বাংলাদেশে CBC টেস্টের দাম কত? জানুন বিস্তারিত (CBC Test Price in Bangladesh)

বাংলাদেশে CBC টেস্টের দাম কত? জানুন বিস্তারিত (CBC Test Price in Bangladesh)

বাংলাদেশে CBC টেস্টের দাম কত? জানুন বিস্তারিত (CBC Test Price in Bangladesh) শরীর একটু দুর্বল লাগলেই ডাক্তাররা যে টেস্টটি সবচেয়ে বেশি করতে দেন, সেটি হলো CBC বা Complete Blood Count। কিন্তু রক্ত পরীক্ষা করার আগে অনেকেই ইন্টারনেটে খোঁজেন, বাংলাদেশে CBC টেস্টের দাম কত?

শরীর একটু দুর্বল লাগলেই ডাক্তাররা যে টেস্টটি সবচেয়ে বেশি করতে দেন, সেটি হলো CBC বা Complete Blood Count। কিন্তু রক্ত পরীক্ষা করার আগে অনেকেই ইন্টারনেটে খোঁজেন, বাংলাদেশে CBC টেস্টের দাম কত?

আজকের ব্লগে আমরা জানবো বাংলাদেশে বিভিন্ন ডায়াগনস্টিক সেন্টারে সিবিসি টেস্টের খরচ, এই পরীক্ষাটি কেন করা হয়, এর সাধারণ বা নরমাল রেঞ্জ এবং রিপোর্ট বোঝার সহজ উপায়।

CBC টেস্ট কি এবং এটি কেন করা হয়?

CBC-এর পূর্ণরূপ হলো Complete Blood Count (কমপ্লিট ব্লাড কাউন্ট)। এটি মূলত একটি সাধারণ রক্ত পরীক্ষা (Blood Test), যা আপনার শরীরে রক্তের সার্বিক অবস্থা এবং যেকোনো রোগের প্রাথমিক লক্ষণ বুঝতে সাহায্য করে।

ডাক্তাররা সাধারণত নিচের সমস্যাগুলো নিশ্চিত হতে সিবিসি টেস্টের পরামর্শ দিয়ে থাকেন:

বাংলাদেশে CBC টেস্টের দাম (CBC Test Price in Bangladesh)

বাংলাদেশে হাসপাতাল বা ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ধরন (সরকারি বনাম বেসরকারি) এবং অঞ্চলভেদে সিবিসি টেস্টের দামে কিছুটা পার্থক্য হয়ে থাকে।

সাধারণত বাংলাদেশে একটি CBC টেস্টের খরচ ১৫০ টাকা থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত হয়ে থাকে। নিচে হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার ভেদে একটি আনুমানিক খরচের তালিকা দেওয়া হলো:

হাসপাতাল / ডায়াগনস্টিক সেন্টারটেস্টের নামআনুমানিক খরচ (টাকা)
সরকারি হাসপাতাল (যেমন: DMCH, BSMMU, NILMRC)CBC৳১৫০ - ৳২০০
পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টার (Popular Diagnostic)CBC৳৪০০
ল্যাবএইড ডায়াগনস্টিক (Labaid)CBC৳৪০০
ইবনে সিনা ডায়াগনস্টিক (Ibn Sina)CBC৳৪০০
আইসিডিডিআর,বি (icddr,b)CBC / Hemogram৳৪০০
আরোগ্য অনলাইন ডায়াগনস্টিক (হোম কালেকশন)CBC৳৪০০
স্কয়ার বা ইউনাইটেড হাসপাতাল (প্রিমিয়াম হাসপাতাল)CBC৳৫০০ - ৳৮০০+

প্রো-টিপ: আপনি যদি বেশ কয়েকটি রক্ত পরীক্ষা একসঙ্গে করতে চান, তবে বিভিন্ন Health Package বেছে নিতে পারেন। প্যাকেজে সিবিসি টেস্ট করালে খরচ অনেকটাই সাশ্রয় হয়।

সিবিসি টেস্টে মূলত কী কী পরীক্ষা করা হয়?

একটি সিবিসি টেস্টে মূলত তিনটি প্রধান উপাদান পরীক্ষা করা হয়:

  • লোহিত রক্তকণিকা (Red Blood Cells - RBC): এটি শরীরে অক্সিজেন সরবরাহ করে। এর মধ্যে হিমোগ্লোবিন (Hemoglobin) থাকে, যা কমে গেলে মানুষ অ্যানিমিয়া বা রক্তশূন্যতায় ভোগে।
  • শ্বেত রক্তকণিকা (White Blood Cells - WBC): এটি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা। শরীরে কোনো ইনফেকশন হলে এর সংখ্যা সাধারণত অনেক বেড়ে যায়।
  • প্লাটিলেট বা অণুচক্রিকা (Platelets): এটি রক্ত জমাট বাঁধতে সাহায্য করে। ডেঙ্গু জ্বর হলে প্লাটিলেট দ্রুত কমে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে।

CBC টেস্টের নরমাল রেঞ্জ (Normal Range)

টেস্ট করার পর রিপোর্ট হাতে পেলে আপনি নিজেই নিচের চার্টটির সাথে মিলিয়ে প্রাথমিক ধারণা নিতে পারেন:

  • পুরুষ: ১৩.৮ থেকে ১৭.২ g/dL
  • নারী: ১২.১ থেকে ১৫.১ g/dL

(দ্রষ্টব্য: ল্যাবরেটরি এবং বয়সভেদে এই রেঞ্জ সামান্য পরিবর্তিত হতে পারে। সঠিক ব্যাখ্যার জন্য অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।)

CBC টেস্টের জন্য কি খালি পেটে থাকা প্রয়োজন?

না, CBC টেস্টের জন্য সাধারণত খালি পেটে থাকার প্রয়োজন নেই। দিনের যেকোনো সময় আপনি স্বাভাবিক খাবার খেয়েও এই টেস্টটি করাতে পারবেন। তবে চিকিৎসকের পরামর্শে যদি সিবিসি-এর সাথে সুগার বা লিপিড প্রোফাইল টেস্টও করতে হয়, তবেই কেবল খালি পেটে (৮-১২ ঘণ্টা ফাস্টিং) ল্যাবে যেতে হবে।

শেষ কথা

আপনার সুস্বাস্থ্য বজায় রাখতে এবং যেকোনো রোগ শুরুতেই শনাক্ত করতে নিয়মিত ফুল বডি চেকআপের অংশ হিসেবে একটি সাধারণ CBC টেস্ট বেশ কার্যকরী। দেশের সরকারি হাসপাতালে নামমাত্র খরচে এবং বেসরকারি নির্ভরযোগ্য ল্যাবগুলোতে মাত্র ৪০০ টাকায় এই পরীক্ষাটি করিয়ে নিতে পারেন।

আপনার কি সম্প্রতি করা সিবিসি রিপোর্টের কোনো তথ্য বুঝতে সমস্যা হচ্ছে? নিচে কমেন্ট করে আমাদের জানান, অথবা সরাসরি একজন অভিজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ নিন।

সকল ব্লগ পোস্ট সমূহ -

ঢাকার সেরা চর্ম ও যৌন রোগ বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের তালিকা।

ঢাকার সেরা ১০ জন চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ ডাক্তার – ঠিকানা, যোগ্যতা ও সিরিয়াল

প্রকাশিত: ১৭ নভেম্বর ২০২২
সর্বশেষ আপডেট: ১৫ আগস্ট ২০২৬

ঢাকার সেরা ১০ জন চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ ডাক্তার – ঠিকানা, যোগ্যতা ও সিরিয়াল

চর্মরোগ বা ত্বকের সমস্যা খুবই সাধারণ। ব্রণ, একজিমা, অ্যালার্জি, ফাঙ্গাল ইনফেকশন, সোরিয়াসিস, চুল পড়া, খুশকি, মেছতা কিংবা ত্বকে দীর্ঘদিনের চুলকানি—এসব সমস্যার সঠিক কারণ নির্ণয় করে চিকিৎসা নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।

অনেক সময় একই ধরনের উপসর্গের পেছনে ভিন্ন ভিন্ন রোগ থাকতে পারে। তাই নিজের মতো করে স্টেরয়েড ক্রিম, অ্যান্টিবায়োটিক বা অন্য কোনো ওষুধ ব্যবহার না করে একজন যোগ্য ও নিবন্ধিত চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া নিরাপদ।

এই গাইডে ঢাকার বিভিন্ন এলাকার কয়েকজন অভিজ্ঞ চর্ম ও যৌনরোগ বিশেষজ্ঞ (Dermatologist)-এর পরিচয়, শিক্ষাগত যোগ্যতা, চেম্বারের ঠিকানা এবং সিরিয়াল সংক্রান্ত তথ্য দেওয়া হলো।

গুরুত্বপূর্ণ: “সেরা” নির্বাচনটি কোনো সরকারি বা একক র‍্যাংকিং নয়। চিকিৎসকের অভিজ্ঞতা, বিশেষজ্ঞতা, রোগের ধরন, চেম্বারের অবস্থান ও রোগীর প্রয়োজন অনুযায়ী উপযুক্ত ডাক্তার নির্বাচন করা উচিত। যাওয়ার আগে চেম্বারের সময় ও সিরিয়াল নম্বর ফোন করে নিশ্চিত করুন।

ঢাকার সেরা ১০ চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ ডাক্তার

চর্ম-যৌন এলার্জি ও লেজার বিশেষজ্ঞ মেজর ডাঃ গুল-এ-জান্নাত (অবঃ) এমবিবিএস, ডিডিভি (চর্ম-যৌন) গ্রেডেড স্পেশালিষ্ট ইন ডার্মাটোলজি (এএফএআই) প্রাক্তন চর্ম ও যৌন রোগ বিশেষজ্ঞ সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল, (সিএমএইচ), ঢাকা। সহকারী অধ্যাপক, আশিয়ান মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, ঢাকা বিএমডিসি রেজি: নং-58868

মেজর ডাঃ গুল-এ-জান্নাত (অবঃ)

চর্ম-যৌন এলার্জি ও লেজার বিশেষজ্ঞ।

এমবিবিএস, ডিডিভি (চর্ম-যৌন) গ্রেডেড স্পেশালিষ্ট ইন ডার্মাটোলজি (এএফএআই)

প্রাক্তন চর্ম ও যৌন রোগ বিশেষজ্ঞ সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল, (সিএমএইচ), ঢাকা।

সহকারী অধ্যাপক, আশিয়ান মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, ঢাকা

বিএমডিসি রেজি: নং-58868

ডাঃ লুবনা খন্দকার

ডাঃ লুবনা খন্দকার

ত্বক, চুল, নখ, এসটিডি, কসমেটোলজি, ডার্মাটোসার্জারি এবং লেজার চিকিৎসা বিশেষজ্ঞ
এমবিবিএস, এমপিএইচ, ডিডিভি (বিএসএমএমইউ), এমসিপিএস, এফসিপিএস (চর্মরোগ ও ভেনারোলজি)
কিউটেনিয়াস এবং লেজার সার্জারিতে ফেলোশিপ প্রশিক্ষণ (থাইল্যান্ড)
কনসালটেন্ট, চর্মরোগ ও ভেনারোলজি
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতাল
ডাঃ হাসান মাহমুদ এমবিবিএস, এমডি (চর্ম ও যৌন)। কনসালটেন্ট- কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল, ঢাকা। বিএমডিসি রেজিঃ নং- এ-৫২৬৫২ চর্ম ও যৌন রোগ বিশেষজ্ঞ

ডাঃ হাসান মাহমুদ

চর্ম, যৌন ও এলার্জিরোগ বিশেষজ্ঞ

 

এমবিবিএস, এমডি (চর্ম ও যৌন)। কনসালটেন্ট- কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল, ঢাকা।

বিএমডিসি রেজিঃ নং- এ-৫২৬৫২

ডাঃ মোঃ মোশাররফ হোসেন ত্বক, অ্যালার্জি, যৌন বিশেষজ্ঞ এমবিবিএস, ডিডিভি, বিসিএস (স্বাস্থ্য) সিনিয়র কনসালটেন্ট প্রাক্তন চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ এবং ভেনারিয়াল বিশেষজ্ঞ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং বিএসএমএমইউ (পিজি হাসপাতাল), ঢাকা।

ডাঃ মোঃ মোশাররফ হোসেন

ত্বক, অ্যালার্জি, যৌন বিশেষজ্ঞ


এমবিবিএস, ডিডিভি, বিসিএস (স্বাস্থ্য)

সিনিয়র কনসালটেন্ট প্রাক্তন চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ এবং ভেনারিয়াল বিশেষজ্ঞ ঢাকা

মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং বিএসএমএমইউ (পিজি হাসপাতাল), ঢাকা।

ডঃ সাইফুল ইসলাম তুহিন এমবিবিএস (এসএসএমসি), পিজিটি (চর্ম ও যৌন) এমডি(ফিজিকেল মেডিসিন- অন কোর্স) বিএসএমএমইউ, ঢাকা। মেডিকেল অফিসার বিজিএমইএ মেডিকেল সেন্টার এন্ড হাসপাতাল।

সহকারী অধ্যাপক ডাঃ মোঃ মীর হোসেন

চর্ম, যৌন ও এলার্জিরোগ বিশেষজ্ঞ

এমবিবিএস (ঢাকা) ডিডিভি, (বিএসএমএমইউ/পিজি হাসপাতাল)

প্রাক্তন সহকারী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান (ডার্মাটোলজি)

শেখ সায়েরা খাতুন মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল।

অধ্যাপক ডাঃ মোঃ আব্দুল মান্নান চর্ম , অ্যালার্জি ও যৌন রোগ বিশেষজ্ঞ এমবিবিএস, এমডি, স্কিন, ভিডি, সেক্স এবং অ্যালার্জি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক- ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, ঢাকা।

অধ্যাপক ডাঃ মোঃ আব্দুল মান্নান

চর্ম , অ্যালার্জি ও যৌন রোগ বিশেষজ্ঞ

এমবিবিএস, এমডি, স্কিন, ভিডি, সেক্স এবং অ্যালার্জি বিশেষজ্ঞ

অধ্যাপক- ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, ঢাকা।

ডঃ সাইফুল ইসলাম তুহিন এমবিবিএস (এসএসএমসি), পিজিটি (চর্ম ও যৌন) এমডি(ফিজিকেল মেডিসিন- অন কোর্স) বিএসএমএমইউ, ঢাকা। মেডিকেল অফিসার বিজিএমইএ মেডিকেল সেন্টার এন্ড হাসপাতাল।

কর্ণেল ডা. মো. ইমরানুল হাসান মুরাদ

চর্ম, এলার্জি ও যৌন রোগ বিশেষজ্ঞ

এমবিবিএস, ডিডিভি, এফসিপিএস (ডার্মাটোলজি) ফেলোশিপ ট্রেনিং ইন ডার্মাটোলজি

ক্লাসিফাইড স্পেশালিষ্ট ইন ডার্মাটোলজি বিভাগ

সিএমএইচ, ঢাকা সেনানিবাস।

Doctor

ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. মো. সিরাজুল ইসলাম খান

ত্বক, অ্যালার্জি, যৌন বিশেষজ্ঞ

এমবিবিএস, ডিডিভি, এমসিপিএস, এফসিপিএস

সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল (সিএমএইচ), ঢাকা।

ডা. নাজমা আহ্‌মেদ ------------------------- এমবিবিএস (ঢাকা), ডিডিভি (বিএসএমএমইউ) (কেমিক্যাল পিলিং, মাইক্রোনিডলিং, বোটক্স, ফিলার পিআরপি) সহকারী অধ্যাপক, চর্ম ও যৌন রোগ বিভাগ বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (সাবেক-পিজি হাসপাতাল)

ডা. নাজমা আহমেদ

চর্ম, যৌন,  এবং এ্যালার্জি রোগ বিশেষজ্ঞ

এমবিবিএস (ঢাকা), ডিডিডি (বিএসএমএমইউ)

কনসালটেন্ট, চর্ম ও যৌন রোগ বিভাগ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় 

ডাঃ স্বাগতা সেন Dr.Swagota Sen এমবিবিএস (আর.ইউ), এমসিপিএস (ডার্মাটোলজী) এফসিপিএস (ডার্মাটোলজী এন্ড ভেনেরোলজী) সহকারী অধ্যাপক চর্ম ও যৌনরোগ বিভাগ জেড এইচ সিকদার মেডিকেল কলেজ, ঢাকা।

ডাঃ স্বাগতা সেন

চর্ম ও যৌনরোগ বিশেষজ্ঞ

এমবিবিএস (আর.ইউ), এমসিপিএস (ডার্মাটোলজী)
এফসিপিএস (ডার্মাটোলজী এন্ড ভেনেরোলজী)
সহকারী অধ্যাপক
চর্ম ও যৌনরোগ বিভাগ
জেড এইচ সিকদার মেডিকেল কলেজ, ঢাকা।

আরো পড়ুন : ঢাকার সকল লিভার এবং গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি বিশেষজ্ঞ ডাক্তার এর তালিকা

কোন কোন সমস্যায় চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের কাছে যাবেন?

চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ শুধু ত্বকের সমস্যা নয়, প্রয়োজন অনুযায়ী চুল ও নখের সমস্যাও নির্ণয় ও চিকিৎসা করেন। সাধারণ কিছু সমস্যা হলো:

ব্রণ ও ব্রণের দাগ

মুখ, বুক বা পিঠে বারবার ব্রণ হওয়া, ব্রণের কারণে কালো দাগ বা গর্ত তৈরি হওয়া কিংবা ব্রণ কমাতে ব্যবহৃত সাধারণ পণ্য কাজ না করলে ডার্মাটোলজিস্টের পরামর্শ নেওয়া ভালো।

একজিমা

ত্বক অতিরিক্ত শুষ্ক হয়ে যাওয়া, লালচে হওয়া, চুলকানি, ফেটে যাওয়া বা বারবার একই জায়গায় প্রদাহ হওয়া একজিমার লক্ষণ হতে পারে।

ফাঙ্গাল ইনফেকশন

দাদ, গোলাকার লালচে দাগ, চুলকানি বা শরীরের বিভিন্ন অংশে ছত্রাকের সংক্রমণ হলে সঠিক রোগ নির্ণয় জরুরি।

সোরিয়াসিস

ত্বকে মোটা লালচে দাগ এবং তার ওপর সাদা বা রুপালি খোসা তৈরি হলে সোরিয়াসিস হতে পারে। এটি দীর্ঘমেয়াদি রোগ এবং নিয়মিত চিকিৎসার প্রয়োজন হতে পারে।

অ্যালার্জি ও ডার্মাটাইটিস

কোনো প্রসাধনী, সাবান, ধাতু, রাসায়নিক বা অন্য কোনো উপাদানের সংস্পর্শে ত্বকে র‍্যাশ, লালচে ভাব, জ্বালাপোড়া বা চুলকানি হলে ডার্মাটোলজিস্টের পরামর্শ প্রয়োজন হতে পারে।

চুল পড়া ও খুশকি

অতিরিক্ত চুল পড়া, মাথার ত্বকে চুলকানি, খুশকি, স্ক্যাল্পে ঘা বা প্রদাহের কারণ জানতে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া যেতে পারে।

মেছতা ও ত্বকের দাগ

মুখে বাদামি বা কালচে দাগ, মেছতা, রোদে ত্বকের রঙের পরিবর্তন বা অন্যান্য পিগমেন্টেশন সমস্যার ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসা প্রয়োজন হতে পারে।


ঢাকায় কোথায় চর্মরোগের চিকিৎসা পাওয়া যায়?

ঢাকার বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে চর্ম ও যৌনরোগ বিভাগ রয়েছে। রোগীর প্রয়োজন অনুযায়ী ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (BSMMU), বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতাল ও বিশেষায়িত ক্লিনিকে ডার্মাটোলজি সেবা নেওয়া যায়।

চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার আগে অবশ্যই তাঁর বর্তমান চেম্বার, ভিজিটিং সময় ও সিরিয়াল ব্যবস্থা ফোন করে নিশ্চিত করুন। কারণ চিকিৎসকের চেম্বার ও সময় পরিবর্তিত হতে পারে।


চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের চিকিৎসা নিতে কত টাকা খরচ হতে পারে?

চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের চিকিৎসার খরচ হাসপাতাল, চিকিৎসকের অভিজ্ঞতা, রোগের ধরন এবং প্রয়োজনীয় পরীক্ষার ওপর নির্ভর করে।

সাধারণভাবে:

  • প্রথমবার চিকিৎসকের পরামর্শ: প্রায় ৮০০–২,০০০ টাকা বা তার বেশি হতে পারে।
  • ফলো-আপ: প্রায় ৫০০–১,০০০ টাকা বা তার বেশি হতে পারে।
  • স্কিন স্ক্র্যাপিং/অন্যান্য পরীক্ষা: পরীক্ষার ধরন অনুযায়ী খরচ আলাদা।
  • বায়োপসি বা বিশেষ পরীক্ষা: প্রয়োজন অনুযায়ী খরচ পরিবর্তিত হয়।
  • লেজার ও কসমেটিক চিকিৎসা: চিকিৎসার ধরন ও সেশনের সংখ্যার ওপর ভিত্তি করে খরচ অনেকটা পরিবর্তিত হতে পারে।

নোট: এগুলো আনুমানিক খরচ। নির্দিষ্ট ফি জানার জন্য সংশ্লিষ্ট হাসপাতাল বা চিকিৎসকের চেম্বারে যোগাযোগ করুন।


কখন দ্রুত চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের কাছে যাবেন?

নিচের কোনো সমস্যা হলে চিকিৎসা নিতে দেরি না করাই ভালো:

  • দীর্ঘদিন ধরে চুলকানি বা র‍্যাশ থাকলে
  • ত্বকের দাগ দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে
  • বারবার ফাঙ্গাল ইনফেকশন হলে
  • অস্বাভাবিকভাবে চুল পড়তে থাকলে
  • দীর্ঘদিনের বা গুরুতর ব্রণ হলে
  • ত্বকে নতুন কোনো অস্বাভাবিক গুটি বা ক্ষত দেখা দিলে
  • কোনো ক্ষত দীর্ঘদিনেও না শুকালে
  • ত্বকের সমস্যা বারবার ফিরে এলে
  • কোনো ওষুধ বা প্রসাধনী ব্যবহারের পর তীব্র অ্যালার্জি হলে

তীব্র অ্যালার্জির সঙ্গে শ্বাসকষ্ট, মুখ/জিহ্বা ফুলে যাওয়া বা অজ্ঞান হওয়ার মতো উপসর্গ থাকলে এটি জরুরি অবস্থা হতে পারে—দ্রুত জরুরি চিকিৎসা নিন।


চর্মরোগের ক্ষেত্রে কী করবেন না?

ত্বকের সমস্যা হলে অনেকেই পরিচিত কারও পরামর্শে বা ফার্মেসি থেকে ওষুধ কিনে ব্যবহার শুরু করেন। বিশেষ করে স্টেরয়েডযুক্ত ক্রিম দীর্ঘদিন নিজের ইচ্ছায় ব্যবহার করা উচিত নয়।

এছাড়া:

  • রোগ না জেনে অ্যান্টিবায়োটিক খাবেন না।
  • অজানা ক্রিম বা মিশ্রিত ক্রিম ব্যবহার করবেন না।
  • ফাঙ্গাল ইনফেকশনে নিজের মতো করে স্টেরয়েড ক্রিম ব্যবহার করবেন না।
  • অন্যের প্রেসক্রিপশন নিজের ক্ষেত্রে অনুসরণ করবেন না।
  • কসমেটিক বা লেজার চিকিৎসা নেওয়ার আগে চিকিৎসকের যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা যাচাই করুন।

চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ সম্পর্কে সাধারণ প্রশ্ন

১. চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ কী?

চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ বা Dermatologist হলেন এমন চিকিৎসক যিনি ত্বক, চুল ও নখের বিভিন্ন রোগের নির্ণয় ও চিকিৎসায় বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত। চর্ম ও যৌনরোগ বিষয়ে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত বিশেষজ্ঞরা যৌনরোগের চিকিৎসাও করে থাকেন।

২. ব্রণের জন্য কি ডার্মাটোলজিস্ট দেখানো উচিত?

হ্যাঁ। সাধারণ ব্রণ ছাড়াও যদি ব্রণ দীর্ঘদিন থাকে, ব্যথাযুক্ত হয়, দাগ বা গর্ত তৈরি করে অথবা সাধারণ চিকিৎসায় না কমে, তাহলে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া ভালো।

৩. চর্মরোগের জন্য কী কী পরীক্ষা করা হতে পারে?

রোগের ধরন অনুযায়ী চিকিৎসক কোনো পরীক্ষা ছাড়াই রোগ নির্ণয় করতে পারেন। আবার প্রয়োজন হলে স্কিন স্ক্র্যাপিং, অ্যালার্জি টেস্ট, বায়োপসি বা রক্ত পরীক্ষা করার পরামর্শ দিতে পারেন।

৪. ফাঙ্গাল ইনফেকশন হলে কী করবেন?

ফাঙ্গাল ইনফেকশনের ক্ষেত্রে সঠিক রোগ নির্ণয় গুরুত্বপূর্ণ। নিজের মতো করে স্টেরয়েড বা অ্যান্টিফাঙ্গাল ওষুধ দীর্ঘদিন ব্যবহার না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ভালো।

৫. চুল পড়ার জন্য কি চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ দেখানো যায়?

অবশ্যই। চুল ও মাথার ত্বকের বিভিন্ন সমস্যার চিকিৎসা ডার্মাটোলজিস্টরা করে থাকেন। অতিরিক্ত চুল পড়ার কারণ নির্ণয়ের জন্য প্রয়োজন অনুযায়ী পরীক্ষা করা হতে পারে।


শেষ কথা

ত্বকের সমস্যা ছোট মনে হলেও অনেক সময় এর পেছনে দীর্ঘমেয়াদি বা অন্য কোনো শারীরিক কারণ থাকতে পারে। তাই দীর্ঘদিন ধরে ব্রণ, চুলকানি, র‍্যাশ, ফাঙ্গাল ইনফেকশন, চুল পড়া, মেছতা বা অন্য কোনো ত্বকের সমস্যা থাকলে একজন যোগ্য চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া সবচেয়ে ভালো।

এই তালিকাটি আপনাকে ঢাকায় একজন চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ খুঁজে পেতে প্রাথমিকভাবে সাহায্য করবে। চিকিৎসক নির্বাচন করার সময় তাঁর শিক্ষাগত যোগ্যতা, BMDC নিবন্ধন, সংশ্লিষ্ট রোগের অভিজ্ঞতা, চেম্বারের অবস্থান এবং চিকিৎসার ধরন বিবেচনা করুন।

Hello Doctor Zone-এ আমরা স্বাস্থ্যবিষয়ক তথ্য সহজ ভাষায় তুলে ধরার চেষ্টা করি। কোনো চিকিৎসা নেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞের সরাসরি পরামর্শ নেওয়া উচিত।

Disclaimer: এই লেখাটি সাধারণ স্বাস্থ্যতথ্যের উদ্দেশ্যে তৈরি। এটি কোনো ব্যক্তিগত চিকিৎসা পরামর্শ বা রোগ নির্ণয়ের বিকল্প নয়। চিকিৎসকের চেম্বার, পদবি, সময়, ফি ও সিরিয়াল নম্বর পরিবর্তিত হতে পারে—সাক্ষাতের আগে সংশ্লিষ্ট চেম্বারে তথ্য যাচাই করুন।

ঢাকার সেরা প্রসূতি ও স্ত্রীরোগ এবং বন্ধ্যাত্ব বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের তালিকা।

ঢাকার সেরা প্রসূতি ও স্ত্রীরোগ এবং বন্ধ্যাত্ব বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের তালিকাঃ

আপনি যদি ঢাকায় সেরা গাইনী বিশেষজ্ঞ ডাক্তার অনুসন্ধান করেন, তাহলে সাহায্য করার জন্য আমাদের ঢাকার সেরা প্রসূতি ও স্ত্রীরোগ এবং বন্ধ্যাত্ব বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের তালিকা এখানে রয়েছে। ঢাকার সবচেয়ে দক্ষ এবং সহানুভূতিশীল গাইনী বিশেষজ্ঞদের সাথে আপনাকে সংযোগ করতে আমাদের এই প্রচেষ্টা, আপনার স্বাস্থ্যের জন্য আপনি সর্বোত্তম যত্ন পাবেন তা নিশ্চিত।

ঢাকার সেরা প্রসূতি ও স্ত্রীরোগ এবং বন্ধ্যাত্ব বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের তালিকা-

Brigadier General (Retd.) Prof. Dr. Anjuman Ara Begum

অধ্যাপক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডাঃ আনজুম আরা বেগম

গাইনি বিশেষজ্ঞ
 এমবিবিএস, ডিজিও, এমএস প্রাক্তন।
বিভাগীয় প্রধান, আর্মড ফোর্সেস মেডিকেল কলেজ, ঢাকা সেনানিবাস। বিভাগীয় প্রধান, ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল, ঢাকা।
doctor

ডা. ফারজানা ইসলাম বীথি

জরায়ুর টিউমার /ফাইব্রয়েড
প্রসূতি, স্ত্রীরোগ এবং গাইনি ক্যান্সার বিশেষজ্ঞ ও সার্জন
জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল, ঢাকা।

কনসালটেন্ট
আলোক হেলথকেয়ার লিমিটেড

অধ্যাপক ডা. আফরোজা গণি

স্ত্রীরোগ, প্রসূতীবিদ্যা ও বন্ধ্যাত্ব রোগ বিশেষজ্ঞ এবং সার্জন

এমবিবিএস, এমসিপিএস, ডিজিও,
এমএস (গাইনি এন্ড অবস্)
ডিএমইউ (আলট্রাসনোগ্রাফি), বিসিএস (স্বাস্থ্য),
এমপিএইচ
ফেলো অফ মিনিমাল অ্যাক্সেস (ল্যাপারোস্কপিক) সার্জারি, ভারত
ডিপ্লোমা ইন এসিস্টেড রিপ্রডাক্টিভ টেকনোলজি, ভারত
ডিপ্লোমা ইন অবস্টেটিক্স এন্ড গাইনিকোলজি আল্ট্রাসনোগ্রাফি, ভারত

অধ্যাপক (সিসি), গাইনি এন্ড অবস্
শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল, ঢাকা

সহকারী অধ্যাপক ডাঃ জুলেখা সায়মা সুলতানা এমবিবিএস, ডিজিও (গাইনী এন্ড অবস্‌)। সার্টিফিকেট কোর্স অন ডায়াবেটলজী (বাংলাদেশ ডায়াবেটিক এসোসিয়েশন)। প্রাক্তণ সহকারী অধ্যাপক- আদ্‌-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। বিএমডিসি রেজিঃ নং- এ-৪৪৭৭৭ প্রসূতি ও স্ত্রীরোগ এবং বন্ধ্যাত্ব বিশেষজ্ঞ

সহকারী অধ্যাপক ডাঃ জুলেখা সায়মা সুলতানা

প্রসূতি ও স্ত্রীরোগ এবং বন্ধ্যাত্ব বিশেষজ্ঞ

এমবিবিএস, ডিজিও (গাইনী এন্ড অবস্‌)। সার্টিফিকেট কোর্স অন ডায়াবেটলজী (বাংলাদেশ ডায়াবেটিক এসোসিয়েশন)।

প্রাক্তণ সহকারী অধ্যাপক- আদ্‌-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। বিএমডিসি 

doctor

ডা. জেসমিন সুলতানা

 স্ত্রী ও প্রসূতি রোগ বিশেষজ্ঞ

এমবিবিএস, বিসিএস (স্বাস্থ্য), এফসিপিএস (গাইনি এন্ড অবস) এফসিপিএস (গাইনি অনকোলজি) পার্ট-২ স্পেশাল ট্রেনিং (ডিপেস্নামা) ইনফার্টিলিটি, ইন্ডিয়া

 কনসালটেন্ট, গাইনি বিভাগ

 ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল

অধ্যাপক ডা: কামরুন নেসা

অধ্যাপক অবস্ এন্ড গাইনী এবং ইনফার্টিলিটি

এমবিবিএস, এমসিপিএস, এফসিপিএস (অবস্ এন্ড গাইনী)

অপিএইচ (এপিডি মিয়োলজি), এফ ম্যাস (ফেলোশীপ ইন ল্যাপারোস্কপি) ইন্ডিয়া এফএআরটি ফেলোশীপ ইন এ্যাসিসটেড রিপ্রোডাকটিভ টেকনোলজি) ইন্ডিয়া

একজন স্ত্রী রোগ বিশেষজ্ঞ বয়ঃসন্ধি থেকে বৃদ্ধ বয়স পর্যন্ত সব বয়সের মহিলাদের চিকিৎসা করেন। তারা মহিলাদের মধ্যে নির্দিষ্ট রোগ প্রতিরোধনির্ণয় এবং চিকিৎসার উপর দৃষ্টি নিবন্ধ করে। স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞরাও গর্ভবতী মহিলাদের যত্ন নেন এবং জন্ম ও প্রসবোত্তর অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করেন।

ঢাকার সেরা নাক কান ও গলা রোগ বিশেষজ্ঞ ডাক্তার এর তালিকা।

ঢাকার সেরা নাক কান ও গলা রোগ বিশেষজ্ঞ ডাক্তার এর তালিকা।

ঢাকার সেরা নাক কান ও গলা রোগ বিশেষজ্ঞ ডাক্তার এর তালিকা।

ঠান্ডা-কাশির সমস্যায় আক্রান্ত হননি এমন মানুষের সংখ্যা বাংলাদেশে খুঁজে পাওয়া কঠিন। এসব বেশ সাধারণ সমস্যা ছাড়াও নাক, কান ও গলা সংক্রান্ত নানা রকম গুরুতর সমস্যার সমাধানের বিষয়টি দেখভাল করেন একজন নাক, কান ও গলা বিশেষজ্ঞ ডাক্তার বা ইএনটি বিশেষজ্ঞ ডাক্তার। মেডিকেলের পরিভাষায় একজন ইএনটি বিশেষজ্ঞকে অটোল্যারিনগোলজিস্ট বলা হয়।

ঢাকার সেরা নাক কান ও গলা বিশেষজ্ঞ ডাক্তার :-

অধ্যাপক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডাঃ রঞ্জিত কুমার মিস্ত্রী কান, নাক ও গলার বিশেষজ্ঞ সার্জন এমবিবিএস এএফএমআই, এমসিপিএস, ডিএলও, এফসিপিএস আর্মড ফোর্সেস মেডিকেল কলেজ, সিএমএইচ, ঢাকা,ক্যান্টনমেন্ট, ঢাকা ।

অধ্যাপক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডাঃ রঞ্জিত কুমার মিস্ত্রী

কান, নাক ও গলার বিশেষজ্ঞ সার্জন

এমবিবিএস এএফএমআই, এমসিপিএস, ডিএলও, এফসিপিএস

আর্মড ফোর্সেস মেডিকেল কলেজ, সিএমএইচ, ঢাকা,ক্যান্টনমেন্ট, ঢাকা । 

অধ্যাপক ডাঃ এ কে এম এ সোবহান

অধ্যাপক ডাঃ এ কে এম এ সোবহান

নাক, কান ও গলা বিশেষজ্ঞ

এমবিবিএস, বিসিএস(সাস্থ্য), ডিএলও (ডিইউ), এমএস (ইএনটি-বিএসএমএমইউ)। আমেরিকা, ইন্ডিয়া, কোরিয়া ও জাপানে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত।

অধ্যাপক (ইএনটি)- শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল, ঢাকা।

Dr. Ariful Islam MBBS (Dhaka), DLO (O) MRCS (on course) Otolaryngology and head-neck surgery, Combined Military Hospital (CMH), Dhaka, Registrar, Delta Medical College and Hospital Dhaka, Member of Dundee Institute of Head and Neck Education (DI HNE, UK)

ডাঃ আরিফুল ইসলাম

কান, নাক ও গলার সার্জন

এমবিবিএস (ঢাকা), ডিএলও (ও) এমআরসিএস

(অবশ্যই) অটোলারিনোলজি এবং হেড-নেক সার্জারি, কম্বাইন্ড মিলিটারি হাসপাতাল (সিএমএইচ), ঢাকা, রেজিস্ট্রার, ডেল্টা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল ঢাকা, ডান্ডি ইনস্টিটিউট অফ হেড অ্যান্ড নেক এডুকেশনের সদস্য (ডিআই) এইচএনই, ইউকে)

Professor Dr. Belayet Hossain Siddique Ex-Chairman (ENT Department) MBBS, FCPS, FICS, Chief of Head Neck Surgery Division Ex-Chairman (ENT Department) Bangobondu Shekh Mujib Medical University (BSMMU), Dhaka.

অধ্যাপক ডাঃ বেলায়েত হোসেন সিদ্দিকী

নাক, কান ও গলা বিশেষজ্ঞ এবং সার্জন

এমবিবিএস, এফসিপিএস, এফআইসিএস

চীফ অফ হেড নেক সার্জারী ডিভিশন

প্রাক্তন চেয়ারম্যান (নাক, কান ও গলা বিভাগ)

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (পিজি), শাহবাগ, ঢাকা।

ডাঃ মোঃ শফিউল আকরাম

ডাঃ মোঃ শফিউল আকরাম

নাক, কান ও গলা বিশেষজ্ঞ এবং সার্জন

এমবিবিএস, বিসিএস (স্বাস্থ্য),

এমএস, নাক-কান-গলা (বিএসএমএমইউ) জাতীয় নাক, কান, গলা ইনস্টিটিউট, তেজগাঁও, ঢাকা

ডাঃ মোঃ খোরশেদ আলম এমবিবিএস, এমসিপিএস, ডিএলও। এক্স এসোসিয়েট কনসালটেন্ট (ইএনটি)- এন সি এইচ এস সি অফ সাহিক মহাখালী, ঢাকা। বিএমডিসি রেজিঃ নং এ-১০৬২১ নাক, কান ও গলা বিশেষজ্ঞ

সহকারী অধ্যাপক ডাঃ মোঃ খোরশেদ আলম

নাক, কান ও গলা বিশেষজ্ঞ এবং সার্জন

এমবিবিএস, এমসিপিএস, ডিএলও। এক্স এসোসিয়েট কনসালটেন্ট (ইএনটি)- এন সি এইচ এস সি অফ সাহিক মহাখালী, ঢাকা। বিএমডিসি রেজিঃ নং এ-১০৬২১

ইএনটি বিশেষজ্ঞ ডাক্তার সাধারণত নাক, কান ও গলার সাধারণ সমস্যা সনাক্ত করা এবং সে অনুযায়ী প্রতিকার হিসেবে ওষুধ পরামর্শ দিয়ে থাকেন। টনসিলের সমস্যা সনাক্ত করা এবং প্রয়োজনে টনসিল অপসারণের সার্জারি বা অপারেশন সম্পন্ন করা, গলার অভ্যন্তরীণ সমস্যার ক্ষেত্রে সার্জারি ও অপারেশন করাও ইএনটি বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের কাজ।

এছাড়াও কানে কম শোনা, কানের ভারসাম্যহীনতা জনিত সমস্যা এবং জন্মগত কানের অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক সমস্যা নির্ণয় এবং এর প্রতিকারের পরামর্শ দেওয়া, নাক ডাকা, নাকের পলিপস ও নাক বন্ধ হওয়ার সমস্যা, মাইগ্রেনের সমস্যা, স্বরযন্ত্রের সমস্যা নির্ণয় করা এবং এর প্রতিকার সহ থাইরয়েডের সমস্যা থাকলে সার্জারি বা শল্যচিকিৎসার মাধ্যমে তার সমাধান দিয়ে থাকেন একজন ইএনটি বিশেষজ্ঞ ডাক্তার।

যে সকল রোগের চিকিৎসা দিয়ে থাকেন -

★ কান ছিঁড়ে যাওয়া

★ কার্টেন ফিউশন

★ গলা এবং মুখ ব্যথা

★ কানে কম শ্রবণশক্তি

★ কান ও গলার সমস্যা

★ নাকের মধ্যে মাংস বৃদ্ধি

★ কানের মাধ্যমে অটোরিয়া

★ টনসিল এবং গ্রন্থির সমস্যা

★ নাকের পলিপ/নাকের হাড় বাঁকা

★ নাক, কান ও গলার সব ধরনের সার্জারি

নাক, কান ও গলা বিশেষজ্ঞদের ভূমিকা ও দায়িত্ব

ইএনটি বিশেষজ্ঞরা যেসব রোগের জন্য যত্ন প্রদান করেন:

কানের ব্যাধি: তারা শ্রবণশক্তি হ্রাস, কানের সংক্রমণ (ওটিটিস মিডিয়া), টিনিটাস, ভারসাম্য ব্যাধি (ভার্টিগো) এবং কানের আঘাত সহ কানকে প্রভাবিত করে এমন রোগ নির্ণয় এবং চিকিত্সা করে। তারা কানের টাইমপ্যানোমেট্রি এবং কানের নল বসানোর মতো পদ্ধতিগুলি সম্পাদন করতে পারে।

সাইনাস ডিসঅর্ডার: ইএনটি বিশেষজ্ঞরা নাক এবং সাইনাসের অবস্থা যেমন সাইনোসাইটিস, নাক বন্ধ হওয়া, নাকের পলিপ, বিচ্যুত সেপ্টাম এবং অ্যালার্জিক রাইনাইটিস চিকিত্সা করেন। তারা ওষুধ, অনুনাসিক স্প্রে, সাইনাস সেচ, বা সাইনাস সার্জারির মতো অস্ত্রোপচারের করতে পারে।

গলা এবং ভয়েস ডিসঅর্ডার: তারা গলা ব্যথা, টনসিলাইটিস, ল্যারিঞ্জাইটিস, ভয়েস ডিজঅর্ডার (ডিসফোনিয়া), এবং গিলতে অসুবিধা (ডিসফ্যাগিয়া) সহ গলা এবং কণ্ঠস্বরের অবস্থার মূল্যায়ন ও চিকিত্সা করে। তারা ল্যারিঙ্গোস্কোপি, ভোকাল কর্ড ইনজেকশন বা টনসিলেক্টমির মতো পদ্ধতিগুলি সম্পাদন করতে পারে।

মাথা এবং ঘাড়ের রোগ: ইএনটি বিশেষজ্ঞরা মাথা এবং ঘাড়ের ক্যান্সার, থাইরয়েড রোগ, লালা গ্রন্থির রোগ এবং মুখের ট্রমা সহ মাথা ও ঘাড়ের রোগ নির্ণয় ও চিকিত্সা করেন। তারা ক্যান্সার বিশেষজ্ঞ, সার্জন এবং অন্যান্য বিশেষজ্ঞদের সাথে চিকিত্সা পরিকল্পনা তৈরি করতে সহযোগিতা করতে পারে।

উন্নত প্রযুক্তি

নাক, কান ও গলা বিশেষজ্ঞরা রোগ নির্ণয় এবং চিকিত্সার ফলাফল উন্নত করতে উন্নত কৌশল এবং প্রযুক্তি ব্যবহার করে। যেমন:

এন্ডোস্কোপিক পদ্ধতি: ন্যূনতম আক্রমণাত্মক এন্ডোস্কোপিক কৌশলগুলি ইএনটি বিশেষজ্ঞদের অনুনাসিক প্যাসেজ, সাইনাস, গলা এবং স্বরযন্ত্রের মধ্যে রোগের দৃশ্যমান এবং চিকিত্সা সাহায্য করে।

অডিওলজিক্যাল টেস্টিং: শ্রবণতাত্ত্বিক মূল্যায়ন ইএনটি বিশেষজ্ঞদের শ্রবণশক্তির কার্যকারিতা মূল্যায়ন করতে এবং শ্রবণশক্তি হ্রাস বা ভারসাম্যের ব্যাধি সনাক্ত করতে সাহায্য করে।

অস্ত্রোপচার: ইএনটি সার্জনরা উন্নত অস্ত্রোপচারের কৌশল এবং সরঞ্জাম ব্যবহার করে সাইনাস সার্জারি, টাইমপ্যানোপ্লাস্টি, টনসিলেক্টমি, থাইরয়েডেক্টমি এবং মাথা ও ঘাড়ের ক্যান্সার সার্জারি সহ বিভিন্ন ধরনের অস্ত্রোপচারের পদ্ধতিগুলি সম্পাদন করে।

উপসংহার

ইএনটি বিশেষজ্ঞরা কান, নাক, গলা এবং সম্পর্কিত কাঠামোকে প্রভাবিত করে এমন রোগ নির্ণয়, চিকিত্সা এবং পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। চিকিৎসা এবং অস্ত্রোপচারের দক্ষতা তাদের রোগীদের জন্য সর্বোত্তম স্বাস্থ্য এবং জীবনমান উন্নীত করে। 

ঢাকার সেরা অর্থোপেডিক ডাক্তার

অর্থোপেডিক সার্জন কি?

অর্থোপেডিক সার্জনরা হাড়, জয়েন্ট, লিগামেন্ট, টেন্ডন এবং পেশীগুলির ব্যাধিগুলির প্রতিরোধ, নির্ণয় এবং চিকিত্সার জন্য নিবেদিত। কিছু অর্থোপেডিস্ট জেনারেলিস্ট, অন্যরা শরীরের নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞ, যেমন: নিতম্ব এবং হাঁটু। পা এবং গোড়ালি।

ঢাকার সেরা অর্থোপেডিক বিশেষজ্ঞ ডাক্তার :-

অর্থোপেডিক, ট্রমা ও স্পাইন সার্জন

অধ্যাপক ডাঃ ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোঃ সেলিম-উর-রহমান

অর্থোপেডিক, ট্রমা ও স্পাইন সার্জন

এমবিবিএস, এমএস (অর্থো), এমআরসিপিএস (গ্লাসগো)
ফেলো স্পাইন (ইন্ডিয়া, ব্যাংকক)
ফেলো মাইক্রোডিস্ক সার্জারী (জার্মানী)
 বিভাগীয় প্রধান ও উপদেষ্টা  সিএমএইচ, ঢাকা।

ডা. মো. সিরাজুস সালেহীন অনকোলোজিস্ট ও অর্থোপেডিক সার্জন এমবিবিএস (ঢাকা), বিসিএস (স্বাস্থ্য) এমএস (অর্থো সার্জারি) পঙ্গু হাসপাতাল, ঢাকা ফেলোশিপ ইন অর্থো অনকোলোজি এন্ড আর্থোপ্লাস্টি (ইংল্যান্ড) সহকারী অধ্যাপক. অর্থোপেডিক সার্জারি এবং ইউনিট প্রধান, অর্থো অনকোলজি ইউনিট জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা ইন্সটিটিউট ও হাসপাতাল অর্থোপেডিক আলোক হাসপাতাল .

ডা. মো. সিরাজুস সালেহীন

অনকোলোজিস্ট ও অর্থোপেডিক সার্জন

এমবিবিএস (ঢাকা), বিসিএস (স্বাস্থ্য)

এমএস (অর্থো সার্জারি) পঙ্গু হাসপাতাল, ঢাকা ফেলোশিপ ইন অর্থো অনকোলোজি এন্ড আর্থোপ্লাস্টি (ইংল্যান্ড)

সহকারী অধ্যাপক. অর্থোপেডিক সার্জারি এবং ইউনিট প্রধান, অর্থো অনকোলজি ইউনিট জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা ইন্সটিটিউট ও হাসপাতাল অর্থোপেডিক

ডাঃ অরুন কুমার সরকার Assistant Professor Dr. Arun Kumar Sarkar এমবিবিএস (ঢাকা), বিসিএস (স্বাস্থ্য), এমএস (অর্থোঃ) এফএসিএস (আমেরিকা) অ্যাডভান্সড ট্রমা কোর্স সার্টিফাইড (তুলেন বিশ্ববিদ্যালয় আমেরিকা) ফেলো, রাশিয়ান ইলিজারভ সায়েন্টিফিক সেন্টার কুরগান, রাশিয়া হাড়জোড়া, বাত-ব্যথা, পঙ্গু ও আঘাতজনিত রোগ বিশেষজ্ঞ এবং অর্থোপেডিক ও ইলিজারভ সার্জন সহকারী অধ্যাপক (অর্থোঃ/ইলিজারভ সার্জারী) নিটোর (জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠান/পঙ্গু হাসপাতাল), ঢাকা এক্স-কনসালটেন্ট, মিনিস্ট্রি অব হেলথ (মালদ্বীপ ও সৌদিআরব)

ডাঃ অরুন কুমার সরকার

হাড়জোড়া, বাত-ব্যথা, পঙ্গু ও আঘাতজনিত রোগ বিশেষজ্ঞ

এমবিবিএস (ঢাকা), বিসিএস (স্বাস্থ্য), এমএস (অর্থোঃ) এফএসিএস (আমেরিকা)অ্যাডভান্সড ট্রমা কোর্স সার্টিফাইড (তুলেন বিশ্ববিদ্যালয় আমেরিকা) ফেলো, রাশিয়ান ইলিজারভ সায়েন্টিফিক সেন্টার কুরগান, রাশিয়াহাড়জোড়া, বাত-ব্যথা, পঙ্গু ও আঘাতজনিত রোগ বিশেষজ্ঞ এবং অর্থোপেডিক ও ইলিজারভ সার্জনসহকারী অধ্যাপক (অর্থোঃ/ইলিজারভ সার্জারী)

নিটোর (জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠান/পঙ্গু হাসপাতাল), ঢাকা

এক্স-কনসালটেন্ট, মিনিস্ট্রি অব হেলথ (মালদ্বীপ ও সৌদিআরব)

সকল ব্লগ পোস্ট সমূহ -

গনোরিয়া কি ? উপসর্গ, কারণ, চিকিৎসা, প্রতিরোধ।

সিরিয়ালের জন্য যোগাযোগ করুন -

গনোরিয়া কি ? উপসর্গ, কারণ, চিকিৎসা, প্রতিরোধ।

গনোরিয়া কি ? উপসর্গ, কারণ, চিকিৎসা, প্রতিরোধ।

গনোরিয়াঃ একটি রোগের নাম। যা সাধারণত নারী-পুরুষ উভয়ের হতে পারে। এটি কষ্টদায়ক যৌন সংক্রামক রোগ। গনোরিয়া হচ্ছে, একটি যৌনবাহিত রোগ। পুরুষের ক্ষেত্রে এই রোগে প্রস্রাবের সময় জ্বালাপোড়া ও মূত্রনালি দিয়ে পুজ বের হয়।

পুরুষের যৌনাঙ্গ দিয়ে পুঁজ বের হওয়া, প্রস্রাবে জ্বালাপোড়া এ রোগের উপসর্গ। প্রকৃতপক্ষে এটি একটি ব্যাকটেরিয়া ঘটিত জীবাণুবাহিত রোগ। এটা পুরুষাঙ্গ, সারভিক্স বা জরায়ুর ছিদ্র, রেকটাম মলাশয় বা পায়ু, গলা ও চোখকে আক্রান্ত করতে পারে। এই ইনফেকশনজনিত কারণে বন্ধ্যাত্বও দেখা দিতে পারে। 

সাধারণত নারীদের চেয়ে পুরুষরাই এই যৌনরোগে বেশি আক্রান্ত হয়। শুধু নারী ও পুরুষের মেলামেশার কারণেই এ রোগ ছড়ায়।

এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার হার ক্রমশ বাড়ছে। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশনের (সিডিসি) উপাত্তে দেখা যায়, ২০১৬ থেকে ২০১৭ সালে পুরুষদের মধ্যে গনোরিয়ার হার দ্বিগুণ হয়েছে।

গনোরিয়া রোগের উপসর্গ.

গনোরিয়ায় আক্রান্ত হলে পুরুষের বিভিন্ন গ্রন্থি যেমন প্রোস্টেট গ্রন্থি, শুক্রনালি, এপিডিডাইমিসে তীব্র প্রদাহের সৃষ্টি করে। আক্রান্ত ব্যক্তির পুরুষাঙ্গের সম্মুখভাগে পুঁজজাতীয় পদার্থ লেগে থাকতে দেখা যায় ও হালকা ব্যথা অনুভূত হতে পারে। কিছুদিন পর রোগের উপসর্গ কিছুটা কমে যায়। তবে এর মানে এই নয় যে রোগটি সেরে গেছে। এর মধ্য দিয়ে দীর্ঘমেয়াদি জটিলতা দেখা দিতে পারে। আর দীর্ঘমেয়াদি জটিলতায় শুক্রনালি বন্ধ হয়ে যেতে পারে, উপ-শুক্রাশয় (এপিডিডাইমিস) নষ্ট হয়ে যেতে পারে। ফলে আক্রান্ত ব্যক্তির পিতা হওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ হয়ে যায়।

নারীর উপসর্গ.

নারীদের ক্ষেত্রে যোনিপথের গ্রন্থি, বিশেষ করে জরায়ুমুখের গ্রন্থিগুলো এ জীবাণুতে আক্রান্ত হয়। পরে এ জীবাণু ডিম্বনালিকে আক্রমণ করে। একসময় যোনিপথ ও মূত্রপথ—উভয়ই আক্রান্ত হয় এবং পুঁজ বের হতে দেখা যায়। প্রস্রাবে তীব্র ব্যথা, জ্বালাপোড়া শুরু হয়। আবার ডিম্বনালি দিয়ে জীবাণু দেহের গভীরে প্রবেশ করতে পারে।

দীর্ঘদিন আক্রান্ত থাকলে ডিম্বনালি বন্ধ হয়ে যেতে পারে। ফলে সন্তান ধারণক্ষমতা হারাতে পারেন ওই নারী। আবার আক্রান্ত নারী কোনো সন্তান প্রসব করলে ওই সন্তানের চোখ এ জীবাণুতে আক্রান্ত হতে পারে।

গনোরিয়া রোগের কারণ.

এ রোগে অল্প বয়সের মেয়ে এবং শিশুরা ও আক্রান্ত হতে পারে। বাচ্চারা সংক্রমিত বিছানার চাদর, তোয়ালে থেকে রোগটি অর্জন করতে পারে। ঘনবসতি এবং অপরিচ্ছন্নতা থেকেও বাচ্চাদের সংক্রমিত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। তবে সন্তান ভূমিষ্ট হওয়ার পর ও আক্রান্ত মাতৃদেহ হতে সংক্রমিত হতে পারে। যৌন মিলনের সময় আক্রান্ত দেহের বহিযৌনাঙ্গ, মুখ ও পায়ু থেকে সংক্রমণ ঘটে।

ডিসচার্জ.

এই রোগের ইনফেকশনের সর্বাধিক কমন লক্ষণ হচ্ছে ডিসচার্জ।  ডিসচার্জ পাতলা হতে পারে অথবা ঘন হতে পারে, এটি পুরুষভেদে নির্ভর করে। সিডিসি অনুসারে, কোনো পুরুষ ইনফেক্টেড হওয়ার দুই সপ্তাহের মধ্যে তার ডিসচার্জের অভিজ্ঞতা হবে। ডিসচার্জের বর্ণ কিংবা পরিমাণ যাই হোক না কেন কিংবা ডিসচার্জ প্রতিনিয়ত হোক বা অনিয়মিত হোক, কোনো ডিসচার্জই স্বাভাবিক নয়। যেকোনো ধরনের ডিসচার্জ হলে আপনার চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া উচিত।

নিতম্বে চুলকানি.

মায়ো ক্লিনিক অনুসারে, গনোরিয়া মলদ্বারকেও আক্রমণ করতে পারে, যার ফলে মলদ্বারীয় চুলকানি ও ডিসচার্জ বা রক্তপাত হতে পারে। এছাড়া ডায়রিয়া হতে পারে এবং প্রাকৃতিক কর্ম সারার সময় ব্যথা অনুভব হতে পারে।

গলা ব্যথা.

ওরাল সেক্স থেকেও গনোরিয়া হতে পারে। গলায় গনোরিয়া ডেভেলপ হওয়া অনেক লোকের উপসর্গ দেখা দেয় না।  কারো কারো গলাব্যথা হতে পারে এবং লসিকাগ্রন্থি ফুলে যেতে পারে।

ব্যথা বা ফোলা.

গনোরিয়া ইনফেকশন পার্শ্ববর্তী স্থানে, যেমন- অণ্ডথলি ও অণ্ডকোষ, ছড়ানো শুরু করলে এপিডিডাইমিসে প্রদাহ হতে পারে, যার সঙ্গে থাকতে পারে কুঁচকি ব্যথা।

গর্ভাবস্থায় গনোরিয়া রোগ .

গনোরিয়ার জীবাণু গর্ভবতী নারীদের জননতন্ত্রের মধ্যে বিচরণ করে ডিম্ববাহী নালিতে প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি করতে পারে। এ কারণে নারীর বন্ধ্যাত্ব ঘটতে পারে বা জরায়ুর বাইরে গর্ভধারণ হতে পারে। গর্ভাবস্থায় নারীরা গনোরিয়ায় আক্রান্ত হলে শিশু জন্মের সময়ে মায়ের যোনি থেকে তার চোখে সংক্রমণ হতে পারে। শিশুকে চিকিৎসা না করলে তার চোখে প্রদাহ হবে এবং সে অন্ধ হয়ে যেতে পারে।

গনোরিয়া রোগ নির্ণয় ও পরীক্ষা.

এক্ষেত্রে রোগীর বিস্তারিত ইতিহাস শুনতে হবে। তারপর পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে হবে। যদি স্বল্পস্থায়ী আক্রমণ হয়ে থাকে তাহলে পুরুষের ক্ষেত্রে প্রস্রাবের রাস্তা থেকে নিঃসরিত পদার্থ এবং নারীদের মূত্রনালি ও জরায়ু নিঃসরিত পদার্থ পরীক্ষা করতে হবে। দীর্ঘমেয়াদি হলে প্রস্টেটগ্রন্থি ম্যাসাজের পর নিঃসরিত পদার্থ পরীক্ষা করতে হবে। এছাড়াও কালচার ও সেনসিটিভিটি পরীক্ষা করতে হবে।

গনোরিয়া রোগ থেকে মুক্তির উপায়/চিকিৎসা.

সাধারণত পেনিসিলিন ব্যবহারে সংক্রমণ সেরে যায়। পেনিসিলিন রেজিস্টেন্ট ব্যক্তিকে সেনসিটিভ ওষুধে চিকিৎসা দেয়া যেতে পারে। জটিলতাহীন গনোরিয়ার ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত একক মাত্রায় উপযুক্ত জীবাণুবিরোধী বা অ্যান্ট্রিমাইক্রোবিয়াল ওষুধ বেশ ভালো কাজ দেয়। এছাড়া অবস্থা জটিল হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে কাজ করাই উত্তম।

সকল ব্লগ পোস্ট সমূহ -

গরমে ঘামাচি কেন হয়- হলে কী করবেন?

সিরিয়ালের জন্য যোগাযোগ করুন -

গরমে ঘামাচি কেন হয়- হলে কী করবেন?

গরমে ঘামাচি কেন হয়- হলে কী করবেন?

প্রচণ্ড গরম আর বিরক্তিকর ঘামের সঙ্গে যন্ত্রণার অনুষঙ্গ হয়ে আসে ঘামাচি বা হিট র‍্যাশ। যাঁরা প্রচুর ঘামেন ও গরমে কাজ করেন, তাঁদের ঘামাচি হয় বেশি। শিশুদেরও ঘামাচি হওয়ার প্রবণতা বেশি। একে প্রিকলি হিট বা মিলিয়ারিয়াও বলে।

ঘামাচি দেখতে কেমন

ত্বকে লাল লাল দানার মতো করে ঘামাচি দেখা দেয়। কখনো এগুলো ব্লিস্টার বা ছোট ফোঁড়ার মতো হতে পারে। এগুলো প্রচণ্ড চুলকায়। মাঝেমধ্যে গোটা ত্বক লালচে হয়ে পড়ে।

কোথায় বেশি হয়

যেসব জায়গা বেশি ঘামে, যেমন বগল, হাঁটু বা কনুইয়ের ভাঁজে ঘামাচি বেশি হয়। এ ছাড়া পিঠেও বেশি হতে দেখা যায়। শিশুদের ডায়াপার পরার স্থানে, মুখে এবং মাথায়ও ঘামাচি হয়।

কেন হয় ঘামাচি

ত্বকের লোমকূপে যে ঘর্মগ্রন্থি থাকে, গরম ও ঘামের কারণে তার মুখ বন্ধ হয়ে গেলে সে জায়গা লাল হয়ে ফুলে ওঠে। এটাই ঘামাচি। নবজাতক ও ছোট শিশুদের ঘর্মগ্রন্থি পুরোপুরি তৈরি নয় বলে তাদের এই সমস্যা হয় বেশি।

কী করবেন

শরীর ও ত্বক শীতল রাখতে পারলে ঘামাচি এমনিতেই সেরে যায়। সারতে তিন সপ্তাহের মতো লাগতে পারে। পানি দিয়ে গোসল করলে একটা স্বস্তিকর অনুভূতি হয়, তবে বারবার গোসল করলে ত্বক শুষ্ক হয়ে পড়তে পারে। নখ দিয়ে আঁচড়ালে বা চুলকালে সংক্রমণ হতে পারে। তীব্রতা বেশি হলে চিকিৎসকের পরামর্শে লোশিও ক্যালামাইন বা প্রয়োজনে স্টেরয়েড ক্রিম ব্যবহার করা যায়।

ঘামাচি থেকে বাঁচতে আপনি কী করতে পারেন

যেখানে বসবাস করেন বা কাজ করেন, সেখানে মুক্ত বাতাস চলাচল নিশ্চিত করুন। পাতলা ঢিলেঢালা সুতির কাপড় পরুন, যার মধ্য দিয়ে বাতাস চলাচল করতে পারবে। খুব ঘেমে গেলে পোশাক পরিবর্তন করুন। শিশুদের ডায়াপার ভিজে গেলেই ঘন ঘন পরিবর্তন করবেন। ত্বকের ভাঁজগুলো কাপড় চেপে শুষ্ক করে নেবেন। শিশুদের পরিষ্কার পাতলা সুতির কাপড় পরাবেন বা দরকার হলে খালি গায়ে ফ্যানের নিচে রাখুন। সিনথেটিক কাপড় পরাবেন না। তাদের শোয়ানোর সময় প্লাস্টিকের মেট্রেস ব্যবহার করবেন না।

সকল ব্লগ পোস্ট সমূহ -

গরমে ফ্রিজের ঠান্ডা পানি পান করে নিজের ক্ষতি করছেন না তো?

সিরিয়ালের জন্য যোগাযোগ করুন -

গরমে ফ্রিজের ঠান্ডা পানি পান করে নিজের ক্ষতি করছেন না তো?

গরমে ফ্রিজের ঠান্ডা পানি পান করে নিজের ক্ষতি করছেন না তো?

গরমে এখন হাঁসফাস করছে দেশবাসী। এ সময় পানির পিপাসায় অনেকেই অস্থির হয়ে পড়ছেন। একে তাপমাত্রা সহন ক্ষমতার উপরে, তার উপর আবার বাতাসে অত্যধিক আর্দ্রতাও কষ্ট বাড়াচ্ছে।

এই দুইয়ের আক্রমণে নাজেহাল অবস্থা সাধারণ মানুষের। ঘরের বাইরে পা দিলেই ঘেমে-নেয়ে একাকার অবস্থা। ঠান্ডা পানি পান করা ছাড়া যেন কোনো বিকল্প নেই। অনেকেই বাইরে থেকে ঘরে ঢুকেই ফ্রিজ থেকে বরফজমা ঠান্ডা পানি খাওয়া শুরু করেন। তবে গ্রীষ্মের গরমে যতটা সম্ভব ঠান্ডা পানি এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা।

টনসিল–ঠান্ডা–কাশি–জ্বর

গরমের মধ্যে বাইরে থেকে ফিরেই সরাসরি ফ্রিজ থেকে ঠান্ডা পানি খেলে গলা খুসখুস থেকে শুরু করে ঠান্ডা লাগা পর্যন্ত অনেক আশঙ্কাই আছে। শরীরের তাপমাত্রা সাধারণভাবে ৯৮ ডিগ্রি ফারেনহাইট। অতিরিক্ত ঠান্ডা পানি পান করার কারণে দেহের কিছু অংশের তাপমাত্রা হুট করে কমে যায়। বাইরের তাপমাত্রার সঙ্গে মানিয়ে নিতে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে শরীর।

ফলে নিয়মিত এ রকম ঠান্ডা পানি খাওয়ার ফলে মিউকাস বা শ্লেষ্মা বেড়ে টনসিলের সমস্যা, মাইগ্রেনের সমস্যা, দাঁতে ব্যথা, খাদ্যনালির সমস্যা, সর্দি, কাশি বা জ্বরের ঝুঁকি বেড়ে যায়। তৈরি হওয়া মিউকাস বা শ্লেষ্মা শ্বাসপ্রশ্বাসে বাধা তৈরি করে। তখন নানা প্রদাহযুক্ত সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়ে যায়। আমাদের গলায় শ্বাসনালির ওপরের অংশে কিছু ‘সুবিধাবাদী জীবাণু’ বাস করে। সুবিধাজনক অবস্থা পেলেই এরা আক্রমণ করে। যখন চারপাশে গরম, তখন হঠাৎ করে ঠান্ডা পানি গলায় গেলে গলার তাপমাত্রা অনেক কমে যায়। ঠান্ডা পানিতে এই জীবাণুগুলো সক্রিয় হয়ে ওঠে।

মাসল টেনশন

ঠান্ডা পানি গলার যেদিক দিয়ে যায়, ‘মাসল টেনশন’–এর ফলে সেখানকার রক্তনালিকে সংকুচিত করে। ফলে কিছু সময়ের জন্য স্বাভাবিক রক্ত চলাচল ব্যাহত হয়। যদি গলায় বা ওই সব জায়গায় কোনো ধরনের সংক্রমণ হয়ে থাকে, সেটা সেরে ওঠার প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হয়। আর আপনার আগে থেকেই ঠান্ডা লেগে থাকলে তো কথাই নেই! নাক বন্ধ হতে সময় লাগবে না। পাকস্থলীর আশপাশের রক্তনালি ঠান্ডা পানির সংস্পর্শে এসে সংকুচিত হয়ে যায়। ফলে হজমপ্রক্রিয়ায় ব্যাঘাত ঘটতে পারে।

হৃৎস্পন্দন ‘ড্রপ’ করতে পারে

ঠান্ডা পানি সাময়িক সময়ের জন্য স্বাভাবিক হৃৎস্পন্দনে বাধা দেয়। দশম ক্র্যানিয়াল নার্ভ বা ভেগাস নার্ভ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার একটা আশঙ্কা থেকেই যায়। ফলে হৃৎস্পন্দনের পতন ঘটে হার্ট অ্যাটাক পর্যন্ত হতে পারে। যাঁদের সাইনাস বা মাইগ্রেনের সমস্যা আছে, তাদের ঠান্ডা পানি খাওয়া সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।

হজমে বাধা

হজমের সময় যে পুষ্টি শোষিত হয়, সেই স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় বাধা দেয় ঠান্ডা পানি। শরীর তখন হজমপ্রক্রিয়ার চেয়ে শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে বেশি ব্যস্ত হয়ে পড়ে। শরীরে বেশি পানিশূন্যতা দেখা যায়।

চর্বিজাতীয় পদার্থ জমে যাওয়া

শরীরের চর্বিজাতীয় পদার্থ ঠান্ডা পানির সংস্পর্শে এসে জমে যায়। ফলে সেগুলো শোষণ করা বা পুড়িয়ে ফেলা আরও কঠিন হয়ে পড়ে। এমনিতেই চর্বিজাতীয় পদার্থ হজম করতে শরীরে সবচেয়ে বেশি তাপ উৎপন্ন হয়। তাই কিছু ক্ষেত্রে ঠান্ডা পানি খাওয়ার ফলে শরীর তো ঠান্ডা হবেই না, আরও গরম হবে। আর ওজন কমানো আরও কঠিন হয়ে পড়বে।

দাঁতের শিরশিরানি

ঠান্ডা পানি দাঁতের এনামেল অংশটাকে দুর্বল করে তোলে। তখন দাঁতে যেকোনো সংক্রমণের সুযোগ তৈরি হয়। আর ঠান্ডা পানি খাওয়ার ফলে দাঁতে শিরশিরেভাব হওয়া খুবই স্বাভাবিক।

কারা একেবারেই খাবেন না ঠান্ডা পানি

যাঁদের ঠান্ডা–কাশি, দাঁতের সমস্যা, কোল্ড এলার্জি, হার্টের সমস্যা, মাথাব্যথা, সাইনাস আছে, সদ্য অপারেশন হয়েছে অথবা ওজন কমাতে চান— তাঁরা একেবারেই খাবেন না। এ ছাড়া খাওয়ার পরপরই ঠান্ডা পানি খাবেন না। একান্তই যদি খেতে হয়, খাওয়ার আধা ঘণ্টা পরে খান। অবশ্যই ঠান্ডা পানির সঙ্গে সমপরিমাণ বা বেশি স্বাভাবিক পানি মিশিয়ে খাবেন।


গরমের দিনেও সকালে নিয়ম করে কুসুম গরম পানি পান করা ভালো। এটা নিয়মিত করলে খুব সহজেই পেট পরিষ্কার হয়ে যাবে। এমনকি হজমক্ষমতাও বেড়ে যাবে। গ্যাস, অ্যাসিডিটির সমস্যাও হবে না।

সকল ব্লগ পোস্ট সমূহ -

কোন ব্যথায় কি ওষুধ দেওয়া হয়?

সিরিয়ালের জন্য যোগাযোগ করুন -

কোন ব্যথায় কি ওষুধ দেওয়া হয়

কোন ব্যথায় কি ওষুধ দেওয়া হয়?

‘ব্যথা’ মানব জীবনের খুবই আঙ্গাআঙ্গি ভাবে জড়িয়ে থাকা একটি বিষয়। আদিমকাল থেকেই মানুষের বিভিন্ন ধরনের ব্যথা হয়ে আসছে এবং এর জন্য প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে নানাবিধ চিকিৎসা পদ্ধতি আবিষ্কার হয়েছে, প্রয়োগ হয়েছে। ব্যথা নিয়ে অনেক মজার মজার কথাও প্রচলিত আছে। যেমন- ‘সর্বাঙ্গে ব্যথা, ওষুধ দেবো কোথা’ ‘ব্যথা যার মনে, ওষুধে কি আর সারিবে দেহে’। এরকম আরও অনেক আছে। যাই হোক, আজকের এই লেখার উদ্দেশ্য ব্যথার ওষুধ নিয়ে সাধারণ একটি ধারণা দেওয়া। কোন কোন ব্যথায় কি ধরনের ওষুধ ব্যবহার হয় তা সহজ কথায় তুলে ধরা।

ব্যথা কয় ধরনের?

মানুষের দেহে বিভিন্ন ধরনের ব্যথা হয়ে থাকে। আমি এগুলোকে মোট দু’ভাগে ভাগ করতে চাই। একটা হল মানসিক কারণ, আরেকটি হল শারিরিক কারণ। এই লেখায় মূলত শারিরিক কারণ নিয়েই বিস্তারিত লিখতে চাই। শেষে মানসিক কারণও থাকবে।

শারীরিক ব্যথা কয় ধরনের?

ব্যথা হয় মূলত চার ধরনের। যেমন :-
১. মাস্কুলো-স্কেলেটাল পেইন (মাংসপেশী-হাড়ের ব্যথা)।
২. ভিসেরাল পেইন (শাগ্ররীরের ভেতরের নরম অঙ্গ প্রত্যঙ্গের ব্যথা)।
৩. নিউরোপেথিক পেইন (স্নায়ুজনিত ব্যথা)।
৪. ভাস্কুলার পেইন/ ইসকেমিক পেইন (রক্ত চলাচলে বাধগ্রস্থ হওয়ার দরুন ব্যথা) 

এছাড়াও আরেকটি ব্যথা রক্তনালী/ভাস্কুলার রোগের ব্যথা বা ইনফার্কশনের ব্যথা। মূলত সবচেয়ে মারাত্মক ব্যথা হল এই ইনফার্কশন বা টিস্যু পচনের ব্যথা। আরো কিছু ব্যথা আছে, যেমন- দাতের ব্যথা, কানের ব্যথা, চোখের ব্যথা ইত্যাদি। আজকের আলোচনায় প্রধান তিন ব্যথা ছাড়াও অন্যান্য গুলো স্বল্প পরিসরে বলার চেষ্টা করবো।

সংক্ষেপে একটু ধারণা নেওয়া যাক ব্যথার ওষুধের ধরন সম্পর্কে:

ব্যথার ওষুধ প্রধানত তিন ধরনের।

যেমন-
১. সেন্ট্রালি এক্টিং: (ব্রেইন বা স্পাইনাল কর্ডে ব্যথার সংবেদনশীলতা বন্ধ করে। এদেরকে বলে অপিওয়েড। যেমন- মরফিন, পেথিডিন, ন্যালবিউফিন, ট্রামাডল ইত্যাদি)
২. লোকালি এক্টিং: (যেখানে ব্যথা-শুধু সেখানেই কাজ করবে। যেমন- NSAID, Beklcfen, Tiemonium, Hysomide)।
৩. পেইন মোডিফাইং এজেন্ট: (এরা ব্যথার মাত্রা বদলে দেবে বা কমিয়ে দেবে । যেমন- এমিট্রিপ্টাইলিন, সার্টালিন, ডায়াজেপাম, ডুলোক্সেটিন ইত্যাদি)।

এখন শুরুতেই আসা যাক।

১. মাস্কুলো-স্কেলেটাল পেইন :-

এটা মূলত হাড় এবং মাংসপেশীর ব্যথা। এটা হয় মূলত আঘাত জনিত কারণে। এই আঘাতের ধরন বিভিন্ন হতে পারে। যেমন- সরাসরি আঘাত অর্থাৎ রোড ট্রাফিক এক্সিডেন্ট বা মারামারি ফলে (ট্রমা) হতে পারে। আবার কোনও কাজ করতে গিয়ে মাসলে চাপ/টান পড়তে পারে। যাকে বলে মাসল স্ট্রেইন। যেমন- ভারী কিছু উচু করতে গিয়ে কোমড়ের মাংসপেশী বা বুকের মাংসপেশীতে টান লাগা ইত্যাদি। এই সব ক্ষেত্রে মূলত ব্যবহার হয় কিছু ব্যথার ওষুধ আর তার সাথে মাংসপেশী নরম করার ওষুধ। কারণ যে মাংসে আঘাত বা টান লাগে তা শক্ত হয়ে যায় এবং তার পাশ দিয়ে চলা নার্ভের উপর চাপ দেয়। তাই একে নরম করতে হয়। এই ব্যথাটা মৃদু থেকে তীব্র হতে পারে। নড়াচড়া করলেই ব্যথা বাড়তে পারে। অনেক সময় ব্যথা কিছুক্ষণ থেকে থেকে আসতে পারে, অনেক সময় অনবরত ব্যথা থেকে যেতে পারে।

এখন আসা যাক কি ধরনের ব্যথায় কি ওষুধ দেওয়া হয়?

একে বলে NSAID (নন-স্টেরয়ডাল এন্টি-ইনফ্লামাটরি ড্রাগ)। খুবই পরিচিত এবং প্রচলিত ওষুধ কিটোরোলাক, ন্যাপ্রোক্সেন, ডাইক্লোফেনাক, ইন্ডোমেথাসিন ইত্যাদি। এগুলোর সাইড ইফেক্ট হল এরা এসিডিটি বা বুক জ্বালা করে। তাই এর সাথে গ্যাসের ওষুধ দিতে হয়। বর্তমানে অনেক ধরনের ওষুধ আছে যাদেরকে বলে কক্স-২ ইনহিবিটর। যেমন- ইটোরিকক্সিব, সেলেকক্সিব। এদের সাইড ইফেক্ট কম। এজমার রোগীদের দেওয়া যায়। ব্লিডিং টেন্ডেন্সিও কম করে। যাই হোক, এর সাথে যে মাংসপেশী নরম করার ওষুধের কথা বলছিলাম। তা হল- স্কেলেটাল মাসল রিল্যাক্সান্ট। যেমন- বেক্লোফেন বা টলপেরিসন ইত্যাদি। বাচ্চাদেরকে আইবুপ্রফেন দেওয়া হয়।

বয়স্কদের যাদের কিডনীর অবস্থা ভাল না, পাকস্থলীর অবস্থাও মোটামুটি তাদের ক্ষেত্রে নিরাপদ হল প্যারাসিটামল। অনেকেই ভুলে যান যে, প্যারাসিটামল কিন্তু একটি ব্যথার ওষুধ। সে ক্ষেত্রে দুইটা করে ট্যাবলেট দিনে চার বেলা পর্যন্ত দেওয়া যেতে পারে। এমন কি অন্যান্য ব্যথার ওষুধের সাথেও এটা দেওয়া যায়। একে বলে সিনারজিস্টিক ইফেক্ট। অর্থাৎ ব্যথার ওষুধের কার্যকারীতা বাড়িয়ে দেয়। এর সাথে  মাংশপেশী নরম করতে এবং ব্যথা কমাতে আরও কিছু ওষুধের প্রভাব আছে। যেমন- ডায়াজেপাম, এমিট্রিপ্টাইলিন। এগুলোকে বলে পেইন মোডিফাইং এজেন্ট।

হাটু ব্যথা :-

মাস্কুলো স্কেলেটাল পেইনের মধ্যে হাটু ব্যথা একটা খুবই পরিচিত সমস্যা। এর কারণ অনুসন্ধান করে চিকিৎসা দিতে হয়। তবে খুবই পরিচিত কারণ হল অস্টিওআর্থারাইটিস। এসব ক্ষেত্রে উপরোক্ত ব্যথার ওষুধের সাথে স্টেরয়েডের একটা ভূমিকা আছে। ডেফ্লাজাকর্ট, প্রেডনিসোলন ব্যবহৃত হয়। এর পাশাপাশি গ্লুকোসামাইন, ডায়াসেরিন, কন্ড্রয়টিন ব্যবহার হয়। এগুলো হাড়ের উপরের নরম হাড় (কার্টিলেজ) তৈরীতে সাহায্য করে। এছাড়াও হাটুর মধ্যে স্টেরয়েড বা হায়ালুরোনেট (হায়ালুরোনিক এসিড) জেল ইঞ্জেকশন দেওয়া হয়।

২. ভিসেরাল পেইন :-

শরীরের হাড়-মাংস বাদে ভেতরের যত অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ বিশেষ করে নরম কোষের তৈরী তাদের সবাইকেই বলে ভিসেরা। যেমন- পাকস্তলি, পেটের সমস্ত নাড়িভুঁড়ি, লিভার, পিত্ত থলি, কিডনী, প্যানক্রিয়াস, ফুসফুস, হার্ট, রক্ত নালী, মূত্রনালী, মূত্র থলি, মেয়েদের জরায়ু, অভারি, অভারিয়ান নালি ইত্যাদি। এমন কি গলার ভেতরের গলবিল, স্বরযন্ত্র ইত্যাদি।

তবে আরো সুক্ষ ভাবে ভিসেরাল পেইন বলতে বুঝায় যে সব জায়গা নালীর মত এবং ফাঁপা- সে অঙ্গগুলোর ব্যথা। যেমন- পুরো পরিপাক তন্ত্র, পিত্ত থলি, মূত্রথলি, এপেন্ডিক্স, জরায়ু, জরায়ু নালী। এই সব জায়গার ব্যথা হলে ব্যথাটা হঠাৎ করে আসে, খামচে ধরার মত ব্যথা হয় আবার কিছুক্ষন পর ছেড়ে দেয়। তারপর আবার আসে। এভাবে চলতে থাকে। এদেরকে বলে কলিকি পেইন। এটা হয় মূলত ইনফেকশন, বা আলসারের জন্য। প্রেগনেন্সির সময়ও মাঝে মাঝে এমন ব্যথা হয়ে থাকে। যাদের অভারিতে বা ফেলোপিয়ান টিউবে ইনফেকশন হয় তাদেরও এরকম ব্যথা হতে পারে।  

৩. নিউরোপ্যাথিক পেইন :-

স্নায়ু জনিত ব্যথা। বিশেষ করে ডায়াবেটিস রোগীদের পায়ে বা সারা গা হাত পায়ে জ্বালা পোড়া করে, খোচায়, ঝিন ঝিন করে। এগুলোকে বলে পেরিফেরাল নিউরোপ্যাথী। আবার যাদের লো ব্যাক পেইন বা কোমড় ব্যথা থাকে। যেমন- কোমড়ের ডিস্ক সরে যাওয়া বা প্রোলাপ্সের জন্য যে ব্যথা হয়, তা অনেক সময় উরুর এর পেছন দিয়ে নিচের দিকে নামতে থাকে। একে বলে রেডিকুলোপ্যাথী। এদের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়- প্রিগাবালিন,  গাবাপেন্টিন। এর  সাথে এমিট্রিপ্টাইলিন, ডায়াজেপাম ইত্যাদি দেওয়া হয়। তবে এর মূল চিকিৎসা ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ বা ডিস্কের সঠিক চিকিৎসা। ফিজিওথেরাপী নেওয়া।

৪. ভাস্কুলার/ইস্কেমিক পেইন- রক্তনালীর ব্লক জনিত ব্যথা বা ইনফার্কশনের ব্যথা :-

হার্ট অ্যাটাকের ব্যথা। পৃথিবীর সবচেয়ে তীব্র ব্যথা হয় এটা। এই ব্যথা কোনো ব্যথার ওষুধ দিয়ে কমতে চায় না। তবে মরফিন বা পেথিডিন দেওয়া হয়। এর মূল চিকিৎসা হল রক্তনালীর ব্লক গলানো। তাহলেই ব্যথা চলে যাবে। এর জন্য স্ট্রেপ্টোকাইনেজ বা হেপারিন ব্যবহার হয় হাসপাতালে।

পায়ের রক্তনালীর ব্লক হলে সেই ব্লক অপসারন করতে হয় অপারেশন করে। যদি অল্প মাত্রায় ব্লক হয়। যেমন- সিগারেট স্মোকারদের বা ডায়াবেটিস রোগীদের পায়ে ব্যথা হয়। এসব ক্ষেত্রে সিলোস্টাজল, প্যন্টোক্সিফাইলিন, ফলিক এসিড, ভিটামিন বি-৬, বি-১২ ইত্যাদি দেওয়া হয়। তার সাথে মাংসপেশী নরম করা ওষুধ। প্যারাসিটামল দেওয়া যেতে পারে।

এবারে একটু করে বলতে চাই। কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যথা নিয়ে।

গলা ব্যথা :-

গলা ব্যথার প্রধান কারণ টনসিলে ইনফেকশন (টনসিলাইটিস), ফ্যারিঞ্জাইটিস, ল্যারিঞ্জাইটিস ইত্যাদি। এসব ক্ষেত্রে ভাল এন্টিবায়োটিক দিয়ে ইনফেকশন কমানো হয়। এর সাথে ব্যথা কমানোর জন্য ডায়ক্লোফেনাক, এসিক্লোফেনাক, আইবুপ্রফেন বা শুধু প্যারাসিটামল দেওয়া হয়। এর সাথে গরম পানির সাথে লবন দিয়ে গরগল এবং মেন্থল ভেপার নিতে বলা হয়।

দাঁতের ব্যথা :-

দাঁতের ব্যথার জন্য ডায়ক্লোফেনাক, এসিক্লোফেনাক, আইবুপ্রফেন বা শুধু প্যারাসিটামল দেওয়া হয়। তবে বেশি ব্যথা হলে ভল্টালিন সাপোজিটরিও দেওয়া যায়।

কানের ব্যথা :-

কানের ব্যথার জন্য প্যারাসিটামল বা আইবুপ্রোফেন দেওয়া হয়। তবে এসব ক্ষেত্রে লোকাল এন্টিবায়োটিক, এন্টিফাঙ্গাল, স্টেরয়েড ড্রপ দেওয়া হয়। এবং এতেই প্রদাহ বা সংক্রমন কমে গিয়ে ব্যথা কমে যায়।

চোখের ব্যথা :-

চোখ ব্যথার বিভিন্ন কারণ আছে। চোখের বিভিন্ন স্তরে বা লেয়ারের প্রদাহ জনিত কারণে ব্যথা হয়। আবার চোখের প্রেশার বেড়ে গিয়ে ব্যথা হতে পারে। যাকে বলে গ্লুকোমা। এসব ক্ষেত্রে এসিটাযোলামাইড, ল্যাটানোপ্রোস্ট, পাইলোকার্পিন, টাইমোলোল ইত্যাদি গ্রুপের ড্রপ দেওয়া হয়। তবে অবশ্যই এগুলো একজন চক্ষু বিশেষজ্ঞের পরামর্শে নিতে হবে। না হলে চোখের দৃষ্টি চিরতরে হারাতে হতে পারে। এছাড়া কঞ্জান্টিভাইটিস, বা ব্লেফারাইটিস হলে প্যারাসিটামল বা আইবুপ্রফেনেই কাজ হয় এবং এন্টিবায়োটিক/স্টেরয়েড ড্রপ দেওয়া হয়।  

মাথা ব্যথা :-

এটা একটা বড় অধ্যায়। এর উপরই অনেক বড় আলোচনা থাকে। সংক্ষেপে বলি। মাথা ব্যথার প্রধান ৪ কারণ।

১. টেনশন টাইপ হেডেক
২. মাইগ্রেন
৩. সাইনুসাইটিস
৪. ক্লাস্টার হেডেক।

টেনশন হেডেক :-

এটা হলে প্যারাসিটামল, দুশ্চিন্তা দূর করার জন্য ক্লোনাজেপাম, ডায়াজেপাম এবং এন্টি ডিপ্রেসান্ট যেমন- এসিটালোপ্রাম, ফ্লুপেনথিক্সল, সার্টালিন ভাল কাজ করে।

মাইগ্রেন :-

এখানে নিয়ম মানাই আসল। তারপরও টলফেনামিক এসিড, প্রপ্রানোলল, পিজোটিফেন, ফ্লুনারিজিন ইত্যাদি।

সাইনোসাইটিস :-

এখানেও নিয়ম মানতে হয়। এন্টিবায়োটিক লাগতে পারে। সাথে এন্টি-হিস্টামিন দেওয়া হয়। ব্যথার জন্য প্যারাসিটামল সহ উপরোক্ত ওষুধগুলোর সাহায্য নেওয়া যেতে পারে।

এছাড়াও মানসিক কারণে শরিরের বিভিন্ন জায়গায় ব্যথা হয়। এগুলোকে বলে সাইকো-সোমাটিক পেইন। বর্তমানে এর প্রচুর রোগী আছে। যাদের শরীরের বাস্তবে কোনো রোগ ধরা পড়ে না। অথচ মানসিক কারনে এদের ব্যথাও যেতেই চায় না। যেমন: খুব পরিচিত একটা অসুখ হল গ্যাসে সমস্যা বা বদ হজম। একে বলে নন-আলসার ডিসপেপসিয়া। নামেই বলে দিচ্ছে এতে কোনো আলসার নাই। তবুও আলসারের মতই ব্যথা হয়, গ্যাসে বুক জ্বালা পোড়া করে। আরেকটা অসুখ হল আইবিএস (ইরিটেবল বাউল সিন্ড্রোম)। কোনো সমস্যা নাই অথচ মাঝে মাঝেই পেট ব্যথা করে ওঠে, ডায়রিয়া হয় ইত্যাদি। এছাড়া মাথা ব্যথা বা বুকে ব্যথা তো আছেই। এ সব ক্ষেত্রে কিছু ওষুধ এবং কাউন্সিলিং খুব ফলপ্রসু হয়।

আবার যারা দীর্ঘদিন ডিপ্রেশন/হতাশায় ভোগেন, তাদের Non-specific Bodyache বা শরীরের বিভিন্ন জায়গায় ব্যথা হয়। এর কারন খুঁজে পাওয়া যায় না। এ সবের চিকিৎসা হওয়া উচিৎ একজন সাইক্রিয়াটিস্টের অধীনে।  

আসলে সারা শরীরের বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন ব্যথা হয়। এগুলো বুঝে সঠিক রোগনির্ণয় করে চিকিৎসা নিলে তবেই স্বস্থি মেলে। কিন্তু সঠিক রোগ নির্ণয় না করে আন্দাজে ব্যথার ওষুধ খেয়ে যাওয়া উচিৎ নয়। এতে কিডনী ক্ষতিগ্রস্থ হয়। তবে কিছু কিছু ব্যথার ওষুধ মাঝে মাঝে গ্যাপ দিয়ে খাওয়া যেতে পারে। তবে তা হতে হবে রেজিস্টার্ড ডাক্তারের পরামর্শ মতে।

সকল ব্লগ পোস্ট সমূহ -

হিটস্ট্রোক হলে কী করবেন?

সিরিয়ালের জন্য যোগাযোগ করুন -

হিটস্ট্রোক হলে কী করবেন?

হিটস্ট্রোক হলে কী করবেন?

দেশব্যাপী চলমান প্রচণ্ড তাপদাহে অতিষ্ঠ জনজীবন। রেকর্ড ছোঁয়া তাপমাত্রায় রাজধানীবাসীর জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। মাত্রাতিরিক্ত গরমে হিটস্ট্রোকের আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। এমন পরিস্থিতিতে কোনো কোনো জেলায় জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের না হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

হিট স্ট্রোক কী?

গরমের সময়ের একটি মারাত্মক স্বাস্থ্যগত সমস্যার নাম হিট স্ট্রোক। চিকিৎসা শাস্ত্র অনুযায়ী, প্রচণ্ড গরম আবহাওয়ায় শরীরের তাপ নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা নষ্ট হয়ে শরীরের তাপমাত্রা ১০৫ ডিগ্রি ফারেনহাইট ছাড়িয়ে গেলে তাকে হিট স্ট্রোক বলে।

স্বাভাবিক অবস্থায় রক্ত দেহের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখে। কোনো কারণে শরীরের তাপমাত্রা বাড়তে থাকলে ত্বকের রক্তনালি প্রসারিত হয় এবং অতিরিক্ত তাপ পরিবেশে ছড়িয়ে দেয়। প্রয়োজনে ঘামের মাধ্যমেও শরীরের তাপ কমে যায়। কিন্তু প্রচণ্ড গরম ও আর্দ্র পরিবেশে বেশি সময় অবস্থান বা পরিশ্রম করলে তাপ নিয়ন্ত্রণ আর সম্ভব হয় না। এতে শরীরের তাপমাত্রা দ্রুত বিপৎসীমা ছাড়িয়ে যায় এবং হিট স্ট্রোক দেখা দেয়।

হিট স্ট্রোক কাদের বেশি হয়?

প্রচণ্ড গরমে ও আর্দ্রতায় যে কারও হিট স্ট্রোক হতে পারে। তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে হিট স্ট্রোকের সম্ভাবনা বেড়ে যায়। যেমন-

* শিশু ও বৃদ্ধদের তাপ নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা কম থাকায় হিট স্ট্রোকের সম্ভাবনা বেড়ে যায়। এ ছাড়া বয়স্ক ব্যক্তিরা যেহেতু প্রায়ই বিভিন্ন রোগে ভোগেন কিংবা নানা ওষুধ সেবন করেন, যা হিট স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ায়।

* যাঁরা দিনের বেলায় প্রচণ্ড রোদে কায়িক পরিশ্রম করেন, তাঁদের হিট স্ট্রোকের ঝুঁকি বেশি। যেমন কৃষক, শ্রমিক, রিকশাচালক।

* শরীরে পানিস্বল্পতা হলে হিট স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ে।

* কিছু কিছু ওষুধ হিট স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ায় বিশেষ করে প্রস্রাব বাড়ানোর ওষুধ, বিষণ্নতার ওষুধ, মানসিক রোগের ওষুধ ইত্যাদি

হিট স্ট্রোকের লক্ষণগুলো কী?

তাপমাত্রা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দেহে নানা রকম প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। প্রাথমিকভাবে হিট স্ট্রোকের আগে অপেক্ষাকৃত কম মারাত্মক হিট ক্র্যাম্প অথবা হিট এক্সহসশন হতে পারে। হিট ক্র্যাম্পে শরীরের মাংসপেশিতে ব্যথা হয়, শরীর দুর্বল লাগে এবং প্রচণ্ড পিপাসা পায়। এর পরের ধাপে হিট এক্সহসশনে দ্রুত শ্বাসপ্রশ্বাস, মাথাব্যথা, ঝিমঝিম করা, বমিভাব, অসংলগ্ন আচরণ ইত্যাদি দেখা দেয়। এই দুই ক্ষেত্রেই শরীরের তাপ নিয়ন্ত্রণ ঠিক থাকে এবং শরীর অত্যন্ত ঘামতে থাকে। এ অবস্থায় দ্রুত ব্যবস্থা না নেওয়া হলে হিট স্ট্রোক হতে পারে। এর লক্ষণ গুলো হলো—
* শরীরের তাপমাত্রা দ্রুত ১০৫ ডিগ্রিº ফারেনহাইট ছাড়িয়ে যায়।
* ঘাম বন্ধ হয়ে যায়।
* ত্বক শুষ্ক ও লালচে হয়ে যায়।
* নিশ্বাস দ্রুত হয়।
* নাড়ির স্পন্দন ক্ষীণ ও দ্রুত হয়।
* রক্তচাপ কমে যায়।
* খিঁচুনি, মাথা ঝিমঝিম করা, অস্বাভাবিক আচরণ, হ্যালুসিনেশন, অসংলগ্নতা ইত্যাদি।
* প্রস্রাবের পরিমাণ কমে যায়।
* রোগী শকেও চলে যায়। এমনকি অজ্ঞান হয়ে যেতে পারে।

প্রতিরোধের উপায় কী?

গরমের দিনে কিছু সতর্কতা মেনে চললে হিট স্ট্রোকের বিপদ থেকে বেঁচে থাকা যায়। এগুলো হলো—
* হালকা, ঢিলেঢালা পোশাক পরুন। কাপড় সাদা বা হালকা রঙের হতে হবে। সুতি কাপড় হলে ভালো।
* যথাসম্ভব ঘরের ভেতরে বা ছায়াযুক্ত স্থানে থাকুন।
* বাইরে যেতে হলে মাথার জন্য চওড়া কিনারাযুক্ত টুপি, ক্যাপ বা ছাতা ব্যবহার করুন।
* বাইরে যাঁরা কাজকর্মে নিয়োজিত থাকেন, তাঁরা মাথায় ছাতা বা মাথা ঢাকার জন্য কাপড়জাতীয় কিছু ব্যবহার করতে পারেন।
* প্রচুর পানি ও অন্যান্য তরল পান করুন। মনে রাখবেন, গরমে ঘামের সঙ্গে পানি ও লবণ দুই-ই বের হয়ে যায়। তাই পানির সঙ্গে সঙ্গে লবণযুক্ত পানীয় যেমন-খাবার স্যালাইন, ফলের রস, লাচ্ছি ইত্যাদিও পান করতে হবে। পানি অবশ্যই বিশুদ্ধ হতে হবে।
* তাপমাত্রা বৃদ্ধিকারী পানীয় যেমন-চা ও কফি যথাসম্ভব কম পান করা উচিত।
* রোদের মধ্যে শ্রমসাধ্য কাজ করা থেকে বিরত থাকুন। এসব কাজ সম্ভব হলে রাতে বা খুব সকালে করুন। যদি দিনে করতেই হয়, তবে কিছুক্ষণ পরপর বিশ্রাম নিতে হবে ও প্রচুর পানি ও স্যালাইন পান করতে হবে।

আক্রান্ত হলে কী করণীয়?

প্রাথমিকভাবে হিট স্ট্রোকের আগে যখন হিট ক্র্যাম্প বা হিট এক্সহসশন দেখা দেয়, তখনই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিলে হিট স্ট্রোক প্রতিরোধ সম্ভব। এ ক্ষেত্রে ব্যক্তি নিজেই যা করতে পারেন তা হলো—
* দ্রুত শীতল কোনো স্থানে চলে যান। যদি সম্ভব হয়, ফ্যান বা এসি ছেড়ে দিন।
* ভেজা কাপড় দিয়ে শরীর মুছে ফেলুন। সম্ভব হলে গোসল করুন।
* প্রচুর পানি ও খাবার স্যালাইন পান করুন। চা বা কফি পান করবেন না।

কিন্তু যদি হিট স্ট্রোক হয়েই যায়, তবে রোগীকে অবশ্যই দ্রুত হাসপাতালে নিতে হবে, ঘরে চিকিৎসা করার কোনো সুযোগ নেই। এ ক্ষেত্রে রোগীর আশপাশে যাঁরা থাকবেন তাঁদের করণীয় হলো—
* রোগীকে দ্রুত শীতল স্থানে নিয়ে যান।
* তাঁর কাপড় খুলে দিন।
* শরীর পানিতে ভিজিয়ে দিয়ে বাতাস করুন। এভাবে তাপমাত্রা কমাতে থাকুন।
* সম্ভব হলে কাঁধে, বগলে ও কুচকিতে বরফ দিন।
* রোগীর জ্ঞান থাকলে তাঁকে খাবার স্যালাইন দিন।
* দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার ব্যবস্থা করুন।
* সব সময় খেয়াল রাখবেন হিট স্ট্রোকে অজ্ঞান রোগীর শ্বাসপ্রশ্বাস এবং নাড়ি চলছে কি না। প্রয়োজন হলে কৃত্রিমভাবে নিশ্বাস ও নাড়ি চলাচলের ব্যবস্থা করতে হতে পারে।
হিট স্ট্রোকে জীবন বিপদাপন্ন হতে পারে। তাই এই গরমে যথাযথ সতর্কতা অবলম্বন করে এর থেকে বেঁচে থাকা উচিত।

সকল ব্লগ পোস্ট সমূহ -