা ও শ্বাস নেওয়ার সময়ে শোঁ শোঁ শব্দ হওয়া

বমি বমি ভাব, বমি, পেট ব্যথা, পেট কামড়ানো ও ডায়রিয়া

মারাত্মক এলার্জিক প্রতিক্রিয়া

এলার্জিক উপাদানের প্রতি তীব্র প্রতিক্রিয়া থেকে খুব অল্প কিছু ক্ষেত্রে অ্যানাফিল্যাক্সিস নামক একটি জরুরি অবস্থা তৈরি হতে পারে। এ অবস্থায় দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে রোগীর মৃত্যু হতে পারে। এমন রোগীকে যত দ্রুত সম্ভব নিকটস্থ হাসপাতালে নিতে হবে। সময়মতো একটি ইনজেকশন দিলেই রোগীর জীবন বাঁচানো সম্ভব।

অ্যানাফিল্যাক্সিস হচ্ছে কি না যেভাবে বুঝবেন—

  • শ্বাসকষ্ট অথবা শ্বাস নেওয়ার সময়ে শোঁ শোঁ শব্দ হওয়া
  • বুক-গলা আঁটসাঁট হয়ে আসছে বা আটকে আসছে বলে মনে হওয়া
  • মুখ, ঠোঁট, জিহ্বা অথবা গলা ফুলে যাওয়া
  • ঠোঁট ও ত্বক নীল হয়ে যাওয়া
  • জ্ঞান হারানোর মতো অনুভূতি হওয়া অথবা পুরোপুরি অজ্ঞান হয়ে যাওয়া
  • বিভ্রান্তি ও দুশ্চিন্তা
  • মাথা ঘুরানো অথবা ভারসাম্য হারিয়ে ফেলা
  • বুক ধড়ফড় করা কিংবা শরীর ঘামে ভিজে যাওয়া
  • চামড়ায় চুলকানিসহ লাল লাল ফুসকুড়ি বা র‍্যাশ হওয়া অথবা চামড়া ফুলে ওঠা
  • শরীরের কিছু জায়গা থেকে চামড়া উঠে আসা কিংবা ফোস্কা পড়া

এলার্জি আছে এমন খাবার ও ঔষধ, ডাক্তারি পরীক্ষা-নিরীক্ষায় ব্যবহৃত কন্ট্রাস্ট বা ডাই অথবা পোকামাকড়ের কামড় থেকে অ্যানাফিল্যাক্সিস হতে পারে।

 

যখন ডাক্তারের কাছে যেতে হবে

নিচের তিনটি ক্ষেত্রে ডাক্তারের কাছে যাওয়া গুরুত্বপূর্ণ—

  • ঔষধ খাওয়ার পরেও লক্ষণ দূর না হলে
  • ডাক্তারের দেওয়া ঔষধ খাওয়ার পর নতুন লক্ষণ দেখা দিলে কিংবা সমস্যা আরও বেড়ে গেলে
  • মারাত্মক এলার্জিক প্রতিক্রিয়া দেখা দিলে

 

এলার্জির চিকিৎসা

20240226_222416(1)

খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাত্রায় কিছু বিধিনিষেধ মেনে চললে এলার্জি অনেকাংশেই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।

ওষুধ প্রয়োগ: অ্যালার্জি ভেদে ওষুধ প্রয়োগ করা যেতে পারে।

ঘরোয়া প্রতিকার ও জীবনযাত্রা

যেসব খাবার ও ঔষধে এলার্জি হয় সেগুলো এড়িয়ে চলবেন। হাঁপানি অথবা শ্বাসনালীর অন্য কোনো রোগ থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চলবেন। স্ট্রেস বা মানসিক চাপ মোকাবেলায় শারীরিক ব্যায়াম, যোগব্যায়াম ও শ্বাসের ব্যায়াম করা যেতে পারে।

এলার্জি প্রতিরোধ

এলার্জি থেকে মুক্ত থাকার সবচেয়ে ভালো উপায় হলো যেসব বস্তুতে এলার্জি রয়েছে সেগুলো এড়িয়ে চলা। এলার্জি প্রতিরোধে নিচের পরামর্শগুলো মেনে চলুন—

  • এলার্জি ঘটায় এমন খাবারগুলো এড়িয়ে চলুন। 
  • গৃহপালিত পশু-পাখির বাসস্থান বাড়ির বাইরে তৈরি করুন এবং তাদের নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখুন।
  • ডাস্ট মাইট নামক এক প্রকার অতিক্ষুদ্র পোকা থেকে এলার্জি প্রতিরোধ করতে বাড়ির যে জায়গাগুলোতে বেশি সময় কাটানো হয় সেগুলো ধুলামুক্ত ও পরিষ্কার রাখুন। বিছানার চাদর, কাঁথা, বালিশ ও লেপের কভার, জানালার পর্দা—এগুলো সপ্তাহে অন্তত একবার গরম পানি দিয়ে ধুয়ে নিন। যেসব জিনিস নিয়মিত ধোয়া যায় না সেগুলো বাসায় যত কম ব্যবহার করা যায়, ততই ভালো। যেমন: কার্পেট।

এ ছাড়া বিছানা গোছানো ও ঝাড়া-মোছা করার সময়ে ভালো একটা মাস্ক পড়ুন। যেসব জিনিস ভেজা কাপড় দিয়ে মোছা যায় সেগুলো ভেজা কাপড় দিয়ে মুছুন। এতে ধুলা ছড়াবে না।



প্রেগন্যান্সি টেস্ট করার সঠিক সময় ও নিয়ম

সিরিয়ালের জন্য যোগাযোগ করুন -

প্রেগন্যান্সি টেস্ট করার সঠিক সময় ও নিয়ম

প্রেগন্যান্সি টেস্ট করার সঠিক সময় ও নিয়ম

গর্ভবতী হওয়ার সবচেয়ে সাধারণ লক্ষণ হলো পিরিয়ড মিস হওয়া। কিন্তু কোনো নারীর পিরিয়ড মিস হয়েছে মানেই যে সে গর্ভধারণ করেছে, এমনটা ধরে নেওয়া যাবে না। আরও অনেক কারণেই পিরিয়ড মিস হতে পারে।  এই অবস্থায় আপনি গর্ভধারণ করেছেন কি না সেটি জানার সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য উপায় হলো কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা। এসব পরীক্ষাকে ‘প্রেগন্যান্সি টেস্ট’ বলা হয়।

আপনি ডাক্তার অথবা স্বাস্থ্যকর্মীর কোনো রকম সাহায্য ছাড়া ঘরে বসেই প্রেগন্যান্সি টেস্ট করতে পারবেন। যত তাড়াতাড়ি গর্ভধারণের ব্যাপারে নিশ্চিত হতে পারবেন, তত দ্রুত আপনার ও গর্ভের শিশুর জন্য প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনাগুলো মেনে চলা শুরু করতে পারবেন।

প্রেগন্যান্সি টেস্ট কতদিন পর করতে হয়?

মাসিকের সম্ভাব্য সময়ের মধ্যে মাসিক শুরু না হলে এবং সম্প্রতি আপনি জন্মনিরোধক পদ্ধতি (যেমন: কনডম, পিল বা বড়ি ও ইনজেকশন) ব্যবহার ছাড়া সহবাস করে থাকলে, প্রেগন্যান্সি টেস্ট করতে পারেন। মাসিক মিস হওয়ার প্রথম দিনই আপনি প্রেগন্যান্সি টেস্ট করে গর্ভবতী কি না সেটি জেনে নিতে পারেন।

প্রেগন্যান্সি টেস্টে সাধারণত গর্ভবতী নারীদের প্রস্রাবে একটি হরমোনের উপস্থিতি নির্ণয় করা হয়। গর্ভবতী নারীদের প্রস্রাবে এই হরমোনের পরিমাণ শুরুর দিকে অল্প পরিমাণে থাকে। তাই গর্ভধারণের একদম শুরুর দিকে অথবা সহবাসের পর পরই এই টেস্ট করলে সাধারণত হরমোনের উপস্থিতি সঠিকভাবে নির্ণয় করা সম্ভব হয় না।

এজন্য সহবাসের পর কমপক্ষে ২১ দিন অথবা পরবর্তী মাসিকের সম্ভাব্য তারিখ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়।

বর্তমানে কিছু আধুনিক প্রেগন্যান্সি টেস্টের মাধ্যমে পিরিয়ডের সম্ভাব্য তারিখ আসার অনেক আগে, এমনকি গর্ভধারণের নয় দিনের মধ্যেই আপনি গর্ভধারণ করেছেন কি না সেটি নিশ্চিতভাবে জানা যায়।

কীভাবে প্রেগন্যান্সি টেস্ট করবেন?

প্রেগন্যান্সি টেস্ট করার অনেকগুলো উপায় আছে। এর মধ্যে প্রেগন্যান্সি টেস্ট কিট বা কাঠি দিয়ে আপনি সবচেয়ে সহজ ও কম খরচে ঘরে বসেই টেস্ট করতে পারবেন।

সাধারণত নির্দিষ্ট সময়ে পিরিয়ড না হলে প্রথমেই প্রেগন্যান্সি কিটের সাহায্যে টেস্ট করা হয়ে থাকে। ফার্মেসিতে ৩০–১০০ টাকার মধ্যে বিভিন্ন কোম্পানির প্রেগন্যান্সি টেস্ট কিট পাওয়া যায়।

এ ছাড়াও ডাক্তারের কাছে গিয়ে রক্ত পরীক্ষা, প্রস্রাব পরীক্ষা ও আলট্রাসাউন্ড পরীক্ষার মাধ্যমে আপনি গর্ভবতী কি না সেই বিষয়ে পুরোপুরি নিশ্চিত হতে পারবেন। পাশাপাশি গর্ভের সন্তানের হৃৎপিণ্ডের কার্যক্রমও হয়তো শনাক্ত করা যেতে পারে।

প্রেগন্যান্সি টেস্ট কিট কী?

কোন নারী গর্ভবতী হলে তা ঘরে বসেই পরীক্ষার মাধ্যমে জানা সম্ভব। যে কিটের মাধ্যমে এই পরীক্ষা করা হয় তার নাম প্রেগন্যান্সি কিট। এটি ওষুধের দোকানে কিনতে পাওয়া যায়।

প্রেগন্যান্সি টেস্ট কিট ব্যবহারের নিয়ম

প্রস্তুতকারকভেদে প্রেগন্যান্সি টেস্ট কিটের ব্যবহারবিধি কিছুটা ভিন্ন হতে পারে। কিটের প্যাকেটের ভেতরের নির্দেশিকায় কীভাবে প্রেগন্যান্সি টেস্ট করতে হবে সেটি বিস্তারিতভাবে লেখা থাকে। নির্দেশিকা অনুসরণ করে আপনি সহজেই ঘরে বসে প্রেগন্যান্সি টেস্ট করে ফেলতে পারবেন।

সচরাচর যেসব প্রেগন্যান্সি টেস্ট কিট পাওয়া যায়, সেগুলোর প্যাকেটের ভেতরে একটি লম্বা কাঠি বা বক্স থাকে। তাতে একটি ‘S’ লেখা ঘর থাকে। এ ঘরে আপনাকে কয়েক ফোঁটা প্রস্রাব দিয়ে কয়েক মিনিট অপেক্ষা করতে হবে। তারপর বক্সের ‘C’ ও ‘T’ লেখা অন্য দুইটি ঘরের দিকে লক্ষ রাখতে হবে।

শুধু ‘C’ ঘরে একটি দাগ দেখা গেলে পরীক্ষার ফলাফল নেগেটিভ, অর্থাৎ আপনি হয়তো গর্ভবতী না। আর ‘C’ ও ‘T’ দুইটি ঘরেই দাগ দেখা গেলে ফলাফল পজিটিভ, অর্থাৎ আপনি গর্ভবতী।

শুধুমাত্র সকালে ঘুম থেকে ওঠার পরেই এ টেস্ট করতে হবে এমন কোনো নিয়ম নেই। আপনি দিনের যেকোনো সময়েই এই পরীক্ষাটি করতে পারেন। প্রয়োজনে একাধিকবার টেস্ট করতে পারেন।শুধুমাত্র সকালে ঘুম থেকে ওঠার পরেই এ টেস্ট করতে হবে এমন কোনো নিয়ম নেই। আপনি দিনের যেকোনো সময়েই এই পরীক্ষাটি করতে পারেন। প্রয়োজনে একাধিকবার টেস্ট করতে পারেন।

প্রেগন্যান্সি টেস্ট কিট কীভাবে কাজ করে?

প্রেগন্যান্সি টেস্ট কিটের মাধ্যমে প্রস্রাবে ‘বেটা হিউম্যান কোরিওনিক গোনাডোট্রপিন’ নামের একটি বিশেষ হরমোনের উপস্থিতি নির্ণয় করা হয়। গর্ভবতী নারীদের প্রস্রাবে এই হরমোনের পরিমাণ অনেক বেশি থাকে। যা কিটের মাধ্যমে শনাক্ত করা যায়।

টেস্ট কিট দিয়ে প্রস্রাবে এই হরমোনের উপস্থিতি শনাক্ত করা গেলে সেই ফলাফলকে ‘পজিটিভ’ বলে। আর শনাক্ত করার মতো যথেষ্ট পরিমাণ হরমোন না পাওয়া গেলে তাকে ‘নেগেটিভ’ বলে। ফলাফল পজিটিভ আসলে তা বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই নির্ভুল হয়ে থাকে। তাই ফলাফল পজিটিভ আসলে একজন গাইনী ডাক্তার অথবা হাসপাতালে গিয়ে গর্ভাবস্থায় করণীয় সম্পর্কে জেনে নিতে হবে।

জেনে রাখা ভালো

প্রেগন্যান্সি টেস্টের ফলাফল পজিটিভ হওয়ার পরেও আপনি চিকিৎসকের কাছে যেয়ে আরও কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে পুরোপুরি নিশ্চিত হয়ে নেবেন। পুরোপুরি নিশ্চিত হওয়ার জন্য আরও যেসব পরীক্ষা করা হয়—

  • আল্ট্রাসনোগ্রাফি করা হয়
  • ফিতা দিয়ে জরায়ুর আকার মাপা হয়
  • রক্ত পরীক্ষা করা হয়
  • ডপলার আল্ট্রাসনোগ্রাফির মাধ্যমে আপনার গর্ভের শিশুর হার্টের কার্যকলাপ নির্ণয় করা হয়
 

প্রেগন্যান্সি টেস্ট কিটের ফলাফল কতটা সঠিক?

সাধারণত সঠিক নিয়মে পরীক্ষা করলে প্রেগন্যান্সি টেস্ট কিট বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সঠিক তথ্য দেয়। তবে প্রেগন্যান্সি টেস্ট কিটের ফলাফল হিসাবের সময়ে নিচের বিষয়গুলো মাথায় রাখা জরুরি—

  • গর্ভধারণের ছয় দিন পর থেকেই শরীরে ‘বেটা হিউম্যান কোরিওনিক গোনাডোট্রপিন’ নামের বিশেষ হরমোন তৈরি হতে শুরু করে। তবে অনেক ক্ষেত্রে আট-দশ দিন সময়ও লাগতে পারে। গর্ভাবস্থার শুরুর দিকে শরীরে এই হরমোনের পরিমাণ তুলনামূলক কম থাকে। ধীরে ধীরে এই হরমোনের পরিমাণ বাড়তে থাকে। তাই অনেকক্ষেত্রেই গর্ভাবস্থার একেবারে শুরুর দিকে কিট দিয়ে পরীক্ষা করলে গর্ভবতী নারীদের ক্ষেত্রেও ফলাফল নেগেটিভ আসতে পারে।
  • অনেকেই অনিয়মিত মাসিকের সমস্যায় ভোগেন। ফলে তারা মাসিকের সম্ভাব্য তারিখ ঠিকমতো হিসাব করতে পারেন না। সেক্ষেত্রে অনেকেই পর্যাপ্ত পরিমাণ হরমোন তৈরি হওয়ার আগেই টেস্ট করে ফেলতে পারেন। এমন হলেও গর্ভবতী নারীদের ক্ষেত্রেও টেস্টের ফলাফল নেগেটিভ আসতে পারে।
  • এ ছাড়াও প্যাকেটের নির্দেশনা ঠিকমতো না মেনে পরীক্ষা করলে গর্ভবতী হলেও ভুলবশত কিট টেস্টের ফলাফল নেগেটিভ আসতে পারে।

তাই টেস্টের ফলাফল নেগেটিভ আসার পরেও আপনার পিরিয়ড না হলে অথবা আপনার নিজেকে গর্ভবতী মনে হলে কয়েকদিন পর আবার প্রেগন্যান্সি টেস্ট করতে পারেন।

দ্বিতীয়বার টেস্টের ফলাফল নেগেটিভ আসার পরেও যদি আপনার পিরিয়ড না হয় তাহলে দ্রুত কোনো গাইনী ডাক্তার অথবা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কিংবা সদর হাসপাতালে যেতে হবে। সেখানে আরও কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে আপনি গর্ভবতী কি না সেই বিষয়ে নিশ্চিত হতে পারবেন।

সাধারণ জিজ্ঞাসা

প্রেগন্যান্সি টেস্ট করার সঠিক সময় ও নিয়ম যত তাড়াতাড়ি গর্ভধারণের ব্যাপারে নিশ্চিত হতে পারবেন, তত দ্রুত আপনার ও গর্ভের শিশুর জন্য প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনাগুলো মেনে চলা শুরু করতে পারবেন।

মিলনের কত দিন পর প্রেগন্যান্সি টেস্ট করতে হয়?

সহবাসের কমপক্ষে ২১ দিন পরে আপনি প্রেগন্যান্সি টেস্ট করতে পারেন। প্রেগন্যান্সি টেস্টে সাধারণত গর্ভবতী নারীদের প্রস্রাবে একটি হরমোনের উপস্থিতি নির্ণয় করা হয়। গর্ভবতী নারীদের প্রস্রাবে এই হরমোনের পরিমাণ শুরুর দিকে অল্প পরিমাণে থাকে। তাই গর্ভধারণের একদম শুরুর দিকে অথবা সহবাসের পর পরই এই টেস্ট করলে সাধারণত সেই হরমোনের উপস্থিতি নির্ণয় করা সম্ভব হয় না। এজন্য সহবাসের পর কমপক্ষে ২১ দিন অথবা পরবর্তী মাসিকের সম্ভাব্য তারিখ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়।

লবণ দিয়ে প্রেগনেন্সি টেস্ট কীভাবে করে?

লবণ দিয়ে প্রেগন্যান্সি টেস্ট করা যায়—এটি একটি সম্পূর্ণ ভুল ধারণা। এখন পর্যন্ত কোনো গবেষণায় প্রমাণিত হয়নি যে, লবণ অথবা টুথপেস্ট গর্ভবতী নারীর প্রস্রাবের ‘বেটা হিউম্যান কোরিওনিক গোনাডোট্রপিন’ হরমোনের উপস্থিতি নির্ণয় করতে পারে। 

প্রেগন্যান্সি টেস্ট কিটের দাম খুব বেশি না। যেকোনো ঔষধের দোকানেই আপনি টেস্ট কিট খুঁজে পাবেন। তাই আপনি গর্ভবতী কি না তা জানতে লবণ দিয়ে অথবা অন্য কোনো অবৈজ্ঞানিক উপায়ে গর্ভধারণের পরীক্ষা না করে, প্রেগন্যান্সি টেস্ট কিট কিনে পরীক্ষা করুন।

প্রেগন্যান্সি টেস্ট কি শুধু সকালবেলায় করা যায়?   

প্রেগন্যান্সি টেস্ট শুধু সকালবেলায় করতে হয়—এটি সঠিক নয়। আপনি দিনের যেকোনো সময়েই প্রেগন্যান্সি টেস্ট করতে পারেন। তবে সকালে ঘুম থেকে ওঠার পরে প্রস্রাব করার সময়েই প্রেগন্যান্সি টেস্ট করে ফেলা ভালো। কারণ এই সময়ে প্রস্রাবে হরমোনের ঘনত্ব সবচেয়ে বেশি থাকে। ফলে আপনি গর্ভবতী হয়ে থাকলে সঠিক ফলাফল পাওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়।

তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সারাদিনের যেকোনো সময়েই এই টেস্ট সঠিক ফলাফল দিয়ে থাকে।

মাসিক মিস হওয়ার কত দিন পর প্রেগন্যান্ট বোঝা যায়?

মাসিক মিস হওয়ার প্রথম দিনই আপনি প্রেগন্যান্সি টেস্ট করতে পারেন। সাধারণত মাসিক মিস হওয়ার প্রথম দিনেই আপনি গর্ভবতী কি না তা জানা যায়। তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে আপনার প্রস্রাবে হরমোনের পরিমাণ কম থাকতে পারে। এমনটা হলে আপনি গর্ভবতী হলেও টেস্টের ফলাফল নেগেটিভ আসতে পারে। তাই মাসিক মিস হওয়ার প্রথম দিন টেস্ট করার পর ফলাফল নেগেটিভ আসলে আপনি কয়েকদিন পর আবার টেস্ট করতে পারেন।

20240226_220128

শেষ কথা?

কিট দিয়ে রিপোর্ট পজিটিভ আসার পর চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করুন। তিনি কিছুদিন পর রক্তের কিছু সাধারণ পরীক্ষা আর আল্ট্রাসনোগ্রাম করতে পরামর্শ দেবেন। সন্দেহ হলে ল্যাবরেটরিতে গিয়ে আবার প্রস্রাব পরীক্ষা করে নিতে পারেন।

সকল ব্লগ পোস্ট সমূহ -

অস্টিওপরোসিস কী? হাড় ক্ষয় কেন হয়, সেরে ওঠার উপায় কী?

সিরিয়ালের জন্য যোগাযোগ করুন -

অস্টিওপরোসিস কী? হাড় ক্ষয় কেন হয়, সেরে ওঠার উপায় কী?

অস্টিওপোরোসিস বা অস্টিওপোরেসিস (ইংরেজি: Osteoporosis) হল ক্যালসিয়াম এর অভাব জনিত একটা রোগ।
এটি হাড়ের এমন এক ধরণের ক্ষয় রোগ যা আপনার হাড়কে ভীষণ দুর্বল করে ফেলে, যার কারণে সামান্য আঘাতেই ভেঙ্গে যায় বা ফেটে যায়। বাংলাদেশ অর্থোপেডিক সোসাইটির মতে, দেশটির মোট জনসংখ্যার অন্তত তিন শতাংশ অস্টিওপরোসিসে আক্রান্ত এবং পুরুষের তুলনায় নারীদের এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি ।

চিকিৎসকরা বলছেন এই রোগে আক্রান্তদের অনেকেই তাদের রোগ সম্পর্কে জানেন না এবং আক্রান্তদের সময়মতো সঠিক চিকিৎসা না হলে এমনকি ছয় মাসেই মৃত্যু ঘটতে পারে।

সোসাইটির গবেষণায় পাওয়া তথ্য অনুযায়ী যদিও তাদের অনেকের জানাই নেই যে তারা হাড় ক্ষয় রোগে আক্রান্ত হয়েছেন।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিজিক্যাল মেডিসিন ও রিহ্যাবিলিটেশন বিভাগের অধ্যাপক একেএম সালেক বলছেন ৫০ বছর বয়সী যারা এ রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন তাদের প্রতি দশজনের নয়জনই নারী। তবে ৭০ বছর বয়সীদের মধ্যে পুরুষের সংখ্যা কিছুটা বেড়ে সাধারণত এ অনুপাত হয় ৬:৪ বা ৭:৩।

চিকিৎসকরা বলছেন তাদের ধারণা আগামী পাঁচ বছরে নন-কমিউনিকেবল যেসব রোগে মানুষ বেশি আক্রান্ত হয় তার মধ্যে শীর্ষ পাঁচে এই হাড় ক্ষয় রোগ উঠে আসবে।

“হার্ট, স্ট্রোক, ডায়াবেটিস ও ফুসফুসের সমস্যার পর হাড় ক্ষয় রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেশি হবে বলে আমরা ধারণা করছি,” বলছিলেন মিস্টার সালেক।

হাড় ক্ষয় কেন হয়?

Osteoporosis in human bone illustration

কারও যদি ধূমপান, অতিরিক্ত মদপান ও মাদক সেবনের মতো অভ্যাস থাকে, সেটিও অস্টিওপরোসিসের ঝুঁকি বাড়ানোর কারণ। আবার ভিটামিন ডি ও ক্যালসিয়ামের ঘাটতি হলে, হাইপার থাইরয়েডিজম বা হরমোনের ভারসাম্যহীনতা থাকলে, ডায়াবেটিস, ক্যান্সারের মতো জটিল রোগের কারণে যেকোনো বয়সীদের অস্টিওপরোসিস হতে পারে।

অস্টিও অর্থ হাড় এবং পরোসিস অর্থ পোরস বা ছিদ্র। সে হিসেবে অস্টিওপরোসিস বলতে বোঝায় যখন হাড়ে বেশি পরিমাণে ছিদ্র থাকে।

হাড়ে বেশি ছিদ্র থাকা মানে বোন ডেনসিটি বা হাড়ের ঘনত্ব কমে যাওয়া। এতে হাড় দুর্বল হয়ে পড়ে। ফলে সহজেই হাড় ভেঙ্গে যাওয়া বা ফ্র্যাকচার হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। হাড় দুর্বল হওয়ার এই স্বাস্থ্যগত অবস্থাই অস্টিওপরোসিস।

হাড়ের দু’টি অংশ থাকে। ওপরের শক্ত আবরণটিকে বলা হয় কমপ্যাক্ট বোন। ভেতরে স্পঞ্জের মতো ছিদ্র ছিদ্র করা স্তরটিকে বলা হয় স্পঞ্জি বোন বা ট্রেবাকুলার বোন।

অস্টিওপরোসিস হলে হাড়ের ওপরের আবরণ বা কম্প্যাক্ট বোন অনেক পাতলা হয়ে যায় এবং স্পঞ্জি অংশটির ছিদ্র বেড়ে যায় বা ঘনত্ব কমে যায়, যা হাড়কে দুর্বল করে ফেলে।

হাড় সাধারণত একদিকে ক্ষয় হতে থাকে আরেকটি গঠন হতে থাকে। যদি ক্ষয় হওয়ার গতি, নতুন হাড় গঠন হওয়ার গতির চাইতে কমে যায়, তখনই অস্টিওপরোসিস হয়।

কম্প্যাক্ট বোনের গঠন প্রতি ১০ বছর অন্তর আর স্পঞ্জি বোন প্রতি তিন বা চার বছর পর পর বদলায়।

মূলত বয়স বাড়ার সাথে সাথে হাড় দুর্বল হতে থাকে যা বার্ধক্যের একটি স্বাভাবিক বিষয়। তবে কিছু মানুষের এই হাড় ক্ষয়ের প্রবণতা স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি।

ব্রিটেনের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের তথ্যমতে, মানুষের হাড় সবচেয়ে বেশি মজবুত অবস্থায় থাকে ২৫ থেকে ৩০ বছর বয়সের মধ্যে। এরপর থেকে হাড় দুর্বল হতে শুরু করে।

 

উপসর্গ :

20240225_125936

আশঙ্কার বিষয় হচ্ছে আপনার অস্টিওপরোসিস আছে কিনা সেটা আগে থেকে বোঝার কোনো উপায় নেই। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে হাড় ভাঙলে বা ফ্র্যাকচার হলেই কেবল বিষয়টি সামনে আসে।

প্রাথমিক অবস্থায় এই রোগের কোনো লক্ষণ থাকে না কিন্তু পরিস্থিতি যখন জটিল রূপ নেয় তখন রোগীর-

ঘাড়ে, কোমরে, মেরুদণ্ডে প্রতিনিয়ত ব্যথা হয়
পেশী ব্যথা করে বা পেশী দুর্বল লাগে
বয়স্কদের ক্ষেত্রে উচ্চতা কমে যায় বা কুঁজো হয়ে যায়, কারণ হাড় ক্ষয় হওয়ার কারণে মেরুদণ্ড শরীরের ভার নিতে পারে না, এজন্য মেরুদণ্ড বাঁকা হয়ে শরীর ঝুঁকে আসে, অনেক সময় হাড় ভেঙে যায়
পাঁজরের হাড় নীচের দিকে ঝুলে পড়ে
হাড় না ভাঙ্গা পর্যন্ত অস্টিওপরোসিস সাধারণত কষ্টকর হয় না, তবে মেরুদণ্ডের হাড় একবার ভাঙলে সেটা দীর্ঘদিন ধরে ভুগতে হয়।

পরীক্ষা:

অস্টিওপরোসিস পরীক্ষা করা হয় ডুয়েল এনার্জি এক্স রে অ্যাবজরপ-শিওমেট্রি বা সংক্ষেপে ডেক্সা স্ক্যানের মাধ্যমে।

এখানে রোগীকে শুইয়ে তার শরীরের বিভিন্ন অংশ স্ক্যান করা হয় যা সম্পূর্ণ ব্যথামুক্ত পদ্ধতি। এটা করতে ১০ থেকে ২০ মিনিট সময় লাগে, এক্ষেত্রে শরীরের যে অংশটি স্ক্যান করা হচ্ছে তার উপর সময় নির্ভর করে।

একজন সুস্থ প্রাপ্তবয়স্ক তরুণের হাড়ের সাথে তুলনা করে রোগীর হাড়ের ঘনত্ব পরিমাপ করা হয়। এই গণনা করা হয় টি স্কোর দিয়ে।

পরীক্ষায় রোগীর টি স্কোর যদি মাইনাস দুই দশমিক পাঁচ বা তার কম আসে, তাহলে বুঝতে হবে তার অস্টিওপরোসিস আছে।

এছাড়া পরীক্ষায় রোগীর হাড়ের পরিস্থিতি কয়েকটি গ্রেডে ভাগ করা হয়। রোগীর হাড়ের অবস্থা কোন গ্রেডে আছে, রোগীর বয়স, লিঙ্গ, ভবিষ্যতে হাড় ভাঙার ঝুঁকি কতোটা আছে, আগে হাড় ভেঙেছিল কিনা সেটার ওপর ভিত্তি করে চিকিৎসা দেয়া হয়ে থাকে।

আপনার যদি অস্টিওপেনিয়া অর্থাৎ প্রাথমিক অবস্থায় রোগটি ধরা পড়ে তাহলে আপনার হাড় সুস্থ রাখতে এবং অস্টিওপরোসিস হওয়ার ঝুঁকি কমাতে আপনি কিছু পদক্ষেপ নিতে পারেন।

যদি অস্টিওপরোসিস ধরা পড়েই যায় তাহলে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নেয়ার পাশাপাশি চলাফেরায় সাবধান হতে হবে এবং নিয়মিত চোখের দৃষ্টি ও শ্রবণশক্তি পরীক্ষা করাতে হবে।

প্রতিরোধ:

অস্টিওপরোসিস প্রতিকারের চাইতে প্রতিরোধের ওপর বেশি জোর দিতে বলেছেন বিশেষজ্ঞরা।

এই রোগের ঝুঁকি যেহেতু বয়সের সাথে বাড়ে তাই আগে থেকেই সতর্ক হতে হবে। আমরা বয়স্কদের শুয়ে বসে থাকতে বলি। কিন্তু বয়সের সাথে সাথে শারীরিক পরিশ্রম করা বেশ জরুরি।

যারা নিয়মিত কায়িক শ্রম করেন বা শরীরচর্চা করেন তাদেরও হাড়ের গঠন মজবুত হয়, হাড় ক্ষয়ের গতি কমে যায় এবং হাড় গঠনের গতি বেড়ে যায়।

রক্তের ক্যালসিয়াম, ফসফেট সেইসাথে অ্যাস্ট্রোজেন, টেস্টোটেরন ও গ্রোথ হরমোন হাড়ের গঠনে সাহায্য করে।

তাই ক্যালসিয়াম, ভিটামিন, প্রোটিন, ওমেগা-থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড, অ্যান্টি অক্সিডেন্টযুক্ত খাবার খেলে সেইসাথে নিয়মিত চিকিৎসকের পরামর্শে ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি সাপ্লিমেন্ট খেলে, অস্টিওপরোসিস প্রতিরোধ করা সম্ভব। প্রতিদিন অন্তত ১০ মাইক্রোগ্রাম ভিটামিন ডি সমৃদ্ধ খাবার খেতেই হবে।

সেইসাথে ধূমপান ও মদপানের অভ্যাস থাকলে তা পরিত্যাগ করতে হবে।

চিকিৎসা:

pexels-mart-production-7089289

হাড় মজবুত করার ওষুধ দিয়ে অস্টিওপরোসিসের চিকিৎসা করা যায়।

প্রতিনিয়ত আমাদের যে হাড় গঠন হচ্ছে সেটা কেমন মজবুত হবে, সেটা নির্ভর করবে শরীরের সেরাম ক্যালসিয়াম লেভেলের ওপর।

মানবদেহের প্যারাথাইরয়েড হরমোন ও ক্যালসাটোনিন হরমোন আর ভিটামিন ডি এই সেরাম ক্যালসিয়াম লেভেলকে প্রভাবিত করে।

চিকিৎসকরা সাধারণত রোগীর পরিস্থিতি বুঝে, ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি সাপ্লিমেন্ট, ন্যাসাল স্প্রে, সাপ্তাহিক বা মাসিক ট্যাবলেট, বছরে একবার হরমোনাল ইনজেকশন, হরমোনাল ওষুধ, ইত্যাদি প্রেস্ক্রাইব করে থাকেন।

মেনোপজের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছেন এমন নারীদের ওষুধ বা ইনজেকশনের মাধ্যমে অ্যাস্ট্রোজেনের মাত্রা বাড়ানো হয় যা হাড়ের ঘনত্ব বাড়াতে সাহায্য করে।

তবে এসব ওষুধের বেশ কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া আছে। সে বিষয়ে চিকিৎসকের কাছ থেকে জেনে নেয়া দরকার।

ঢাকার সার্জারী বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের তালিকা

সিরিয়ালের জন্য যোগাযোগ করুন -

ঢাকার সার্জারী বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের তালিকা

ঢাকার সার্জারী বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের তালিকা একজন সার্জারী বিশেষজ্ঞ তাকেই বলা হয়ে থাকেন, যিনি একজন রোগীর শল্য চিকিৎসাজনিত সকল সমাধানের জন্য বিশেষভাবে প্রশিক্ষিত এবং দক্ষ একজন ডাক্তার।
একজন সার্জারী বিশেষজ্ঞ তাকেই বলা হয়ে থাকেন, যিনি একজন রোগীর শল্য চিকিৎসাজনিত সকল সমাধানের জন্য বিশেষভাবে প্রশিক্ষিত এবং দক্ষ একজন ডাক্তার।

সকল সার্জারি বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের তালিকা নিম্নে দেয়া হলো –

best-skin-and-dermatologist-doctor-list-in-dhaka

ঢাকার সেরা চর্ম ও যৌন রোগ বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের তালিকা।

ঢাকার সেরা চর্ম ও যৌন রোগ বিশেষজ্ঞ ডাক্তারদের তালিকা। ত্বকের বিভিন্ন সমস্যা ও রোগের নিরাময়ের জন্য সঠিক চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পর ...

ঢাকার সেরা প্রসূতি ও স্ত্রীরোগ এবং বন্ধ্যাত্ব বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের তালিকা।

ঢাকার সেরা প্রসূতি ও স্ত্রীরোগ এবং বন্ধ্যাত্ব বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের তালিকাঃ আপনি যদি ঢাকায় সেরা গাইনী বিশেষজ্ঞ ডাক্তার অনুসন্ধা ...

ঢাকার সেরা নাক কান ও গলা রোগ বিশেষজ্ঞ ডাক্তার এর তালিকা।

ঢাকার সেরা নাক কান ও গলা রোগ বিশেষজ্ঞ ডাক্তার এর তালিকা।

ঢাকার সেরা নাক কান ও গলা রোগ বিশেষজ্ঞ ডাক্তার এর তালিকা। ঠান্ডা-কাশির সমস্যায় আক্রান্ত হননি এমন মানুষের সংখ্যা বাংলাদেশে খুঁজ ...

ঢাকায় ব্রেন টিউমার অপারেশনের খরচ কত ?

সিরিয়ালের জন্য যোগাযোগ করুন -

ঢাকায় ব্রেন টিউমার অপারেশনের খরচ কত ?

ঢাকায় ব্রেন টিউমার অপারেশনের খরচ কত ? ব্রেন টিউমার নির্ণয়ের সাথে মোকাবিলা করা মানসিক এবং আর্থিকভাবে উভয়ই অপ্রতিরোধ্য হতে পারে। মস্তিষ্কের টিউমার অপারেশনের খরচ বোঝা পরিকল্পনা এবং উপযুক্ত চিকিৎসা সেবা চাওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক। এই নিবন্ধে, আমরা ঢাকায় ব্রেন টিউমার অপারেশনের খরচ সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করব।

ব্রেন টিউমার নির্ণয়ের সাথে মোকাবিলা করা মানসিক এবং আর্থিকভাবে উভয়ই অপ্রতিরোধ্য হতে পারে। মস্তিষ্কের টিউমার অপারেশনের খরচ বোঝা পরিকল্পনা এবং উপযুক্ত চিকিৎসা সেবা চাওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক। এই নিবন্ধে, আমরা ঢাকায় ব্রেন টিউমার অপারেশনের খরচ সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করব।

খরচ প্রভাবিত করার কারণগুলি:

হাসপাতাল এবং সার্জনের দক্ষতা: হাসপাতালের সুনাম, সুবিধা এবং দক্ষতা এবং অপারেশন সম্পাদনকারী সার্জনের খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে প্রভাবিত করতে পারে। বিখ্যাত হাসপাতাল এবং অভিজ্ঞ নিউরোসার্জনদের উন্নত কৌশল এবং বিশেষ সরঞ্জামের কারণে উচ্চ ফি থাকতে পারে।

ব্রেন টিউমার নির্ণয়ের পদ্ধতি: মস্তিষ্কের টিউমার নির্ণয়ের প্রক্রিয়ায় এমআরআই স্ক্যান, সিটি স্ক্যান এবং বায়োপসির মতো বিভিন্ন পরীক্ষা জড়িত। এই পদ্ধতির কারণে খরচ বেড়ে যায়।

টিউমারের ধরন এবং পর্যায়: ব্রেন টিউমারের ধরন এবং পর্যায় অপারেশনের জটিলতা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। আরও উন্নত বা জটিল ক্ষেত্রে অতিরিক্ত অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হতে পারে, যার ফলে খরচ বেড়ে যায়।

হাসপাতালে থাকা এবং অপারেটিভ পরবর্তী যত্ন: হাসপাতালে থাকার সময়কাল এবং অপারেটিভ পরবর্তী যত্নের প্রয়োজনীয় স্তর সামগ্রিক খরচে অবদান রাখে। এর মধ্যে রয়েছে রুম, ওষুধ, নার্সিং কেয়ার এবং ফলো-আপ পরামর্শ সংক্রান্ত খরচ।

পুনর্বাসন এবং ফলো-আপ যত্ন: মস্তিষ্কের টিউমার অপারেশনের প্রকৃতি এবং ব্যক্তির অবস্থার উপর নির্ভর করে, পুনর্বাসন এবং ফলো-আপ যত্ন প্রয়োজন হতে পারে। এই পরিষেবাগুলি, যেমন ফিজিওথেরাপি বা স্পিচ থেরাপি, সামগ্রিক খরচে অবদান রাখতে পারে।

ভ্রমণ এবং বাসস্থান: আপনি যদি ঢাকার বাইরে থাকেন, তাহলে আপনার নিজের এবং পরিবারের যে কোনো সদস্যের জন্য ভ্রমণ এবং বাসস্থানের খরচ বিবেচনা করতে হবে।

ঢাকায় ব্রেন টিউমার অপারেশনের খরচ:

ঢাকায় ব্রেন টিউমার অপারেশনের খরচ সাধারণত ১,০০,০০০ টাকা থেকে ২,৫০,০০০ টাকা পর্যন্ত হয়ে থাকে। যাইহোক, আপনার নির্দিষ্ট অবস্থা এবং চিকিত্সার প্রয়োজনীয়তার উপর ভিত্তি করে একটি সঠিক অনুমান পেতে একজন যোগ্যতাসম্পন্ন সার্জনের সাথে পরামর্শ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বিশেষ দ্রষ্টব্যঃ-  আপনি যদি ঢাকায় ব্রেন টিউমার অপারেশনের কথা বিবেচনা করেন, তাহলে আরও বিস্তারিত জানতে কল করুনঃ +880 1949-605525

সকল সার্জারি বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের তালিকা নিম্নে দেয়া হলো –

best-skin-and-dermatologist-doctor-list-in-dhaka

ঢাকার সেরা চর্ম ও যৌন রোগ বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের তালিকা।

ঢাকার সেরা চর্ম ও যৌন রোগ বিশেষজ্ঞ ডাক্তারদের তালিকা। ত্বকের বিভিন্ন সমস্যা ও রোগের নিরাময়ের জন্য সঠিক চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পর ...

ঢাকার সেরা প্রসূতি ও স্ত্রীরোগ এবং বন্ধ্যাত্ব বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের তালিকা।

ঢাকার সেরা প্রসূতি ও স্ত্রীরোগ এবং বন্ধ্যাত্ব বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের তালিকাঃ আপনি যদি ঢাকায় সেরা গাইনী বিশেষজ্ঞ ডাক্তার অনুসন্ধা ...

ঢাকার সেরা নাক কান ও গলা রোগ বিশেষজ্ঞ ডাক্তার এর তালিকা।

ঢাকার সেরা নাক কান ও গলা রোগ বিশেষজ্ঞ ডাক্তার এর তালিকা।

ঢাকার সেরা নাক কান ও গলা রোগ বিশেষজ্ঞ ডাক্তার এর তালিকা। ঠান্ডা-কাশির সমস্যায় আক্রান্ত হননি এমন মানুষের সংখ্যা বাংলাদেশে খুঁজ ...

গর্ভপাতের লক্ষণ ও কারণ

সিরিয়ালের জন্য যোগাযোগ করুন -

গর্ভপাতের লক্ষণ ও কারণ-

গর্ভপাতের লক্ষণ ও কারণ মেডিকেল রিভিউ করেছেন ডা. সেঁজুতি সীমান্ত একটি গবেষণায় দেখা গিয়েছে যে, গর্ভধারণ নিশ্চিত হওয়ার পরে শতকরা ১০ ভাগ ক্ষেত্রে গর্ভাবস্থার পরিণতি গর্ভপাত হয়ে থাকে। তাছাড়া অনেক ক্ষেত্রে গর্ভধারণ নিশ্চিত হওয়ার পূর্বেই গর্ভপাত হয়ে যায়। সাধারণত প্রথম ত্রৈমাসিকে গর্ভপাত হওয়ার ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি। মা ও শিশুর স্বাস্থ্য এবং আশেপাশের স্বাস্থ্য সেবা প্রদানকারী কেন্দ্রের চিকিৎসা ব্যবস্থার সক্ষমতার ওপর ভিত্তি করে প্রত্যেক শিশুর বাইরের জগতে বেঁচে থাকার জন্য প্রস্তুত হতে সময় কিছুটা কম-বেশি লাগতে পারে। তাই গর্ভপাতের সময়সীমা একেক দেশে একেক রকম হয়। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে গর্ভাবস্থার ২৮ সপ্তাহ সম্পূর্ণ হওয়ার আগে গর্ভের সন্তান মারা গেলে তাকে গর্ভপাত বলে। অপরদিকে ২৮ সপ্তাহের পর গর্ভে সন্তানের মৃত্যু ঘটলে তাকে মৃতপ্রসব বলা হয়।

মেডিকেল রিভিউ করেছেন ডা. সেঁজুতি সীমান্ত

একটি গবেষণায় দেখা গিয়েছে যে, গর্ভধারণ নিশ্চিত হওয়ার পরে শতকরা ১০ ভাগ ক্ষেত্রে গর্ভাবস্থার পরিণতি গর্ভপাত হয়ে থাকে। তাছাড়া অনেক ক্ষেত্রে গর্ভধারণ নিশ্চিত হওয়ার পূর্বেই গর্ভপাত হয়ে যায়। সাধারণত প্রথম ত্রৈমাসিকে গর্ভপাত হওয়ার ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি।

মা ও শিশুর স্বাস্থ্য এবং আশেপাশের স্বাস্থ্য সেবা প্রদানকারী কেন্দ্রের চিকিৎসা ব্যবস্থার সক্ষমতার ওপর ভিত্তি করে প্রত্যেক শিশুর বাইরের জগতে বেঁচে থাকার জন্য প্রস্তুত হতে সময় কিছুটা কম-বেশি লাগতে পারে। তাই গর্ভপাতের সময়সীমা একেক দেশে একেক রকম হয়।

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে গর্ভাবস্থার ২৮ সপ্তাহ সম্পূর্ণ হওয়ার আগে গর্ভের সন্তান মারা গেলে তাকে গর্ভপাত বলে। অপরদিকে ২৮ সপ্তাহের পর গর্ভে সন্তানের মৃত্যু ঘটলে তাকে মৃতপ্রসব বলা হয়।

গর্ভপাতের লক্ষণ

গর্ভপাতের সবচেয়ে পরিচিত লক্ষণ হলো যোনিপথ বা মাসিকের রাস্তা দিয়ে রক্ত যাওয়া। এই রক্তপাতের মাত্রা কারও বেশি আবার কারও কম হয়। অন্তর্বাসে অথবা পায়জামায় রক্তের হালকা ছোপ ছোপ দাগ লাগা কিংবা বাদামী রঙের অল্প পরিমাণে রক্তপাত হওয়া থেকে শুরু করে টকটকে লাল রঙের এবং জমাট বাঁধা রক্তের দলাসহ ভারী রক্তপাত হতে পারে।

এই রক্তপাত কারও একটানা কয়েকদিন পর্যন্ত স্থায়ী হয়। আবার কারও ক্ষেত্রে রক্তপাত কিছু সময় বন্ধ থেকে কয়েক দিন পরে পুনরায় শুরু হতে পারে।

যোনিপথে রক্তপাত ছাড়াও গর্ভপাত হলে অন্যান্য যেসব লক্ষণ দেখা দিতে পারে সেগুলো হলো—

  • তলপেট মোচড়ানো অথবা ব্যথা হওয়া
  • যোনিপথ দিয়ে তরল নির্গত হওয়া
  • যোনিপথ দিয়ে মাংসের দলার মতো কিছু নির্গত হওয়া
  • গর্ভধারণের লক্ষণগুলো না থাকা। যেমন: বমি বমি ভাব ও স্তনে ব্যথা

দ্রষ্টব্য, গর্ভকালের প্রথম দিকে যোনিপথে রক্তপাত হলে তা সব ক্ষেত্রে গর্ভপাত নির্দেশ করে না। এক্টোপিক প্রেগন্যান্সি বা জরায়ুর বাইরে গর্ভধারণ করলে, মোলার প্রেগন্যান্সি, অর্থাৎ গর্ভধারণের পরিবর্তে গর্ভে থোকা থোকা মাংসের দলা সৃষ্টি হলে এবং ইমপ্ল্যানটেশন ব্লিডিং, অর্থাৎ ভ্রূণ জরায়ুর গায়ে বসার কারণেও মায়ের যোনিপথে রক্তপাত হতে পারে।

এসব ছাড়াও এই সময়ে অন্যান্য কোনো রোগের কারণেও রক্তপাত হতে পারে।  তাই এই সময়ে যোনিপথে রক্তপাত হলেই আতঙ্কিত না হয়ে নিকটস্থ চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

তবে এক্টোপিক প্রেগন্যান্সি একটি ভয়াবহ জটিল সমস্যা। কেননা এর ফলে হঠাৎ করে শরীরের ভেতরে প্রচুর পরিমাণে রক্তপাত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। এমনকি রোগী রক্তপাতের কারণে মৃত্যুবরণও করতে পারে। তাই এক্টোপিক প্রেগন্যান্সির লক্ষণ প্রকাশ পাওয়া মাত্র যত দ্রুত সম্ভব নিকটস্থ হাসপাতালে যেতে হবে।

এক্টোপিক প্রেগন্যান্সির লক্ষণ এবং লক্ষণ দেখা দিলে কী হতে পারে এসব জানতে এক্টোপিক প্রেগন্যান্সি আর্টিকেলটি পড়ুন।

গর্ভপাতের কারণসমূহ

গর্ভপাত নানান কারণে হতে পারে। সাধারণত গর্ভের সন্তান অথবা মায়ের বিভিন্ন রোগ ও ত্রুটির কারণে গর্ভপাত ঘটে। তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে গর্ভপাতের কারণ সুনির্দিষ্টভাবে বের করা সম্ভব হয়ে ওঠে না।

প্রথম ত্রৈমাসিকে সাধারণত গর্ভের শিশুর কোনো ধরনের সমস্যার কারণে গর্ভপাত হয়ে থাকে। প্রথম ত্রৈমাসিকের পরের সময়গুলোতে মায়ের নানান রোগের কারণে গর্ভপাত হতে পারে।

এ ছাড়াও গর্ভের শিশুর চারপাশে কোনো ধরনের ইনফেকশন হলে ধীরে ধীরে পানি ভাঙতে শুরু হয়। এর ফলে কোনো ধরনের ব্যথা কিংবা রক্তপাত শুরু হওয়ার আগেই গর্ভপাত হয়ে যেতে পারে।

আবার কখনো কখনো জরায়ুমুখ নির্দিষ্ট সময়ের বেশ আগে খুলতে শুরু করে। এ কারণেও গর্ভপাত হতে পারে।

গর্ভপাতের কারণগুলোকে ত্রৈমাসিক অনুযায়ী দুইটি ভাগে ভাগ করা যেতে পারে। যেমন—

প্রথম ত্রৈমাসিকে গর্ভপাতের কারণ

গর্ভাবস্থার ১৩তম সপ্তাহ পর্যন্ত যে সময়কাল তাকে প্রথম ত্রৈমাসিক বলে। এসময়ে গর্ভপাত হওয়ার কারণগুলো হলো—

১. ক্রোমোজোমের সমস্যা

আমাদের দেহের যেকোনো অংশের গঠন কেমন হবে তা নির্ভর করে ‘ডিএনএ’ এর ওপর। অর্থাৎ শিশুর চেহারা অথবা চুলের রঙ থেকে শুরু করে তার শরীরের ভেতরের নানান অঙ্গের গঠনও ‘ডিএনএ’ এর ওপর নির্ভরশীল। আর ক্রোমোজোম হলো একাধিক ‘ডিএনএ’ এর সমষ্টি।

প্রতিটি মানুষের দেহে মোট ২৩ জোড়া, অর্থাৎ ৪৬টি ক্রোমোজোম থাকে। এর মধ্যে ২৩টি আসে মায়ের শরীর থেকে আর বাকী ২৩টি আসে বাবার শরীর থেকে।

কখনো কখনো গর্ভধারণের সময়ে মা-বাবার কাছ থেকে ২৩টির কম অথবা বেশি ক্রোমোজোম চলে আসতে পারে। এর ফলে গর্ভের শিশুর দেহে ক্রোমোজোম সংখ্যা কম-বেশি হয়। ফলে সে স্বাভাবিকভাবে বেড়ে উঠতে পারবে না। এর পরিণতি স্বরূপ গর্ভপাত হতে পারে।

এ ধরনের ঘটনা কেন ঘটে সে সম্পর্কে এখনো সঠিকভাবে কিছু জানা যায়নি। এমনকি এ ধরনের ঘটনার পেছনে গর্ভের শিশুর মা-বাবার কোনো ধরনের শারীরিক সমস্যাও দায়ী নয়। যে কারও ক্ষেত্রে এই ঘটনা ঘটতে পারে।

তবে স্বস্তির বিষয় এই যে, পরবর্তী কোনো গর্ভাবস্থায় এর পুনরাবৃত্তি হওয়ার আশঙ্কা কম।

২. গর্ভফুলের সমস্যা

গর্ভফুল বা প্লাসেন্টার মাধ্যমে মায়ের শরীর থেকে গর্ভের শিশুর দেহে রক্ত সরবরাহ হয়। এই রক্তের মাধ্যমে সে গর্ভের ভেতরে বেড়ে ওঠার জন্য পুষ্টি উপাদান পায়। তাই গর্ভফুলে কোনো সমস্যা থাকলে শিশুর রক্ত সরবরাহে বিঘ্ন ঘটে গর্ভপাত হয়ে যেতে পারে।

৩. অন্যান্য কারণ

যে কারও যেকোনো সময় গর্ভপাত হতে পারে। তবুও কিছু বিষয় প্রথম ত্রৈমাসিকে গর্ভপাত হওয়ার হওয়ার আশঙ্কা বাড়িয়ে দেয়। যেমন—

  • গর্ভবতী মায়ের বয়স বেশি হওয়া
  • গর্ভবতী মায়ের ওজন অতিরিক্ত হওয়া
  • অতিরিক্ত ক্যাফেইনযুক্ত খাবার খাওয়া অথবা পানীয় পান করা। যেমন: চা ও কফি
  • ধূমপান করা অথবা ধূমপায়ীদের আশেপাশে থাকার কারণে সিগারেটের ধোঁয়া সেবন করা
  • মাদকদ্রব্য গ্রহণ করা
  • মদপান করা

দ্বিতীয় ত্রৈমাসিকে গর্ভপাতের কারণ

গর্ভাবস্থার ১৪তম সপ্তাহ থেকে ২৮ সপ্তাহ পর্যন্ত সময়কালকে দ্বিতীয় ত্রৈ মাসিক বলে। এই সময়ে যেসব কারণে গর্ভপাত হতে পারে—

১. মায়ের দীর্ঘমেয়াদী অসুস্থতা

দীর্ঘ দিন মায়ের কোনো স্বাস্থ্য সমস্যা থাকলে এবং বিশেষ করে ঠিকমতো তার চিকিৎসা না নিলে অথবা তা নিয়ন্ত্রণে না থাকলে, গর্ভপাতের আশঙ্কা বেড়ে যায়। যেসব রোগ থাকলে গর্ভপাতের ঝুঁকি বেড়ে যেতে পারে সেগুলো হলো—

  • অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস
  • অতিরিক্ত উচ্চ রক্তচাপ
  • সিস্টেমিক লুপাস ইরাইথামেটোসাস বা এসএলই
  • কিডনির রোগ
  • হাইপারথাইরয়েডিজম বা রক্তে থাইরয়েড হরমোন বেড়ে যাওয়া
  • হাইপোথাইরয়েডিজম বা রক্তে থাইরয়েড হরমোন কমে যাওয়া
  • অ্যান্টি ফসফোলিপিড সিনড্রোম

২. ইনফেকশন

গর্ভাবস্থায় মা কিছু ইনফেকশনে আক্রান্ত হলে গর্ভপাতের আশঙ্কা বেড়ে যেতে পারে। যেমন –

  • রুবেলা ভাইরাস
  • সাইটোমেগালো ভাইরাস
  • ব্যাকটেরিয়াল ভ্যাজাইনোসিস। এক্ষেত্রে যোনিপথে স্বাভাবিক অবস্থায় থাকা নির্দিষ্ট কিছু ব্যাকটেরিয়ার সংখ্যা অতিরিক্ত বেড়ে যায়
  • এইচআইভি
  • ক্ল্যামাইডিয়া
  • গনোরিয়া
  • সিফিলিস
  • ম্যালেরিয়া

৩. খাদ্যে বিষক্রিয়া

কিছু নির্দিষ্ট জীবাণু দ্বারা দূষিত খাবার খাওয়ার ফলে বিষক্রিয়া হলে গর্ভপাতের আশংকা বেড়ে যেতে পারে। যেমন—

  • অপাস্তুরিত দুধ অথবা দুগ্ধজাত খাবার থেকে লিসটেরিয়া ব্যাকটেরিয়ার বিষক্রিয়া
  • কাঁচা অথবা ভালোমতো সেদ্ধ না হওয়া মাংস থেকে টক্সোপ্লাসমার বিষক্রিয়া
  • কাঁচা অথবা আধা সিদ্ধ ডিম থেকে স্যালমনেলার বিষক্রিয়া

এজন্য দুধ ভালো ভাবে ফুটিয়ে খাওয়ার চেষ্টা করুন। পাশাপাশি ডিম, মাছ ও মাংস ভালো মতো রান্না করে খান। সুশি জাতীয় কাঁচা অথবা ভালোমতো সেদ্ধ না করা খাবার এড়িয়ে চলুন।

৪. ঔষধপত্র

কিছু ঔষধ সাধারণ মানুষের জন্য নিরাপদ হলেও সেসব গর্ভের শিশুর জন্য ক্ষতির কারণ হতে পারে। গর্ভাবস্থায় এসব সেবন করলে তা গর্ভের সন্তানের বিভিন্ন সমস্যা তৈরি করতে পারে। এমনকি গর্ভপাতও ঘটাতে পারে।

গর্ভপাতের ঝুঁকি বাড়ায় এমন কিছু ঔষধ হলো—

  • মিসোপ্রস্টল
  • রেটিনয়েড
  • মেথোট্রেক্সেট 
  • বিভিন্ন ব্যথানাশক ও প্রদাহনাশক ঔষধ

সবচেয়ে ভালো হয় যদি গর্ভাবস্থায় যেকোনো ঔষধ নেওয়ার আগে ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে নেওয়া হয়। ‘ওভার দ্যা কাউন্টার’, অর্থাৎ প্রেসক্রিপশন ছাড়া ক্রয় করা যায় এমন ঔষধগুলো নিরাপদ কি না সেটিও ডাক্তারের সাথে কথা বলে নিশ্চিত হয়ে নিলে ভালো হয়। ঔষধের নির্দেশিকা পড়ে নিলেও এক্ষেত্রে আপনি কিছু তথ্য জানতে পারেন।

৪. জরায়ুর গঠন

মায়ের গর্ভ, অর্থাৎ জরায়ুর গঠনে কিছু সমস্যা হলে দ্বিতীয় ত্রৈমাসিকে গর্ভপাত ঘটতে পারে। যেমন: গর্ভাবস্থায় জরায়ুতে টিউমার বা ফাইব্রয়েড হলে এবং জরায়ুর আকৃতি অস্বাভাবিক হলে।

৫. দুর্বল জরায়ুমুখ

কিছু কিছু ক্ষেত্রে জরায়ুমুখের পেশিগুলো স্বাভাবিকের চেয়ে দুর্বল হয়ে যেতে পারে। পূর্বে কখনো জরায়ুমুখে কোনো আঘাত পেয়ে থাকলে বিশেষত কোনো অপারেশন হওয়ার কারণে আঘাতপ্রাপ্ত হলে এমন সমস্যা হতে পারে।

পেশির দুর্বলতার কারণে জরায়ুমুখ গর্ভকাল শেষ হওয়ার আগেই প্রসারিত হয়ে যেতে পারে। ফলে গর্ভপাত ঘটতে পারে।

৬. পিসিওএস

পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোম বা পিসিওএস এটি একটি হরমোনজনিত সমস্যা, যার ফলে ওভারি বা ডিম্বাশয় স্বাভাবিকের চেয়ে বড় হয়ে যায়। ফলে ডিম্বাশয়ের স্বাভাবিক কাজকর্ম বাধাগ্রস্ত হয়। এই রোগে একজন নারীর শরীরে বিভিন্ন রকমের সমস্যা তৈরি হতে পারে। কিছু গবেষণায় ধারণা করা হয়েছে যে, পিসিওএস আক্রান্ত নারীর গর্ভপাত হওয়ার আশংকা বেশি

ঢাকার গাইনিকোলজিষ্ট বা গাইনি বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের তালিকা নিম্নে দেয়া হলো –

সহকারী অধ্যাপক ডাঃ জেসমিন জেরিন ASSISTANT PROFESSOR DR. JESMIN JERIN এমবিবিএস,এফসিপিএস(গাইনি ও অবস্‌)। সহকারী অধ্যাপক (ল্যাপারোস্কপিক সার্জন) - বারডেম হাসপাতাল, ঢাকা। প্রসূতি ও স্ত্রীরোগ এবং বন্ধ্যাত্ব বিশেষজ্ঞ, ঢাকা।

সহকারী অধ্যাপক ডাঃ জেসমিন জেরিন

সিরিয়ালের জন্য যোগাযোগ করুন - +880 1949-605525 সহকারী অধ্যাপক ডাঃ জেসমিন জেরিন প্রসূতি ও স্ত্রীরোগ এবং বন্ধ্যাত্ব ...

best-skin-and-dermatologist-doctor-list-in-dhaka

ঢাকার সেরা চর্ম ও যৌন রোগ বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের তালিকা।

ঢাকার সেরা চর্ম ও যৌন রোগ বিশেষজ্ঞ ডাক্তারদের তালিকা। ত্বকের বিভিন্ন সমস্যা ও রোগের নিরাময়ের জন্য সঠিক চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পর ...

ঢাকার সেরা প্রসূতি ও স্ত্রীরোগ এবং বন্ধ্যাত্ব বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের তালিকা।

ঢাকার সেরা প্রসূতি ও স্ত্রীরোগ এবং বন্ধ্যাত্ব বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের তালিকাঃ আপনি যদি ঢাকায় সেরা গাইনী বিশেষজ্ঞ ডাক্তার অনুসন্ধা ...

ঢাকার সেরা নাক কান ও গলা রোগ বিশেষজ্ঞ ডাক্তার এর তালিকা।

ঢাকার সেরা নাক কান ও গলা রোগ বিশেষজ্ঞ ডাক্তার এর তালিকা।

ঢাকার সেরা নাক কান ও গলা রোগ বিশেষজ্ঞ ডাক্তার এর তালিকা। ঠান্ডা-কাশির সমস্যায় আক্রান্ত হননি এমন মানুষের সংখ্যা বাংলাদেশে খুঁজ ...

জীবনরক্ষাকারী উচ্চমূল্যের ওষুধ দেশে তৈরি সম্ভব: অধ্যাপক ডা. আবদুল্লাহ

সিরিয়ালের জন্য যোগাযোগ করুন -

জীবনরক্ষাকারী উচ্চমূল্যের ওষুধ দেশে তৈরি সম্ভব: অধ্যাপক ডা. আবদুল্লাহ

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমিরেটাস অধ্যাপক ও প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. এবিএম আবদুল্লাহ বলেছেন, বিভিন্ন ধরনের জটিল রোগের অনেক ওষুধ বিদেশ থেকে আমদানী করতে হয়। এতে যেমন সময় ব্যয় হয়, তেমনি ওষুধের দামও অনেক বেড়ে যায়। দেশেই অনেক ওষুধ কোম্পানি রয়েছে, যারা এ ধরনের ওষুধ তৈরি করতে সক্ষম। দেশে এসকল ওষুধ উৎপাদন করতে পারলে জীবনরক্ষাকারী ওষুধ প্রাপ্তি যেমন সহজলভ্য হতো, আবার দামও হতো তুলনামূলকভাবে অনেক কম।

শনিবার (১০ জুন) বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেসা মুজিব কনভেনশন হলে অনুষ্ঠিত পালমোনারি হাইপারটেশন বিষয়ক প্রথম বৈজ্ঞানিক সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। এক্ষেত্রে চিকিৎসকরা যদি উদ্যোগ নেন, তাহলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রয়োজনীয় সহযোগিতা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সহায়তার আশ্বাস দেন অধ্যাপক ডা. এবিএম আবদুল্লাহ।

সম্মেলনে প্রধান অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর (ভিসি) অধ্যাপক ডা. মোঃ শারফুদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, পালমোনারি হাইপারটেশন নীরব ঘাতক রোগ। বুকে ব্যাথা, বুক ধরফর করা, অজ্ঞান হয়ে যাওয়া, পায়ে পানি আসা, সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠতে না পারা, স্মৃতি শক্তি লোপ পাওয়া বা কিছু মনে রাখতে না পরা এ ধরনের উপসর্গ দেখা দিলে অবশ্যই চিকিৎসককের পরামর্শ নিতে হবে।

তিনি আরও বলেন, বিএসএমএমইউয়ে পালমোনারি হাইপারটেশন রোগ নির্ণয় ও সুচিকিৎসার সব ধরনের সুযোগ নিশ্চিত করতে কার্যকরী উদ্যোগ নেয়া হবে। এ ধরনের রোগীর ক্ষেত্রে রেজিস্ট্রি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এ পর্যন্ত এ ধরনের ৬৫ রোগী রেজিস্টার্ড হয়েছে এবং এই প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখতে হবে।

অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) অধ্যাপক ডা. একেএম মোশাররফ হোসেন, ইউজিসির অধ্যাপক প্রখ্যাত হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. সজল কৃষ্ণ ব্যানার্জী, প্রখ্যাত বাতরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. সৈয়দ অতিকুল হক, ইন্টারনাল মেডিসিন বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. মোঃ আবুল কালাম আজাদ, সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. সোহেল মাহমুদ আরাফাত, রিউমাটোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. মিনহাজ রহিম চৌধুরী, অধ্যাপক ডা. মোঃ আবু শাহীনসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন।

পালমোনারি হাইপারটেশন সাপোর্ট গ্রুপ আয়োজিত এই সম্মেলনে জানানো হয়, মাল্টি ডিসিপ্লিনারি উদ্যোগের মাধ্যমে এই রোগের চিকিৎসার জন্য জনগণকে উদ্বুদ্ধ করা এবং চিকিৎসকদের মধ্যে একটি ঐক্যবদ্ধ সিস্টেম চালু করা এই সম্মেলনের মূল্য উদ্দেশ্য।


Source: doctortv.net

Omega-3 Fatty Acid: শরীরে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিডের ভূমিকা সম্পর্কে জানেন?

সিরিয়ালের জন্য যোগাযোগ করুন -

Omega-3 Fatty Acid: শরীরে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিডের ভূমিকা সম্পর্কে জানেন?

Omega-3 Fatty Acid

 

আমরা যে সব স্বাস্থ্যকর খাদ্য গ্রহণ করি তার মধ্যে বেশির ভাগ খাদ্যেই থাকে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড। এমনকি মাছের তেলের মধ্যে রয়েছে এই উপাদানটি। শরীরে এই উপাদানটির অভাব থাকলে দেখা দেয় একাধিক রোগ, তাই সাপ্লিমেন্টও উপলব্ধ ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিডের। কিন্তু কেন! আমাদের শরীরে এই ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড কী প্রভাব ফেলে জানেন?

ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড মূলত তিন রকমের হয়, যথা- এএলএ (ALA), ইপিএ (EPA) এবং ডিএইচএ (DHA)। এই ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড। ফ্লাক্স সিড, মাছের তেল, বিভিন্ন সামুদ্রিক মাছ, বাদাম এবং আরও খাবারের মধ্যে পাওয়া যায়।

১) দূর করে মানসিক অবসাদ- ডিপ্রেশন, অ্যানজাইটি বিশ্বের সবচেয়ে সাধারণ একটি মানসিক রোগ। ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড এই মানসিক রোগের ওপর দারুণ প্রভাব ফেলে এবং এই মানসিক অবসাদের সমস্যাকে দূর করে। তার সঙ্গে উন্নত করে মানসিক স্বাস্থ্য। ইপিএ (EPA) মূলত ডিপ্রেশনের সঙ্গে লড়াই করতে সক্ষম।

২) চোখের স্বাস্থ্য উন্নত করে- ডিএইচএ নামে একটি ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড আপনার চোখের রেটিনার একটি প্রধান কাঠামোগত উপাদান। দৃষ্টিশক্তির দুর্বলতা এবং অন্ধ হওয়ার জন্য দায়ী ম্যাকুলার ডিজেনারেশনকে এটি প্রতিরোধ করতে সহায়তা করতে পারে।

৩) ভ্রূণের মস্তিষ্কে বিকাশে সক্ষম- গর্ভা‌বস্থায় শিশুর মস্তিষ্কের বিকাশে সাহায্য করে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড। অস্টিজম সহ একাধিক রোগকে প্রতিরোধ করতে সক্ষম এই ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড। তার সঙ্গে শিশু অবস্থাতেও মস্তিষ্কের বিকাশে এবং শিশুর বুদ্ধির বিকাশ ঘটাতে সহায়ক ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড।

৪) হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়- ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড ট্রাইগ্লিসারাইড ও এলডিএল কোলেস্টেরলের মাত্রা কমায়। এইচডিএলের মাত্রা বৃদ্ধি করে। রক্তচাপকে নিয়ন্ত্রণে রাখে এবং রক্ত জমাট বাঁধতে দেয় না। এই সব কারণে হ্রাস পায় হৃদরোগের ঝুঁকিও। সুতরাং হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের ঝুঁকি কমাতে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড সমৃদ্ধ খাবার খান।

৫) ক্যান্সার প্রতিরোধে সক্ষম- গবেষণায় দেখা গিয়েছে যে সব মানুষের মধ্যে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিডের মাত্রা বেশি তাদের মধ্যে ৫৫% কোলন ক্যান্সারের আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি কম। এছাড়াও এই ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড উপাদানটি প্রস্টেট ও স্তন ক্যান্সারের মত রোগের ঝুঁকি কমাতেও সাহায্য করে।

৬) আস্থমার প্রতিরোধ করে- বিশেষত শিশুদের মধ্যে আস্থমার উপসর্গ এবং এই রোগকে পুরোপুরি দূর করতে এবং প্রতিরোধ করতে সক্ষম ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড। তার সঙ্গে প্রাপ্তবয়ঃস্কদের মধ্যেও আস্থমার উপসর্গকে দূর করতে সহায়ক ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড।

৭) প্রদাহ বিরোধী বৈশিষ্ট্য- ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিডের মধ্যে অ্যান্টি ইনফ্লেমটরি বৈশিষ্ট্য রয়েছে, যা শরীরকে যে কোনও ধরনের সংক্রমণের হাত থেকে রক্ষা করে এবং শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তোলে।

Omega-3 Fatty Acid: শরীরে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিডের ভূমিকা সম্পর্কে জানেন?

পণ্যটি কিনতে নি‌চের লিঙ্কে ক্লিক করুন

কিডনিতে পাথর হওয়ার কারণ, লক্ষণ ও প্রতিকার

সিরিয়ালের জন্য যোগাযোগ করুন -

কিডনিতে পাথর হওয়ার কারণ, লক্ষণ ও প্রতিকার

কিডনিতে পাথর হওয়ার কারণ, লক্ষণ ও প্রতিকার

আমরা আমাদের দৈনন্দিন জীবনের অনিয়মিত কিছু খাদ্যাভাসের জন্য নিজেরাই নিজেদের অজান্তেই রোগ বাধিয়ে নেই। অস্বাস্থ্যকর খাবার, অনিয়মিত ঘুম ও শরীর চর্চার অভাবে অনেক সময় আমরা জটিল রোগের সম্মুখীন হই। 

বর্তমান সময়ে আমাদের জীবনের সাধারণ কিছু সমস্যার মতই কিডনিতে পাথর হওয়া যুক্ত হয়েছে। চারপাশের কেউ না কেউ এই সমস্যায় ভুক্তভোগী। নারী পুরুষ উভয়ই এ সমস্যায় আক্রান্ত হয়ে থাকেন এবং যার সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলেছে।

কিডনির ভেতরে মিনারেল জমে ক্রিস্টাল বা স্ফটিকের মতো পদার্থ তৈরি করে যাকে আমরা কিডনিতে পাথর বলে জানি। অর্থাৎ ক্যালসিয়াম ও অক্সালেটের ডিপোজিশন হলে এই রোগের উৎপত্তি হয় যা কিডনিকে ক্ষতিগ্রস্ত করে থাকে।

চিকিৎসা না করলে ধীরে ধীরে কিডনির কার্যক্ষমতা কমতে থাকে এবং একসময় একেবারেই অকার্যকর হয়ে যেতে পারে। কিডনির কার্যক্ষমতা কমতে থাকা নির্ভর করে কিডনিতে পাথরের ধরন, অবস্থান, আকৃতি উপর এবং পরবর্তীতে সঠিক চিকিৎসা ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর। অনেক সময় রোগীর মৃত্যুর কারণও হয়ে দাঁড়ায় এই পাথর।

আরও বিস্তারিত জানতে এবং সরাসরি ডাক্তারের পরামর্শের জন্য কল করুন – +8801949605525

আমাদের শরীরের রক্ত পরিশোধনের অঙ্গ হলো এই কিডনি। শরীরে জমে থাকা অনেক রকম বর্জ্যও পরিশোধিত হয় কিডনির মাধ্যমেই। তাই কিডনি ভাল রাখতে আমাদের কিছু নিয়ম অবশ্যই মেনে চলা উচিৎ। তাহলে আসুন জেনে নেই কিডনিতে পাথর হওয়ার কারণ এবং প্রতিকারে করণীয়তা নিয়ে কিছু জরুরি তথ্য –

সাধারণত আমরা কিডনির খেয়াল রাখা বা যত্ন নেয়া বলতে শরীরের চাহিদা অনুযায়ী পানি পান, মূত্রজনিত কোনো সমস্যা হচ্ছে কি না সে খেয়াল রাখা কিংবা তলপেটে বা কোমরে একটানা ব্যথা থাকলে তা নিয়ে সতর্ক থাকা এতটুকুই জানি।

কিন্তু কিডনির নানা সমস্যা বিশেষ করে রেনাল স্টোনে আক্রান্ত হওয়া মানুষের সংখ্যা নেহাত কম নয়। আধুনিক জীবনযাপন, অনিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস ইত্যাদি রেনাল স্টোনের অন্যতম কারণ।

পাথর নানা আকারের হয়ে থাকে। সাধারণত, পাথরের সংখ্যা কম ও আকার খুব ছোট হলে তা কোনো রকম উপসর্গ ছাড়াই শরীরে থেকে যেতে পারে। ঔষুধের মাধ্যমে তা গলিয়ে দেয়া বা শরীরের বাইরে বের করে দেয়ার চেষ্টাও করা হয়। কিন্তু সংখ্যায় বেশি বা আকারে বড় হলে তা কিছু লক্ষণ প্রকাশ করে  এবং অস্ত্রোপচারের প্রয়োজনও হয়ে থাকে।

কিডনিতে পাথর সার্জারী এর অত্যাধুনিক চিকিৎসা সম্পর্কে ফ্রী পরামর্শ পেতে “সিরিয়াল বুক করুন

কিডনির পাথর হওয়ার কারণঃ

কিডনিতে পাথর তৈরির কারণ জানার জন্য অনেক গবেষণা হয়েছে এবং আজও চলছে কিন্তু কিডনিতে পাথর জমা হওয়া বা তৈরি হওয়ার প্রকৃত কারণ এখনও জানা যায়নি। তবে কিছু কিছু বিষয় রয়েছে যা কিডনিতে পাথর তৈরির কারণ হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। যেমন –

  • খাবারে অধিক লবণ।
  • দৈনিক অল্প পানি পান।
  • কম ফলফলাদি ও শাকসবজি খাওয়া।
  • বেশি বা খুব কম ক্যালসিয়ামযুক্ত খাবার খাওয়া।
  • কিডনিতে বারবার সংক্রমণ এবং যথোপযুক্ত চিকিৎসা গ্রহণ না করা।
  • যারা ক্যালসিয়াম জাতীয় ট্যাবলেট প্রচুর পরিমাণে খেয়ে থাকে তাদেরও পাথর হওয়ার আশঙ্কা বেশি।
  • যেসব লোকের ইনফ্লামেটরি বাওয়েল রোগ থাকে, তাদের কিডনির রোগ হওয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে।
  • কিডনিতে পাথর হওয়ার অন্যতম কারণ হলো লাল মাংস যেমন-গরু ও খাসির মাংস এবং পোলট্রির মাংস বেশি বেশি খাওয়া।
  • অনিয়ন্ত্রিত উচ্চরক্তচাপ অথবা মূত্রাশয়ে প্রদাহ কিংবা বাতের ব্যথার উপযুক্ত চিকিৎসা না করালে কিডনিতে পাথর হতে পারে।
  • টপিরামেট জাতীয় (এটা টোপাম্যাক্স হিসেবে পাওয়া যায়) ওষুধ কিডনিতে পাথর হওয়ার ঝুঁকি বাড়ায়। এগুলো সাধারণত মাইগ্রেনের রোগে ব্যবহার করা হয়।
  • অতিরিক্ত অক্সালেট জাতীয় শাকসবজি যেমন- পুঁই শাক, পালং শাক, বিট ইত্যাদি বেশি পরিমাণে খেলে কিডনিতে পাথর হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তবে পরিমিত পরিমাণে খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য ভালো।

কিডনিতে পাথর হওয়ার উপসর্গঃ

অধিকাংশ ক্ষেত্রে কোনো ধরনের উপসর্গ না-ও থাকতে পারে। তবে-

  • কাঁপুনি দিয়ে জ্বর।
  • ঘোলাটে এবং দূর্গন্ধযুক্ত প্রস্রাব।
  • ব্যথার সাথে সাথে বমি বমি ভাব বা বমি হতে পারে।
  • মাঝে মাঝে প্রস্রাবের সঙ্গে ছোট ছোট পাথর যেতে পারে।
  • রক্তবর্ণের লাল প্রস্রাব, ব্যথা, জ্বালাপোড়া থাকতে পারে।
  • ঘন ঘন প্রস্রাব হওয়া বা অল্প একটু প্রস্রাব হয়েই আর না হওয়া।
  • হঠাৎ তলপেটে বা পেটের নিচের দিকের দুই পাশে বা কোমরে তীব্র ব্যথা হওয়া।

কিডনির অবস্থানে (কোমরের পিছন দিকে) ব্যথা। এই ব্যথা তীব্র তবে সাধারণত খুব বেশি ক্ষণ স্থায়ী হয় না। ব্যথা কিডনির অবস্থান থেকে তলপেটেও ছড়িয়ে পড়তে পারে। তবে আকস্মিকভাবে পেট বা পিঠে ব্যথা অনুভব করা কিংবা প্রস্রাবের সময় ব্যথা অনুভব করা মানেই কিডনিতে পাথরের লক্ষণ নয়, তবে এসব ক্ষেত্রে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নেয়া প্রয়োজন, কারণ হতে পারে এটি মারাত্নক কোন রোগের লক্ষণ। এসব উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন এবং পরীক্ষা করে নিশ্চিত হয়ে নিন আসলেই কিডনিতে পাথরের জন্য এমন হচ্ছে কিনা।

কিডনিতে পাথরের চিকিত্‍সাঃ

কিডনির অবস্থানে ব্যথা এবং রক্তবর্ণের প্রসাব হলে চিকিৎসকরা সাধারণত দুটো সম্ভাবনার কথা চিন্তা করেন। একটি হল কিডনির ইনফেকশন, অন্যটি কিডনিতে পাথর। তাই কিডনির এক্সরে, আলট্রা সনোগ্রাম এবং প্রসাবের নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষার পরই উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

কখনও পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি আর যথাযথ ওষুধ খেলেই এই সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে অস্ত্রপচারই একমাত্র উপায়। কিডনিতে পাথর হলেই অপারেশন করতে হয় এমন ধারণা ঠিক নয়। চিকিৎসা নির্ভর করে পাথরের অবস্থান, আকার, ধরন, কিডনির কার্যকারিতা এবং প্রস্রাবের পথে প্রতিবন্ধকতার ওপর।

কিডনিতে পাথর সার্জারী এর অত্যাধুনিক চিকিৎসা সম্পর্কে ফ্রী পরামর্শ পেতে “সিরিয়াল বুক করুন

ছোট অবস্থায় ধরা পড়লে ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী ব্যথানাশক ওষুধ সেবন এবং পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি পান করার মাধ্যমে এই সমস্যা থেকে পরিত্রাণ পাওয়া সম্ভব, কারণ ছোট আকৃতির পাথর  সাধারণত প্রস্রাবের সাথে বের হয়ে যায়। 

কিছু ক্ষেত্রে পাথর অপসারণের জন্য অস্ত্রোপচার বা যন্ত্রের মাধ্যমে পাথর ভেঙে বের করা হয়। কিছু ক্ষেত্রে অস্ত্রোপচার না করে ওষুধ সেবন করার মাধ্যমে পাথর বের করা বা পাথর আর বড় না হওয়ার ব্যবস্থা করা যেতে পারে।

অস্ত্রোপচারের পরও আবার পাথর হতে পারে। সে ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদী ওষুধ সেবন করলে সুফল পাওয়া যেতে পারে। মনে রাখা প্রয়োজন, দৈনিক ৮-১০ গ্লাস বিশুদ্ধ পানি পান করলে শরীর থেকে উপযুক্ত পরিমাণে বর্জ্য পদার্থ প্রস্রাবের সাথে বের হয়ে যায় এবং কিডনিতে পাথরের ঝুঁকি এবং জটিলতা কে কমিয়ে আনে।

উপসংহারঃ

অনেক রোগীই ওষুধ চান, যা খেলে পাথর গলে বের হয়ে যাবে। সত্যিকার অর্থে এমন কোনো কার্যকরী ওষুধই নেই। তাই একবার পাথর হলে, ছোট অবস্থায় তা নিজেই বের হয়ে যেতে পারে, অন্যথায় অপারেশনের মাধ্যমে তাকে বের করে ফেলতে হবে। কিডনির ভেতর পাথর থাকলে কিডনির ক্ষতি হয়। পাথর যাতে কিডনিতে না হতে পারে সে ব্যবস্থা নেওয়া অত্যাবশ্যক। 

পাথর যদি একের অধিক হয়ে থাকে এবং তা কিডনির গভীরে থাকে বা কিডনিতে পাথর কোন ধরনের চাপ সৃষ্টি না করে সেসব ক্ষেত্রে কী ধরনের চিকিৎসা রোগীর জন্য উপকারী হবে তা বিশেষজ্ঞ ডাক্তারই বলতে পারবেন। তাই যে কোন সমস্যাতেই হাতুড়ে কবিরাজের পরামর্শমত আজেবাজে চিকিৎসা করিয়ে নিজের ক্ষতি ডেকে আনবেন না। সময় থাকতে সচেতন হোন, সুস্থ থাকুন।

আরও বিস্তারিত জানতে এবং সরাসরি ডাক্তারের পরামর্শের জন্য কল করুন – +8801949605525

ডেঙ্গু জ্বরের কারণ , লক্ষণ ও চিকিৎসা

সিরিয়ালের জন্য যোগাযোগ করুন -

ডেঙ্গু জ্বরের কারণ , লক্ষণ ও চিকিৎসা

ডেঙ্গু জ্বর, যাকে প্রায়ই ডেঙ্গু বলা হয়, এটি একটি মশা-বাহিত ভাইরাল সংক্রমণ যা বিশ্বের অনেক অংশে, বিশেষ করে গ্রীষ্মমন্ডলীয় এবং উপ-ক্রান্তীয় অঞ্চলে একটি উল্লেখযোগ্য স্বাস্থ্য হুমকির সৃষ্টি করে। এটি অনুমান করা হয় যে প্রতি বছর 390 মিলিয়নেরও বেশি মানুষ ডেঙ্গু ভাইরাসে আক্রান্ত হয়। ডেঙ্গু জ্বরের কারণ, লক্ষণ এবং চিকিৎসা বোঝা প্রতিরোধ ও কার্যকর ব্যবস্থাপনার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

ডেঙ্গু জ্বরের কারণ

ডেঙ্গু জ্বর ডেঙ্গু ভাইরাস দ্বারা সৃষ্ট হয়, যা প্রাথমিকভাবে সংক্রামিত স্ত্রী এডিস মশা, বিশেষ করে এডিস ইজিপ্টাই কামড়ের মাধ্যমে মানুষের মধ্যে ছড়ায়। এই মশাগুলি সাধারণত শহুরে এবং আধা-শহুরে এলাকায় পাওয়া যায়, পুরানো টায়ার, ফুলের পাত্র এবং বৃষ্টিতে ভরা পাত্রের মতো স্থির জলের উত্সগুলিতে বংশবৃদ্ধি করে।

ডেঙ্গু ভাইরাসের চারটি স্বতন্ত্র সেরোটাইপ রয়েছে (DEN-1, DEN-2, DEN-3 এবং DEN-4)। একটি সেরোটাইপের সংক্রমণ সেই নির্দিষ্ট সেরোটাইপের আজীবন অনাক্রম্যতা প্রদান করে, কিন্তু পরবর্তীতে অন্যান্য সেরোটাইপের সংক্রমণের ফলে মারাত্মক ডেঙ্গু হতে পারে, যা ডেঙ্গু হেমোরেজিক ফিভার বা ডেঙ্গু শক সিন্ড্রোম নামেও পরিচিত।

ডেঙ্গু জ্বরের লক্ষণ

ডেঙ্গু জ্বর হালকা থেকে গুরুতর পর্যন্ত হতে পারে এবং এর লক্ষণগুলি সাধারণত সংক্রামিত মশা কামড়ানোর 4-10 দিন পরে দেখা যায়। সাধারণ লক্ষণগুলির মধ্যে রয়েছে:

উচ্চ জ্বর: আকস্মিক এবং উচ্চ-গ্রেডের জ্বর ডেঙ্গুর একটি বৈশিষ্ট্য। এটি প্রায়ই গুরুতর মাথাব্যথা দ্বারা অনুষঙ্গী হয়।

গুরুতর জয়েন্ট এবং পেশী ব্যথা: পেশী এবং জয়েন্টগুলিতে তীব্র ব্যথার কারণে ডেঙ্গুকে কখনও কখনও “ব্রেকবোন ফিভার” বলা হয়।

ত্বকের ফুসকুড়ি: একটি ফুসকুড়ি, যা চুলকানি হতে পারে, প্রায়শই জ্বর শুরু হওয়ার কয়েক দিন পরে দেখা যায়। এটি সাধারণত বাহু ও পায়ে শুরু হয় এবং শরীরের বাকি অংশে ছড়িয়ে পড়তে পারে।

চোখের পিছনে ব্যথা: চোখের সকেটে ব্যথা, প্রায়শই গভীর ব্যথা হিসাবে বর্ণনা করা হয়, এটি আরেকটি সাধারণ লক্ষণ।

রক্তপাত: কিছু ডেঙ্গু রোগীর হালকা রক্তপাত হতে পারে, যেমন নাক থেকে রক্তপাত, মাড়ি থেকে রক্তপাত বা সহজে ঘা।

বমি বমি ভাব এবং বমি: বমি বমি ভাব, বমি এবং পেটে ব্যথাও সাধারণ লক্ষণ।

ক্লান্তি: চরম ক্লান্তি এবং দুর্বলতা প্রায়শই জ্বর কমার পরে কয়েক সপ্তাহ ধরে থাকে।

গুরুতর ক্ষেত্রে, এই রোগটি ডেঙ্গু হেমোরেজিক ফিভার বা ডেঙ্গু শক সিন্ড্রোমে পরিণত হতে পারে, যা জীবন-হুমকি হতে পারে এবং অবিলম্বে চিকিৎসার প্রয়োজন। গুরুতর ডেঙ্গুর সতর্কতা লক্ষণগুলির মধ্যে রয়েছে তীব্র পেটে ব্যথা, অবিরাম বমি, দ্রুত শ্বাস, মাড়ি থেকে রক্তপাত, ক্লান্তি এবং অস্থিরতা।

রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা

ডেঙ্গু জ্বর নির্ণয়ের জন্য সাধারণত ক্লিনিকাল মূল্যায়ন এবং পরীক্ষাগার পরীক্ষার সমন্বয় জড়িত থাকে। রক্ত পরীক্ষা, যেমন ডেঙ্গু NS1 অ্যান্টিজেন পরীক্ষা বা PCR (পলিমারেজ চেইন প্রতিক্রিয়া) পরীক্ষা, ভাইরাসের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে পারে।

ডেঙ্গু জ্বরের চিকিত্সা প্রাথমিকভাবে সহায়ক, কারণ এই রোগের জন্য কোনও নির্দিষ্ট অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ নেই। নিম্নলিখিত পদক্ষেপগুলি প্রায়শই নেওয়া হয়:

তরল প্রতিস্থাপন: পর্যাপ্ত হাইড্রেশন বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ডিহাইড্রেশন প্রতিরোধ করার জন্য রোগীদের ওরাল রিহাইড্রেশন সলিউশন, পানি এবং পরিষ্কার তরল পান করতে উৎসাহিত করা হয়।

ব্যথা এবং জ্বর ব্যবস্থাপনা: ওভার-দ্য-কাউন্টার ব্যথা উপশমকারী যেমন অ্যাসিটামিনোফেন (প্যারাসিটামল) জ্বর কমাতে এবং ব্যথা উপশম করতে ব্যবহৃত হয়। আইবুপ্রোফেনের মতো নন-স্টেরয়েডাল অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি ড্রাগ (NSAIDs) এড়িয়ে চলুন, কারণ তারা রক্তপাতের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

বিশ্রাম: পুনরুদ্ধারের জন্য পর্যাপ্ত বিশ্রাম অপরিহার্য, বিশেষত ডেঙ্গু চরম ক্লান্তি সৃষ্টি করতে পারে।

হাসপাতালে ভর্তি: গুরুতর ডেঙ্গুতে আক্রান্ত রোগীদের, পেটে ব্যথা, বমি এবং রক্তপাতের মতো সতর্কতা লক্ষণ দ্বারা চিহ্নিত করা হয়, তাদের প্রায়ই নিবিড় পর্যবেক্ষণ এবং শিরায় তরল গ্রহণের জন্য হাসপাতালে ভর্তির প্রয়োজন হয়।

 হাসপাতালে ভর্তির জন্য কল করুন :  +8801949605525

ডেঙ্গু জ্বর প্রতিরোধ

যেসব এলাকায় ডেঙ্গুর প্রকোপ রয়েছে সেখানে প্রতিরোধই মুখ্য। সংক্রমণের ঝুঁকি কমাতে এখানে কিছু ব্যবস্থা রয়েছে:

মশা নিয়ন্ত্রণ: আপনার বাড়ির আশেপাশে মশার প্রজনন স্থানগুলিকে নির্মূল করুন যা স্থির জল সংগ্রহ করে এমন পাত্রগুলি খালি করে।

প্রতিরক্ষামূলক পোশাক: লম্বা-হাতা শার্ট, লম্বা প্যান্ট পরুন এবং বাইরে থাকার সময় মশা তাড়ানোর ওষুধ ব্যবহার করুন, বিশেষ করে মশার কার্যকলাপের সময় (সকালে এবং শেষ বিকেলে)।

মশারি ব্যবহার: রাতে মশার কামড় রোধ করতে মশারি ব্যবহার করুন।

সম্প্রদায়ের প্রচেষ্টা: মশার প্রজনন স্থানগুলি হ্রাস করতে এবং ডেঙ্গু প্রতিরোধ সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে সম্প্রদায়গুলি একসাথে কাজ করতে পারে।

টিকাকরণ: কিছু অঞ্চলে, একটি ডেঙ্গু ভ্যাকসিন পাওয়া যায় এবং নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠীর জন্য সুপারিশ করা যেতে পারে।

উপসংহার

ডেঙ্গু জ্বর বিশ্বের অনেক অংশে একটি উল্লেখযোগ্য জনস্বাস্থ্য উদ্বেগ হিসাবে রয়ে গেছে। রোগটি ঘটলে প্রতিরোধ এবং পরিচালনা উভয়ের জন্যই এর কারণ, লক্ষণ এবং চিকিত্সা বোঝা গুরুত্বপূর্ণ। যদিও ডেঙ্গু একটি গুরুতর এবং এমনকি প্রাণঘাতী অসুস্থতা হতে পারে, তবে প্রাথমিক রোগ নির্ণয় এবং উপযুক্ত চিকিৎসা পরিচর্যা সম্পূর্ণ পুনরুদ্ধারের সম্ভাবনাকে উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত করতে পারে।

ডেঙ্গু জ্বরের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে মশার সংখ্যা নিয়ন্ত্রণ এবং প্রতিরোধ সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য জনস্বাস্থ্যের প্রচেষ্টা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।