কোন ব্যথায় কি ওষুধ দেওয়া হয়?

সিরিয়ালের জন্য যোগাযোগ করুন -

কোন ব্যথায় কি ওষুধ দেওয়া হয়

কোন ব্যথায় কি ওষুধ দেওয়া হয়?

‘ব্যথা’ মানব জীবনের খুবই আঙ্গাআঙ্গি ভাবে জড়িয়ে থাকা একটি বিষয়। আদিমকাল থেকেই মানুষের বিভিন্ন ধরনের ব্যথা হয়ে আসছে এবং এর জন্য প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে নানাবিধ চিকিৎসা পদ্ধতি আবিষ্কার হয়েছে, প্রয়োগ হয়েছে। ব্যথা নিয়ে অনেক মজার মজার কথাও প্রচলিত আছে। যেমন- ‘সর্বাঙ্গে ব্যথা, ওষুধ দেবো কোথা’ ‘ব্যথা যার মনে, ওষুধে কি আর সারিবে দেহে’। এরকম আরও অনেক আছে। যাই হোক, আজকের এই লেখার উদ্দেশ্য ব্যথার ওষুধ নিয়ে সাধারণ একটি ধারণা দেওয়া। কোন কোন ব্যথায় কি ধরনের ওষুধ ব্যবহার হয় তা সহজ কথায় তুলে ধরা।

ব্যথা কয় ধরনের?

মানুষের দেহে বিভিন্ন ধরনের ব্যথা হয়ে থাকে। আমি এগুলোকে মোট দু’ভাগে ভাগ করতে চাই। একটা হল মানসিক কারণ, আরেকটি হল শারিরিক কারণ। এই লেখায় মূলত শারিরিক কারণ নিয়েই বিস্তারিত লিখতে চাই। শেষে মানসিক কারণও থাকবে।

শারীরিক ব্যথা কয় ধরনের?

ব্যথা হয় মূলত চার ধরনের। যেমন :-
১. মাস্কুলো-স্কেলেটাল পেইন (মাংসপেশী-হাড়ের ব্যথা)।
২. ভিসেরাল পেইন (শাগ্ররীরের ভেতরের নরম অঙ্গ প্রত্যঙ্গের ব্যথা)।
৩. নিউরোপেথিক পেইন (স্নায়ুজনিত ব্যথা)।
৪. ভাস্কুলার পেইন/ ইসকেমিক পেইন (রক্ত চলাচলে বাধগ্রস্থ হওয়ার দরুন ব্যথা) 

এছাড়াও আরেকটি ব্যথা রক্তনালী/ভাস্কুলার রোগের ব্যথা বা ইনফার্কশনের ব্যথা। মূলত সবচেয়ে মারাত্মক ব্যথা হল এই ইনফার্কশন বা টিস্যু পচনের ব্যথা। আরো কিছু ব্যথা আছে, যেমন- দাতের ব্যথা, কানের ব্যথা, চোখের ব্যথা ইত্যাদি। আজকের আলোচনায় প্রধান তিন ব্যথা ছাড়াও অন্যান্য গুলো স্বল্প পরিসরে বলার চেষ্টা করবো।

সংক্ষেপে একটু ধারণা নেওয়া যাক ব্যথার ওষুধের ধরন সম্পর্কে:

ব্যথার ওষুধ প্রধানত তিন ধরনের।

যেমন-
১. সেন্ট্রালি এক্টিং: (ব্রেইন বা স্পাইনাল কর্ডে ব্যথার সংবেদনশীলতা বন্ধ করে। এদেরকে বলে অপিওয়েড। যেমন- মরফিন, পেথিডিন, ন্যালবিউফিন, ট্রামাডল ইত্যাদি)
২. লোকালি এক্টিং: (যেখানে ব্যথা-শুধু সেখানেই কাজ করবে। যেমন- NSAID, Beklcfen, Tiemonium, Hysomide)।
৩. পেইন মোডিফাইং এজেন্ট: (এরা ব্যথার মাত্রা বদলে দেবে বা কমিয়ে দেবে । যেমন- এমিট্রিপ্টাইলিন, সার্টালিন, ডায়াজেপাম, ডুলোক্সেটিন ইত্যাদি)।

এখন শুরুতেই আসা যাক।

১. মাস্কুলো-স্কেলেটাল পেইন :-

এটা মূলত হাড় এবং মাংসপেশীর ব্যথা। এটা হয় মূলত আঘাত জনিত কারণে। এই আঘাতের ধরন বিভিন্ন হতে পারে। যেমন- সরাসরি আঘাত অর্থাৎ রোড ট্রাফিক এক্সিডেন্ট বা মারামারি ফলে (ট্রমা) হতে পারে। আবার কোনও কাজ করতে গিয়ে মাসলে চাপ/টান পড়তে পারে। যাকে বলে মাসল স্ট্রেইন। যেমন- ভারী কিছু উচু করতে গিয়ে কোমড়ের মাংসপেশী বা বুকের মাংসপেশীতে টান লাগা ইত্যাদি। এই সব ক্ষেত্রে মূলত ব্যবহার হয় কিছু ব্যথার ওষুধ আর তার সাথে মাংসপেশী নরম করার ওষুধ। কারণ যে মাংসে আঘাত বা টান লাগে তা শক্ত হয়ে যায় এবং তার পাশ দিয়ে চলা নার্ভের উপর চাপ দেয়। তাই একে নরম করতে হয়। এই ব্যথাটা মৃদু থেকে তীব্র হতে পারে। নড়াচড়া করলেই ব্যথা বাড়তে পারে। অনেক সময় ব্যথা কিছুক্ষণ থেকে থেকে আসতে পারে, অনেক সময় অনবরত ব্যথা থেকে যেতে পারে।

এখন আসা যাক কি ধরনের ব্যথায় কি ওষুধ দেওয়া হয়?

একে বলে NSAID (নন-স্টেরয়ডাল এন্টি-ইনফ্লামাটরি ড্রাগ)। খুবই পরিচিত এবং প্রচলিত ওষুধ কিটোরোলাক, ন্যাপ্রোক্সেন, ডাইক্লোফেনাক, ইন্ডোমেথাসিন ইত্যাদি। এগুলোর সাইড ইফেক্ট হল এরা এসিডিটি বা বুক জ্বালা করে। তাই এর সাথে গ্যাসের ওষুধ দিতে হয়। বর্তমানে অনেক ধরনের ওষুধ আছে যাদেরকে বলে কক্স-২ ইনহিবিটর। যেমন- ইটোরিকক্সিব, সেলেকক্সিব। এদের সাইড ইফেক্ট কম। এজমার রোগীদের দেওয়া যায়। ব্লিডিং টেন্ডেন্সিও কম করে। যাই হোক, এর সাথে যে মাংসপেশী নরম করার ওষুধের কথা বলছিলাম। তা হল- স্কেলেটাল মাসল রিল্যাক্সান্ট। যেমন- বেক্লোফেন বা টলপেরিসন ইত্যাদি। বাচ্চাদেরকে আইবুপ্রফেন দেওয়া হয়।

বয়স্কদের যাদের কিডনীর অবস্থা ভাল না, পাকস্থলীর অবস্থাও মোটামুটি তাদের ক্ষেত্রে নিরাপদ হল প্যারাসিটামল। অনেকেই ভুলে যান যে, প্যারাসিটামল কিন্তু একটি ব্যথার ওষুধ। সে ক্ষেত্রে দুইটা করে ট্যাবলেট দিনে চার বেলা পর্যন্ত দেওয়া যেতে পারে। এমন কি অন্যান্য ব্যথার ওষুধের সাথেও এটা দেওয়া যায়। একে বলে সিনারজিস্টিক ইফেক্ট। অর্থাৎ ব্যথার ওষুধের কার্যকারীতা বাড়িয়ে দেয়। এর সাথে  মাংশপেশী নরম করতে এবং ব্যথা কমাতে আরও কিছু ওষুধের প্রভাব আছে। যেমন- ডায়াজেপাম, এমিট্রিপ্টাইলিন। এগুলোকে বলে পেইন মোডিফাইং এজেন্ট।

হাটু ব্যথা :-

মাস্কুলো স্কেলেটাল পেইনের মধ্যে হাটু ব্যথা একটা খুবই পরিচিত সমস্যা। এর কারণ অনুসন্ধান করে চিকিৎসা দিতে হয়। তবে খুবই পরিচিত কারণ হল অস্টিওআর্থারাইটিস। এসব ক্ষেত্রে উপরোক্ত ব্যথার ওষুধের সাথে স্টেরয়েডের একটা ভূমিকা আছে। ডেফ্লাজাকর্ট, প্রেডনিসোলন ব্যবহৃত হয়। এর পাশাপাশি গ্লুকোসামাইন, ডায়াসেরিন, কন্ড্রয়টিন ব্যবহার হয়। এগুলো হাড়ের উপরের নরম হাড় (কার্টিলেজ) তৈরীতে সাহায্য করে। এছাড়াও হাটুর মধ্যে স্টেরয়েড বা হায়ালুরোনেট (হায়ালুরোনিক এসিড) জেল ইঞ্জেকশন দেওয়া হয়।

২. ভিসেরাল পেইন :-

শরীরের হাড়-মাংস বাদে ভেতরের যত অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ বিশেষ করে নরম কোষের তৈরী তাদের সবাইকেই বলে ভিসেরা। যেমন- পাকস্তলি, পেটের সমস্ত নাড়িভুঁড়ি, লিভার, পিত্ত থলি, কিডনী, প্যানক্রিয়াস, ফুসফুস, হার্ট, রক্ত নালী, মূত্রনালী, মূত্র থলি, মেয়েদের জরায়ু, অভারি, অভারিয়ান নালি ইত্যাদি। এমন কি গলার ভেতরের গলবিল, স্বরযন্ত্র ইত্যাদি।

তবে আরো সুক্ষ ভাবে ভিসেরাল পেইন বলতে বুঝায় যে সব জায়গা নালীর মত এবং ফাঁপা- সে অঙ্গগুলোর ব্যথা। যেমন- পুরো পরিপাক তন্ত্র, পিত্ত থলি, মূত্রথলি, এপেন্ডিক্স, জরায়ু, জরায়ু নালী। এই সব জায়গার ব্যথা হলে ব্যথাটা হঠাৎ করে আসে, খামচে ধরার মত ব্যথা হয় আবার কিছুক্ষন পর ছেড়ে দেয়। তারপর আবার আসে। এভাবে চলতে থাকে। এদেরকে বলে কলিকি পেইন। এটা হয় মূলত ইনফেকশন, বা আলসারের জন্য। প্রেগনেন্সির সময়ও মাঝে মাঝে এমন ব্যথা হয়ে থাকে। যাদের অভারিতে বা ফেলোপিয়ান টিউবে ইনফেকশন হয় তাদেরও এরকম ব্যথা হতে পারে।  

৩. নিউরোপ্যাথিক পেইন :-

স্নায়ু জনিত ব্যথা। বিশেষ করে ডায়াবেটিস রোগীদের পায়ে বা সারা গা হাত পায়ে জ্বালা পোড়া করে, খোচায়, ঝিন ঝিন করে। এগুলোকে বলে পেরিফেরাল নিউরোপ্যাথী। আবার যাদের লো ব্যাক পেইন বা কোমড় ব্যথা থাকে। যেমন- কোমড়ের ডিস্ক সরে যাওয়া বা প্রোলাপ্সের জন্য যে ব্যথা হয়, তা অনেক সময় উরুর এর পেছন দিয়ে নিচের দিকে নামতে থাকে। একে বলে রেডিকুলোপ্যাথী। এদের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়- প্রিগাবালিন,  গাবাপেন্টিন। এর  সাথে এমিট্রিপ্টাইলিন, ডায়াজেপাম ইত্যাদি দেওয়া হয়। তবে এর মূল চিকিৎসা ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ বা ডিস্কের সঠিক চিকিৎসা। ফিজিওথেরাপী নেওয়া।

৪. ভাস্কুলার/ইস্কেমিক পেইন- রক্তনালীর ব্লক জনিত ব্যথা বা ইনফার্কশনের ব্যথা :-

হার্ট অ্যাটাকের ব্যথা। পৃথিবীর সবচেয়ে তীব্র ব্যথা হয় এটা। এই ব্যথা কোনো ব্যথার ওষুধ দিয়ে কমতে চায় না। তবে মরফিন বা পেথিডিন দেওয়া হয়। এর মূল চিকিৎসা হল রক্তনালীর ব্লক গলানো। তাহলেই ব্যথা চলে যাবে। এর জন্য স্ট্রেপ্টোকাইনেজ বা হেপারিন ব্যবহার হয় হাসপাতালে।

পায়ের রক্তনালীর ব্লক হলে সেই ব্লক অপসারন করতে হয় অপারেশন করে। যদি অল্প মাত্রায় ব্লক হয়। যেমন- সিগারেট স্মোকারদের বা ডায়াবেটিস রোগীদের পায়ে ব্যথা হয়। এসব ক্ষেত্রে সিলোস্টাজল, প্যন্টোক্সিফাইলিন, ফলিক এসিড, ভিটামিন বি-৬, বি-১২ ইত্যাদি দেওয়া হয়। তার সাথে মাংসপেশী নরম করা ওষুধ। প্যারাসিটামল দেওয়া যেতে পারে।

এবারে একটু করে বলতে চাই। কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যথা নিয়ে।

গলা ব্যথা :-

গলা ব্যথার প্রধান কারণ টনসিলে ইনফেকশন (টনসিলাইটিস), ফ্যারিঞ্জাইটিস, ল্যারিঞ্জাইটিস ইত্যাদি। এসব ক্ষেত্রে ভাল এন্টিবায়োটিক দিয়ে ইনফেকশন কমানো হয়। এর সাথে ব্যথা কমানোর জন্য ডায়ক্লোফেনাক, এসিক্লোফেনাক, আইবুপ্রফেন বা শুধু প্যারাসিটামল দেওয়া হয়। এর সাথে গরম পানির সাথে লবন দিয়ে গরগল এবং মেন্থল ভেপার নিতে বলা হয়।

দাঁতের ব্যথা :-

দাঁতের ব্যথার জন্য ডায়ক্লোফেনাক, এসিক্লোফেনাক, আইবুপ্রফেন বা শুধু প্যারাসিটামল দেওয়া হয়। তবে বেশি ব্যথা হলে ভল্টালিন সাপোজিটরিও দেওয়া যায়।

কানের ব্যথা :-

কানের ব্যথার জন্য প্যারাসিটামল বা আইবুপ্রোফেন দেওয়া হয়। তবে এসব ক্ষেত্রে লোকাল এন্টিবায়োটিক, এন্টিফাঙ্গাল, স্টেরয়েড ড্রপ দেওয়া হয়। এবং এতেই প্রদাহ বা সংক্রমন কমে গিয়ে ব্যথা কমে যায়।

চোখের ব্যথা :-

চোখ ব্যথার বিভিন্ন কারণ আছে। চোখের বিভিন্ন স্তরে বা লেয়ারের প্রদাহ জনিত কারণে ব্যথা হয়। আবার চোখের প্রেশার বেড়ে গিয়ে ব্যথা হতে পারে। যাকে বলে গ্লুকোমা। এসব ক্ষেত্রে এসিটাযোলামাইড, ল্যাটানোপ্রোস্ট, পাইলোকার্পিন, টাইমোলোল ইত্যাদি গ্রুপের ড্রপ দেওয়া হয়। তবে অবশ্যই এগুলো একজন চক্ষু বিশেষজ্ঞের পরামর্শে নিতে হবে। না হলে চোখের দৃষ্টি চিরতরে হারাতে হতে পারে। এছাড়া কঞ্জান্টিভাইটিস, বা ব্লেফারাইটিস হলে প্যারাসিটামল বা আইবুপ্রফেনেই কাজ হয় এবং এন্টিবায়োটিক/স্টেরয়েড ড্রপ দেওয়া হয়।  

মাথা ব্যথা :-

এটা একটা বড় অধ্যায়। এর উপরই অনেক বড় আলোচনা থাকে। সংক্ষেপে বলি। মাথা ব্যথার প্রধান ৪ কারণ।

১. টেনশন টাইপ হেডেক
২. মাইগ্রেন
৩. সাইনুসাইটিস
৪. ক্লাস্টার হেডেক।

টেনশন হেডেক :-

এটা হলে প্যারাসিটামল, দুশ্চিন্তা দূর করার জন্য ক্লোনাজেপাম, ডায়াজেপাম এবং এন্টি ডিপ্রেসান্ট যেমন- এসিটালোপ্রাম, ফ্লুপেনথিক্সল, সার্টালিন ভাল কাজ করে।

মাইগ্রেন :-

এখানে নিয়ম মানাই আসল। তারপরও টলফেনামিক এসিড, প্রপ্রানোলল, পিজোটিফেন, ফ্লুনারিজিন ইত্যাদি।

সাইনোসাইটিস :-

এখানেও নিয়ম মানতে হয়। এন্টিবায়োটিক লাগতে পারে। সাথে এন্টি-হিস্টামিন দেওয়া হয়। ব্যথার জন্য প্যারাসিটামল সহ উপরোক্ত ওষুধগুলোর সাহায্য নেওয়া যেতে পারে।

এছাড়াও মানসিক কারণে শরিরের বিভিন্ন জায়গায় ব্যথা হয়। এগুলোকে বলে সাইকো-সোমাটিক পেইন। বর্তমানে এর প্রচুর রোগী আছে। যাদের শরীরের বাস্তবে কোনো রোগ ধরা পড়ে না। অথচ মানসিক কারনে এদের ব্যথাও যেতেই চায় না। যেমন: খুব পরিচিত একটা অসুখ হল গ্যাসে সমস্যা বা বদ হজম। একে বলে নন-আলসার ডিসপেপসিয়া। নামেই বলে দিচ্ছে এতে কোনো আলসার নাই। তবুও আলসারের মতই ব্যথা হয়, গ্যাসে বুক জ্বালা পোড়া করে। আরেকটা অসুখ হল আইবিএস (ইরিটেবল বাউল সিন্ড্রোম)। কোনো সমস্যা নাই অথচ মাঝে মাঝেই পেট ব্যথা করে ওঠে, ডায়রিয়া হয় ইত্যাদি। এছাড়া মাথা ব্যথা বা বুকে ব্যথা তো আছেই। এ সব ক্ষেত্রে কিছু ওষুধ এবং কাউন্সিলিং খুব ফলপ্রসু হয়।

আবার যারা দীর্ঘদিন ডিপ্রেশন/হতাশায় ভোগেন, তাদের Non-specific Bodyache বা শরীরের বিভিন্ন জায়গায় ব্যথা হয়। এর কারন খুঁজে পাওয়া যায় না। এ সবের চিকিৎসা হওয়া উচিৎ একজন সাইক্রিয়াটিস্টের অধীনে।  

আসলে সারা শরীরের বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন ব্যথা হয়। এগুলো বুঝে সঠিক রোগনির্ণয় করে চিকিৎসা নিলে তবেই স্বস্থি মেলে। কিন্তু সঠিক রোগ নির্ণয় না করে আন্দাজে ব্যথার ওষুধ খেয়ে যাওয়া উচিৎ নয়। এতে কিডনী ক্ষতিগ্রস্থ হয়। তবে কিছু কিছু ব্যথার ওষুধ মাঝে মাঝে গ্যাপ দিয়ে খাওয়া যেতে পারে। তবে তা হতে হবে রেজিস্টার্ড ডাক্তারের পরামর্শ মতে।

সকল ব্লগ পোস্ট সমূহ -

হিটস্ট্রোক হলে কী করবেন?

সিরিয়ালের জন্য যোগাযোগ করুন -

হিটস্ট্রোক হলে কী করবেন?

হিটস্ট্রোক হলে কী করবেন?

দেশব্যাপী চলমান প্রচণ্ড তাপদাহে অতিষ্ঠ জনজীবন। রেকর্ড ছোঁয়া তাপমাত্রায় রাজধানীবাসীর জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। মাত্রাতিরিক্ত গরমে হিটস্ট্রোকের আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। এমন পরিস্থিতিতে কোনো কোনো জেলায় জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের না হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

হিট স্ট্রোক কী?

গরমের সময়ের একটি মারাত্মক স্বাস্থ্যগত সমস্যার নাম হিট স্ট্রোক। চিকিৎসা শাস্ত্র অনুযায়ী, প্রচণ্ড গরম আবহাওয়ায় শরীরের তাপ নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা নষ্ট হয়ে শরীরের তাপমাত্রা ১০৫ ডিগ্রি ফারেনহাইট ছাড়িয়ে গেলে তাকে হিট স্ট্রোক বলে।

স্বাভাবিক অবস্থায় রক্ত দেহের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখে। কোনো কারণে শরীরের তাপমাত্রা বাড়তে থাকলে ত্বকের রক্তনালি প্রসারিত হয় এবং অতিরিক্ত তাপ পরিবেশে ছড়িয়ে দেয়। প্রয়োজনে ঘামের মাধ্যমেও শরীরের তাপ কমে যায়। কিন্তু প্রচণ্ড গরম ও আর্দ্র পরিবেশে বেশি সময় অবস্থান বা পরিশ্রম করলে তাপ নিয়ন্ত্রণ আর সম্ভব হয় না। এতে শরীরের তাপমাত্রা দ্রুত বিপৎসীমা ছাড়িয়ে যায় এবং হিট স্ট্রোক দেখা দেয়।

হিট স্ট্রোক কাদের বেশি হয়?

প্রচণ্ড গরমে ও আর্দ্রতায় যে কারও হিট স্ট্রোক হতে পারে। তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে হিট স্ট্রোকের সম্ভাবনা বেড়ে যায়। যেমন-

* শিশু ও বৃদ্ধদের তাপ নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা কম থাকায় হিট স্ট্রোকের সম্ভাবনা বেড়ে যায়। এ ছাড়া বয়স্ক ব্যক্তিরা যেহেতু প্রায়ই বিভিন্ন রোগে ভোগেন কিংবা নানা ওষুধ সেবন করেন, যা হিট স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ায়।

* যাঁরা দিনের বেলায় প্রচণ্ড রোদে কায়িক পরিশ্রম করেন, তাঁদের হিট স্ট্রোকের ঝুঁকি বেশি। যেমন কৃষক, শ্রমিক, রিকশাচালক।

* শরীরে পানিস্বল্পতা হলে হিট স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ে।

* কিছু কিছু ওষুধ হিট স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ায় বিশেষ করে প্রস্রাব বাড়ানোর ওষুধ, বিষণ্নতার ওষুধ, মানসিক রোগের ওষুধ ইত্যাদি

হিট স্ট্রোকের লক্ষণগুলো কী?

তাপমাত্রা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দেহে নানা রকম প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। প্রাথমিকভাবে হিট স্ট্রোকের আগে অপেক্ষাকৃত কম মারাত্মক হিট ক্র্যাম্প অথবা হিট এক্সহসশন হতে পারে। হিট ক্র্যাম্পে শরীরের মাংসপেশিতে ব্যথা হয়, শরীর দুর্বল লাগে এবং প্রচণ্ড পিপাসা পায়। এর পরের ধাপে হিট এক্সহসশনে দ্রুত শ্বাসপ্রশ্বাস, মাথাব্যথা, ঝিমঝিম করা, বমিভাব, অসংলগ্ন আচরণ ইত্যাদি দেখা দেয়। এই দুই ক্ষেত্রেই শরীরের তাপ নিয়ন্ত্রণ ঠিক থাকে এবং শরীর অত্যন্ত ঘামতে থাকে। এ অবস্থায় দ্রুত ব্যবস্থা না নেওয়া হলে হিট স্ট্রোক হতে পারে। এর লক্ষণ গুলো হলো—
* শরীরের তাপমাত্রা দ্রুত ১০৫ ডিগ্রিº ফারেনহাইট ছাড়িয়ে যায়।
* ঘাম বন্ধ হয়ে যায়।
* ত্বক শুষ্ক ও লালচে হয়ে যায়।
* নিশ্বাস দ্রুত হয়।
* নাড়ির স্পন্দন ক্ষীণ ও দ্রুত হয়।
* রক্তচাপ কমে যায়।
* খিঁচুনি, মাথা ঝিমঝিম করা, অস্বাভাবিক আচরণ, হ্যালুসিনেশন, অসংলগ্নতা ইত্যাদি।
* প্রস্রাবের পরিমাণ কমে যায়।
* রোগী শকেও চলে যায়। এমনকি অজ্ঞান হয়ে যেতে পারে।

প্রতিরোধের উপায় কী?

গরমের দিনে কিছু সতর্কতা মেনে চললে হিট স্ট্রোকের বিপদ থেকে বেঁচে থাকা যায়। এগুলো হলো—
* হালকা, ঢিলেঢালা পোশাক পরুন। কাপড় সাদা বা হালকা রঙের হতে হবে। সুতি কাপড় হলে ভালো।
* যথাসম্ভব ঘরের ভেতরে বা ছায়াযুক্ত স্থানে থাকুন।
* বাইরে যেতে হলে মাথার জন্য চওড়া কিনারাযুক্ত টুপি, ক্যাপ বা ছাতা ব্যবহার করুন।
* বাইরে যাঁরা কাজকর্মে নিয়োজিত থাকেন, তাঁরা মাথায় ছাতা বা মাথা ঢাকার জন্য কাপড়জাতীয় কিছু ব্যবহার করতে পারেন।
* প্রচুর পানি ও অন্যান্য তরল পান করুন। মনে রাখবেন, গরমে ঘামের সঙ্গে পানি ও লবণ দুই-ই বের হয়ে যায়। তাই পানির সঙ্গে সঙ্গে লবণযুক্ত পানীয় যেমন-খাবার স্যালাইন, ফলের রস, লাচ্ছি ইত্যাদিও পান করতে হবে। পানি অবশ্যই বিশুদ্ধ হতে হবে।
* তাপমাত্রা বৃদ্ধিকারী পানীয় যেমন-চা ও কফি যথাসম্ভব কম পান করা উচিত।
* রোদের মধ্যে শ্রমসাধ্য কাজ করা থেকে বিরত থাকুন। এসব কাজ সম্ভব হলে রাতে বা খুব সকালে করুন। যদি দিনে করতেই হয়, তবে কিছুক্ষণ পরপর বিশ্রাম নিতে হবে ও প্রচুর পানি ও স্যালাইন পান করতে হবে।

আক্রান্ত হলে কী করণীয়?

প্রাথমিকভাবে হিট স্ট্রোকের আগে যখন হিট ক্র্যাম্প বা হিট এক্সহসশন দেখা দেয়, তখনই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিলে হিট স্ট্রোক প্রতিরোধ সম্ভব। এ ক্ষেত্রে ব্যক্তি নিজেই যা করতে পারেন তা হলো—
* দ্রুত শীতল কোনো স্থানে চলে যান। যদি সম্ভব হয়, ফ্যান বা এসি ছেড়ে দিন।
* ভেজা কাপড় দিয়ে শরীর মুছে ফেলুন। সম্ভব হলে গোসল করুন।
* প্রচুর পানি ও খাবার স্যালাইন পান করুন। চা বা কফি পান করবেন না।

কিন্তু যদি হিট স্ট্রোক হয়েই যায়, তবে রোগীকে অবশ্যই দ্রুত হাসপাতালে নিতে হবে, ঘরে চিকিৎসা করার কোনো সুযোগ নেই। এ ক্ষেত্রে রোগীর আশপাশে যাঁরা থাকবেন তাঁদের করণীয় হলো—
* রোগীকে দ্রুত শীতল স্থানে নিয়ে যান।
* তাঁর কাপড় খুলে দিন।
* শরীর পানিতে ভিজিয়ে দিয়ে বাতাস করুন। এভাবে তাপমাত্রা কমাতে থাকুন।
* সম্ভব হলে কাঁধে, বগলে ও কুচকিতে বরফ দিন।
* রোগীর জ্ঞান থাকলে তাঁকে খাবার স্যালাইন দিন।
* দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার ব্যবস্থা করুন।
* সব সময় খেয়াল রাখবেন হিট স্ট্রোকে অজ্ঞান রোগীর শ্বাসপ্রশ্বাস এবং নাড়ি চলছে কি না। প্রয়োজন হলে কৃত্রিমভাবে নিশ্বাস ও নাড়ি চলাচলের ব্যবস্থা করতে হতে পারে।
হিট স্ট্রোকে জীবন বিপদাপন্ন হতে পারে। তাই এই গরমে যথাযথ সতর্কতা অবলম্বন করে এর থেকে বেঁচে থাকা উচিত।

সকল ব্লগ পোস্ট সমূহ -

অ্যালার্জির হওয়ার কারণ ও প্রতিরোধ।

সিরিয়ালের জন্য যোগাযোগ করুন -

অ্যালার্জির হওয়ার কারণ ও প্রতিরোধ।

হাঁচি থেকে শুরু করে খাবার ও ওষুধের প্রতিক্রিয়াতে এই রোগ হতে পারে। কারও ক্ষেত্রে অ্যালার্জি সামান্য অসুবিধা করে। আবার কারও ক্ষেত্রে জীবনকে দুর্বিষহ করে তোলে।

ঘরের ধুলাবালি পরিষ্কার করছেন। দেখা গেল হঠাৎ করে হাঁচি এবং পরে শ্বাসকষ্ট হচ্ছে। অথবা ফুলের গন্ধ নিচ্ছেন বা গরুর মাংস, চিংড়ি, ইলিশ বা গরুর দুধ খেলেই শুরু হল শরীর চুলকানি আর চামড়ায় লাল লাল চাকা হয়ে ফুলে ওঠা।

এলার্জি খুব কমন একটা সমস্যা। শিশুদের এলার্জি হওয়ার প্রবণতা বেশি থাকে। তবে বয়স বাড়ার সাথে সাথে লক্ষণগুলো কমে যেতে পারে। আবার অনেকের ছোটোবেলায় এলার্জির সমস্যা না থাকলেও, পরবর্তীতে নতুন করে এলার্জি দেখা দিতে পারে। কিছু বিধিনিষেধ মেনে চললে এলার্জি অনেকাংশেই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।

অ্যালার্জি কী?

20240226_235817

আমাদের শরীর সব সময়ই ক্ষতিকর বস্তুকে (পরজীবী, ছত্রাক, ভাইরাস, এবং ব্যাকটেরিয়া) প্রতিরোধের মাধ্যমে রোগ প্রতিরোধের চেষ্টা করে। কখনও কখনও আমাদের শরীর সাধারণত ক্ষতিকর নয় এমন অনেক ধরনের বস্তুকেও ক্ষতিকর ভেবে প্রতিরোধের চেষ্টা করে। সাধারণত ক্ষতিকর নয় এমন সব বস্তুর প্রতি শরীরের এ অস্বাভাবিক প্রতিক্রিয়াকে অ্যালার্জি বলা হয়।

সাধারণত যেসব জিনিসের সংস্পর্শে আসলে শরীরে এলার্জি দেখা দেয় তার মধ্যে রয়েছে—

  • নির্দিষ্ট কিছু খাবার
  • ধুলাবালি
  • গরম অথবা ঠান্ডা আবহাওয়া
  • ঘাম
  • গৃহপালিত পশু-পাখি
  • পরাগ রেণু ও ফুলের রেণু
  • সূর্যরশ্মি
  • ডাস্ট মাইট
  • মোল্ড বা ছত্রাক
  • বিভিন্ন ঔষধ
  • কীটনাশক
  • ডিটার্জেন্ট ও বিভিন্ন রাসায়নিক পদার্থ
  • ল্যাটেক্স বা বিশেষ ধরনের রাবারের তৈরি গ্লাভস ও কনডম
  • স্ট্রেস বা মানসিক চাপ

এলার্জি জাতীয় খাবারের তালিকাঃ

সচরাচর যেসব খাবারে এলার্জি হতে দেখা যায় তার মধ্যে রয়েছে—

  • চিংড়ি
  • বেগুন
  • ইলিশ মাছ
  • গরুর মাংস
  • বাদাম

এ ছাড়া শিশুদের ক্ষেত্রে ডিম ও দুধেও এলার্জি হতে পারে।

একেকজন মানুষের একেক ধরনের জিনিস অথবা খাবারে এলার্জি থাকতে পারে। তাই কোন ধরনের জিনিসের সংস্পর্শে আসলে অথবা খাবার খেলে এলার্জির লক্ষণ দেখা দিচ্ছে সেই বিষয়ে লক্ষ রাখা প্রয়োজন। এটি খুঁজে বের করতে পারলে এলার্জি নিয়ন্ত্রণে রাখা অনেক সহজ হয়ে যায়।

এলার্জির লক্ষণসমূহ

20240226_222554

শরীর এলার্জিক উপাদানের সংস্পর্শে আসার পর খুব কম সময়ের মধ্যে এর প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। এলার্জির লক্ষণগুলো হলো—

  • চামড়ায় চুলকানি, র‍্যাশ বা ফুসকুড়ি হওয়া
  • শরীরের কিছু অংশ চাকা চাকা হয়ে যাওয়া বা ফুলে যাওয়া, ফোস্কা পড়া ও চামড়া ঝরে যাওয়া
  • ঠোঁট, জিহ্বা, চোখ ও মুখ ফুলে যাওয়া
  • চোখে চুলকানি, চোখ থেকে পানি পড়া, লাল হওয়া ও ফুলে যাওয়া
  • শুকনো কাশি, হাঁচি, নাকে ও গলায় চুলকানি ও নাক বন্ধ হওয়া
  • শ্বাসকষ্ট, বুকে চাপ চাপ লাগা ও শ্বাস নেওয়ার সময়ে শোঁ শোঁ শব্দ হওয়া

বমি বমি ভাব, বমি, পেট ব্যথা, পেট কামড়ানো ও ডায়রিয়া

মারাত্মক এলার্জিক প্রতিক্রিয়া

এলার্জিক উপাদানের প্রতি তীব্র প্রতিক্রিয়া থেকে খুব অল্প কিছু ক্ষেত্রে অ্যানাফিল্যাক্সিস নামক একটি জরুরি অবস্থা তৈরি হতে পারে। এ অবস্থায় দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে রোগীর মৃত্যু হতে পারে। এমন রোগীকে যত দ্রুত সম্ভব নিকটস্থ হাসপাতালে নিতে হবে। সময়মতো একটি ইনজেকশন দিলেই রোগীর জীবন বাঁচানো সম্ভব।

অ্যানাফিল্যাক্সিস হচ্ছে কি না যেভাবে বুঝবেন—

  • শ্বাসকষ্ট অথবা শ্বাস নেওয়ার সময়ে শোঁ শোঁ শব্দ হওয়া
  • বুক-গলা আঁটসাঁট হয়ে আসছে বা আটকে আসছে বলে মনে হওয়া
  • মুখ, ঠোঁট, জিহ্বা অথবা গলা ফুলে যাওয়া
  • ঠোঁট ও ত্বক নীল হয়ে যাওয়া
  • জ্ঞান হারানোর মতো অনুভূতি হওয়া অথবা পুরোপুরি অজ্ঞান হয়ে যাওয়া
  • বিভ্রান্তি ও দুশ্চিন্তা
  • মাথা ঘুরানো অথবা ভারসাম্য হারিয়ে ফেলা
  • বুক ধড়ফড় করা কিংবা শরীর ঘামে ভিজে যাওয়া
  • চামড়ায় চুলকানিসহ লাল লাল ফুসকুড়ি বা র‍্যাশ হওয়া অথবা চামড়া ফুলে ওঠা
  • শরীরের কিছু জায়গা থেকে চামড়া উঠে আসা কিংবা ফোস্কা পড়া

এলার্জি আছে এমন খাবার ও ঔষধ, ডাক্তারি পরীক্ষা-নিরীক্ষায় ব্যবহৃত কন্ট্রাস্ট বা ডাই অথবা পোকামাকড়ের কামড় থেকে অ্যানাফিল্যাক্সিস হতে পারে।

 

যখন ডাক্তারের কাছে যেতে হবে

নিচের তিনটি ক্ষেত্রে ডাক্তারের কাছে যাওয়া গুরুত্বপূর্ণ—

  • ঔষধ খাওয়ার পরেও লক্ষণ দূর না হলে
  • ডাক্তারের দেওয়া ঔষধ খাওয়ার পর নতুন লক্ষণ দেখা দিলে কিংবা সমস্যা আরও বেড়ে গেলে
  • মারাত্মক এলার্জিক প্রতিক্রিয়া দেখা দিলে

 

এলার্জির চিকিৎসা

20240226_222416(1)

খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাত্রায় কিছু বিধিনিষেধ মেনে চললে এলার্জি অনেকাংশেই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।

ওষুধ প্রয়োগ: অ্যালার্জি ভেদে ওষুধ প্রয়োগ করা যেতে পারে।

ঘরোয়া প্রতিকার ও জীবনযাত্রা

যেসব খাবার ও ঔষধে এলার্জি হয় সেগুলো এড়িয়ে চলবেন। হাঁপানি অথবা শ্বাসনালীর অন্য কোনো রোগ থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চলবেন। স্ট্রেস বা মানসিক চাপ মোকাবেলায় শারীরিক ব্যায়াম, যোগব্যায়াম ও শ্বাসের ব্যায়াম করা যেতে পারে।

এলার্জি প্রতিরোধ

এলার্জি থেকে মুক্ত থাকার সবচেয়ে ভালো উপায় হলো যেসব বস্তুতে এলার্জি রয়েছে সেগুলো এড়িয়ে চলা। এলার্জি প্রতিরোধে নিচের পরামর্শগুলো মেনে চলুন—

  • এলার্জি ঘটায় এমন খাবারগুলো এড়িয়ে চলুন। 
  • গৃহপালিত পশু-পাখির বাসস্থান বাড়ির বাইরে তৈরি করুন এবং তাদের নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখুন।
  • ডাস্ট মাইট নামক এক প্রকার অতিক্ষুদ্র পোকা থেকে এলার্জি প্রতিরোধ করতে বাড়ির যে জায়গাগুলোতে বেশি সময় কাটানো হয় সেগুলো ধুলামুক্ত ও পরিষ্কার রাখুন। বিছানার চাদর, কাঁথা, বালিশ ও লেপের কভার, জানালার পর্দা—এগুলো সপ্তাহে অন্তত একবার গরম পানি দিয়ে ধুয়ে নিন। যেসব জিনিস নিয়মিত ধোয়া যায় না সেগুলো বাসায় যত কম ব্যবহার করা যায়, ততই ভালো। যেমন: কার্পেট।

এ ছাড়া বিছানা গোছানো ও ঝাড়া-মোছা করার সময়ে ভালো একটা মাস্ক পড়ুন। যেসব জিনিস ভেজা কাপড় দিয়ে মোছা যায় সেগুলো ভেজা কাপড় দিয়ে মুছুন। এতে ধুলা ছড়াবে না।



প্রেগন্যান্সি টেস্ট করার সঠিক সময় ও নিয়ম

সিরিয়ালের জন্য যোগাযোগ করুন -

প্রেগন্যান্সি টেস্ট করার সঠিক সময় ও নিয়ম

প্রেগন্যান্সি টেস্ট করার সঠিক সময় ও নিয়ম

গর্ভবতী হওয়ার সবচেয়ে সাধারণ লক্ষণ হলো পিরিয়ড মিস হওয়া। কিন্তু কোনো নারীর পিরিয়ড মিস হয়েছে মানেই যে সে গর্ভধারণ করেছে, এমনটা ধরে নেওয়া যাবে না। আরও অনেক কারণেই পিরিয়ড মিস হতে পারে।  এই অবস্থায় আপনি গর্ভধারণ করেছেন কি না সেটি জানার সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য উপায় হলো কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা। এসব পরীক্ষাকে ‘প্রেগন্যান্সি টেস্ট’ বলা হয়।

আপনি ডাক্তার অথবা স্বাস্থ্যকর্মীর কোনো রকম সাহায্য ছাড়া ঘরে বসেই প্রেগন্যান্সি টেস্ট করতে পারবেন। যত তাড়াতাড়ি গর্ভধারণের ব্যাপারে নিশ্চিত হতে পারবেন, তত দ্রুত আপনার ও গর্ভের শিশুর জন্য প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনাগুলো মেনে চলা শুরু করতে পারবেন।

প্রেগন্যান্সি টেস্ট কতদিন পর করতে হয়?

মাসিকের সম্ভাব্য সময়ের মধ্যে মাসিক শুরু না হলে এবং সম্প্রতি আপনি জন্মনিরোধক পদ্ধতি (যেমন: কনডম, পিল বা বড়ি ও ইনজেকশন) ব্যবহার ছাড়া সহবাস করে থাকলে, প্রেগন্যান্সি টেস্ট করতে পারেন। মাসিক মিস হওয়ার প্রথম দিনই আপনি প্রেগন্যান্সি টেস্ট করে গর্ভবতী কি না সেটি জেনে নিতে পারেন।

প্রেগন্যান্সি টেস্টে সাধারণত গর্ভবতী নারীদের প্রস্রাবে একটি হরমোনের উপস্থিতি নির্ণয় করা হয়। গর্ভবতী নারীদের প্রস্রাবে এই হরমোনের পরিমাণ শুরুর দিকে অল্প পরিমাণে থাকে। তাই গর্ভধারণের একদম শুরুর দিকে অথবা সহবাসের পর পরই এই টেস্ট করলে সাধারণত হরমোনের উপস্থিতি সঠিকভাবে নির্ণয় করা সম্ভব হয় না।

এজন্য সহবাসের পর কমপক্ষে ২১ দিন অথবা পরবর্তী মাসিকের সম্ভাব্য তারিখ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়।

বর্তমানে কিছু আধুনিক প্রেগন্যান্সি টেস্টের মাধ্যমে পিরিয়ডের সম্ভাব্য তারিখ আসার অনেক আগে, এমনকি গর্ভধারণের নয় দিনের মধ্যেই আপনি গর্ভধারণ করেছেন কি না সেটি নিশ্চিতভাবে জানা যায়।

কীভাবে প্রেগন্যান্সি টেস্ট করবেন?

প্রেগন্যান্সি টেস্ট করার অনেকগুলো উপায় আছে। এর মধ্যে প্রেগন্যান্সি টেস্ট কিট বা কাঠি দিয়ে আপনি সবচেয়ে সহজ ও কম খরচে ঘরে বসেই টেস্ট করতে পারবেন।

সাধারণত নির্দিষ্ট সময়ে পিরিয়ড না হলে প্রথমেই প্রেগন্যান্সি কিটের সাহায্যে টেস্ট করা হয়ে থাকে। ফার্মেসিতে ৩০–১০০ টাকার মধ্যে বিভিন্ন কোম্পানির প্রেগন্যান্সি টেস্ট কিট পাওয়া যায়।

এ ছাড়াও ডাক্তারের কাছে গিয়ে রক্ত পরীক্ষা, প্রস্রাব পরীক্ষা ও আলট্রাসাউন্ড পরীক্ষার মাধ্যমে আপনি গর্ভবতী কি না সেই বিষয়ে পুরোপুরি নিশ্চিত হতে পারবেন। পাশাপাশি গর্ভের সন্তানের হৃৎপিণ্ডের কার্যক্রমও হয়তো শনাক্ত করা যেতে পারে।

প্রেগন্যান্সি টেস্ট কিট কী?

কোন নারী গর্ভবতী হলে তা ঘরে বসেই পরীক্ষার মাধ্যমে জানা সম্ভব। যে কিটের মাধ্যমে এই পরীক্ষা করা হয় তার নাম প্রেগন্যান্সি কিট। এটি ওষুধের দোকানে কিনতে পাওয়া যায়।

প্রেগন্যান্সি টেস্ট কিট ব্যবহারের নিয়ম

প্রস্তুতকারকভেদে প্রেগন্যান্সি টেস্ট কিটের ব্যবহারবিধি কিছুটা ভিন্ন হতে পারে। কিটের প্যাকেটের ভেতরের নির্দেশিকায় কীভাবে প্রেগন্যান্সি টেস্ট করতে হবে সেটি বিস্তারিতভাবে লেখা থাকে। নির্দেশিকা অনুসরণ করে আপনি সহজেই ঘরে বসে প্রেগন্যান্সি টেস্ট করে ফেলতে পারবেন।

সচরাচর যেসব প্রেগন্যান্সি টেস্ট কিট পাওয়া যায়, সেগুলোর প্যাকেটের ভেতরে একটি লম্বা কাঠি বা বক্স থাকে। তাতে একটি ‘S’ লেখা ঘর থাকে। এ ঘরে আপনাকে কয়েক ফোঁটা প্রস্রাব দিয়ে কয়েক মিনিট অপেক্ষা করতে হবে। তারপর বক্সের ‘C’ ও ‘T’ লেখা অন্য দুইটি ঘরের দিকে লক্ষ রাখতে হবে।

শুধু ‘C’ ঘরে একটি দাগ দেখা গেলে পরীক্ষার ফলাফল নেগেটিভ, অর্থাৎ আপনি হয়তো গর্ভবতী না। আর ‘C’ ও ‘T’ দুইটি ঘরেই দাগ দেখা গেলে ফলাফল পজিটিভ, অর্থাৎ আপনি গর্ভবতী।

শুধুমাত্র সকালে ঘুম থেকে ওঠার পরেই এ টেস্ট করতে হবে এমন কোনো নিয়ম নেই। আপনি দিনের যেকোনো সময়েই এই পরীক্ষাটি করতে পারেন। প্রয়োজনে একাধিকবার টেস্ট করতে পারেন।শুধুমাত্র সকালে ঘুম থেকে ওঠার পরেই এ টেস্ট করতে হবে এমন কোনো নিয়ম নেই। আপনি দিনের যেকোনো সময়েই এই পরীক্ষাটি করতে পারেন। প্রয়োজনে একাধিকবার টেস্ট করতে পারেন।

প্রেগন্যান্সি টেস্ট কিট কীভাবে কাজ করে?

প্রেগন্যান্সি টেস্ট কিটের মাধ্যমে প্রস্রাবে ‘বেটা হিউম্যান কোরিওনিক গোনাডোট্রপিন’ নামের একটি বিশেষ হরমোনের উপস্থিতি নির্ণয় করা হয়। গর্ভবতী নারীদের প্রস্রাবে এই হরমোনের পরিমাণ অনেক বেশি থাকে। যা কিটের মাধ্যমে শনাক্ত করা যায়।

টেস্ট কিট দিয়ে প্রস্রাবে এই হরমোনের উপস্থিতি শনাক্ত করা গেলে সেই ফলাফলকে ‘পজিটিভ’ বলে। আর শনাক্ত করার মতো যথেষ্ট পরিমাণ হরমোন না পাওয়া গেলে তাকে ‘নেগেটিভ’ বলে। ফলাফল পজিটিভ আসলে তা বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই নির্ভুল হয়ে থাকে। তাই ফলাফল পজিটিভ আসলে একজন গাইনী ডাক্তার অথবা হাসপাতালে গিয়ে গর্ভাবস্থায় করণীয় সম্পর্কে জেনে নিতে হবে।

জেনে রাখা ভালো

প্রেগন্যান্সি টেস্টের ফলাফল পজিটিভ হওয়ার পরেও আপনি চিকিৎসকের কাছে যেয়ে আরও কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে পুরোপুরি নিশ্চিত হয়ে নেবেন। পুরোপুরি নিশ্চিত হওয়ার জন্য আরও যেসব পরীক্ষা করা হয়—

  • আল্ট্রাসনোগ্রাফি করা হয়
  • ফিতা দিয়ে জরায়ুর আকার মাপা হয়
  • রক্ত পরীক্ষা করা হয়
  • ডপলার আল্ট্রাসনোগ্রাফির মাধ্যমে আপনার গর্ভের শিশুর হার্টের কার্যকলাপ নির্ণয় করা হয়
 

প্রেগন্যান্সি টেস্ট কিটের ফলাফল কতটা সঠিক?

সাধারণত সঠিক নিয়মে পরীক্ষা করলে প্রেগন্যান্সি টেস্ট কিট বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সঠিক তথ্য দেয়। তবে প্রেগন্যান্সি টেস্ট কিটের ফলাফল হিসাবের সময়ে নিচের বিষয়গুলো মাথায় রাখা জরুরি—

  • গর্ভধারণের ছয় দিন পর থেকেই শরীরে ‘বেটা হিউম্যান কোরিওনিক গোনাডোট্রপিন’ নামের বিশেষ হরমোন তৈরি হতে শুরু করে। তবে অনেক ক্ষেত্রে আট-দশ দিন সময়ও লাগতে পারে। গর্ভাবস্থার শুরুর দিকে শরীরে এই হরমোনের পরিমাণ তুলনামূলক কম থাকে। ধীরে ধীরে এই হরমোনের পরিমাণ বাড়তে থাকে। তাই অনেকক্ষেত্রেই গর্ভাবস্থার একেবারে শুরুর দিকে কিট দিয়ে পরীক্ষা করলে গর্ভবতী নারীদের ক্ষেত্রেও ফলাফল নেগেটিভ আসতে পারে।
  • অনেকেই অনিয়মিত মাসিকের সমস্যায় ভোগেন। ফলে তারা মাসিকের সম্ভাব্য তারিখ ঠিকমতো হিসাব করতে পারেন না। সেক্ষেত্রে অনেকেই পর্যাপ্ত পরিমাণ হরমোন তৈরি হওয়ার আগেই টেস্ট করে ফেলতে পারেন। এমন হলেও গর্ভবতী নারীদের ক্ষেত্রেও টেস্টের ফলাফল নেগেটিভ আসতে পারে।
  • এ ছাড়াও প্যাকেটের নির্দেশনা ঠিকমতো না মেনে পরীক্ষা করলে গর্ভবতী হলেও ভুলবশত কিট টেস্টের ফলাফল নেগেটিভ আসতে পারে।

তাই টেস্টের ফলাফল নেগেটিভ আসার পরেও আপনার পিরিয়ড না হলে অথবা আপনার নিজেকে গর্ভবতী মনে হলে কয়েকদিন পর আবার প্রেগন্যান্সি টেস্ট করতে পারেন।

দ্বিতীয়বার টেস্টের ফলাফল নেগেটিভ আসার পরেও যদি আপনার পিরিয়ড না হয় তাহলে দ্রুত কোনো গাইনী ডাক্তার অথবা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কিংবা সদর হাসপাতালে যেতে হবে। সেখানে আরও কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে আপনি গর্ভবতী কি না সেই বিষয়ে নিশ্চিত হতে পারবেন।

সাধারণ জিজ্ঞাসা

প্রেগন্যান্সি টেস্ট করার সঠিক সময় ও নিয়ম যত তাড়াতাড়ি গর্ভধারণের ব্যাপারে নিশ্চিত হতে পারবেন, তত দ্রুত আপনার ও গর্ভের শিশুর জন্য প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনাগুলো মেনে চলা শুরু করতে পারবেন।

মিলনের কত দিন পর প্রেগন্যান্সি টেস্ট করতে হয়?

সহবাসের কমপক্ষে ২১ দিন পরে আপনি প্রেগন্যান্সি টেস্ট করতে পারেন। প্রেগন্যান্সি টেস্টে সাধারণত গর্ভবতী নারীদের প্রস্রাবে একটি হরমোনের উপস্থিতি নির্ণয় করা হয়। গর্ভবতী নারীদের প্রস্রাবে এই হরমোনের পরিমাণ শুরুর দিকে অল্প পরিমাণে থাকে। তাই গর্ভধারণের একদম শুরুর দিকে অথবা সহবাসের পর পরই এই টেস্ট করলে সাধারণত সেই হরমোনের উপস্থিতি নির্ণয় করা সম্ভব হয় না। এজন্য সহবাসের পর কমপক্ষে ২১ দিন অথবা পরবর্তী মাসিকের সম্ভাব্য তারিখ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়।

লবণ দিয়ে প্রেগনেন্সি টেস্ট কীভাবে করে?

লবণ দিয়ে প্রেগন্যান্সি টেস্ট করা যায়—এটি একটি সম্পূর্ণ ভুল ধারণা। এখন পর্যন্ত কোনো গবেষণায় প্রমাণিত হয়নি যে, লবণ অথবা টুথপেস্ট গর্ভবতী নারীর প্রস্রাবের ‘বেটা হিউম্যান কোরিওনিক গোনাডোট্রপিন’ হরমোনের উপস্থিতি নির্ণয় করতে পারে। 

প্রেগন্যান্সি টেস্ট কিটের দাম খুব বেশি না। যেকোনো ঔষধের দোকানেই আপনি টেস্ট কিট খুঁজে পাবেন। তাই আপনি গর্ভবতী কি না তা জানতে লবণ দিয়ে অথবা অন্য কোনো অবৈজ্ঞানিক উপায়ে গর্ভধারণের পরীক্ষা না করে, প্রেগন্যান্সি টেস্ট কিট কিনে পরীক্ষা করুন।

প্রেগন্যান্সি টেস্ট কি শুধু সকালবেলায় করা যায়?   

প্রেগন্যান্সি টেস্ট শুধু সকালবেলায় করতে হয়—এটি সঠিক নয়। আপনি দিনের যেকোনো সময়েই প্রেগন্যান্সি টেস্ট করতে পারেন। তবে সকালে ঘুম থেকে ওঠার পরে প্রস্রাব করার সময়েই প্রেগন্যান্সি টেস্ট করে ফেলা ভালো। কারণ এই সময়ে প্রস্রাবে হরমোনের ঘনত্ব সবচেয়ে বেশি থাকে। ফলে আপনি গর্ভবতী হয়ে থাকলে সঠিক ফলাফল পাওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়।

তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সারাদিনের যেকোনো সময়েই এই টেস্ট সঠিক ফলাফল দিয়ে থাকে।

মাসিক মিস হওয়ার কত দিন পর প্রেগন্যান্ট বোঝা যায়?

মাসিক মিস হওয়ার প্রথম দিনই আপনি প্রেগন্যান্সি টেস্ট করতে পারেন। সাধারণত মাসিক মিস হওয়ার প্রথম দিনেই আপনি গর্ভবতী কি না তা জানা যায়। তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে আপনার প্রস্রাবে হরমোনের পরিমাণ কম থাকতে পারে। এমনটা হলে আপনি গর্ভবতী হলেও টেস্টের ফলাফল নেগেটিভ আসতে পারে। তাই মাসিক মিস হওয়ার প্রথম দিন টেস্ট করার পর ফলাফল নেগেটিভ আসলে আপনি কয়েকদিন পর আবার টেস্ট করতে পারেন।

20240226_220128

শেষ কথা?

কিট দিয়ে রিপোর্ট পজিটিভ আসার পর চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করুন। তিনি কিছুদিন পর রক্তের কিছু সাধারণ পরীক্ষা আর আল্ট্রাসনোগ্রাম করতে পরামর্শ দেবেন। সন্দেহ হলে ল্যাবরেটরিতে গিয়ে আবার প্রস্রাব পরীক্ষা করে নিতে পারেন।

সকল ব্লগ পোস্ট সমূহ -

অস্টিওপরোসিস কী? হাড় ক্ষয় কেন হয়, সেরে ওঠার উপায় কী?

সিরিয়ালের জন্য যোগাযোগ করুন -

অস্টিওপরোসিস কী? হাড় ক্ষয় কেন হয়, সেরে ওঠার উপায় কী?

অস্টিওপোরোসিস বা অস্টিওপোরেসিস (ইংরেজি: Osteoporosis) হল ক্যালসিয়াম এর অভাব জনিত একটা রোগ।
এটি হাড়ের এমন এক ধরণের ক্ষয় রোগ যা আপনার হাড়কে ভীষণ দুর্বল করে ফেলে, যার কারণে সামান্য আঘাতেই ভেঙ্গে যায় বা ফেটে যায়। বাংলাদেশ অর্থোপেডিক সোসাইটির মতে, দেশটির মোট জনসংখ্যার অন্তত তিন শতাংশ অস্টিওপরোসিসে আক্রান্ত এবং পুরুষের তুলনায় নারীদের এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি ।

চিকিৎসকরা বলছেন এই রোগে আক্রান্তদের অনেকেই তাদের রোগ সম্পর্কে জানেন না এবং আক্রান্তদের সময়মতো সঠিক চিকিৎসা না হলে এমনকি ছয় মাসেই মৃত্যু ঘটতে পারে।

সোসাইটির গবেষণায় পাওয়া তথ্য অনুযায়ী যদিও তাদের অনেকের জানাই নেই যে তারা হাড় ক্ষয় রোগে আক্রান্ত হয়েছেন।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিজিক্যাল মেডিসিন ও রিহ্যাবিলিটেশন বিভাগের অধ্যাপক একেএম সালেক বলছেন ৫০ বছর বয়সী যারা এ রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন তাদের প্রতি দশজনের নয়জনই নারী। তবে ৭০ বছর বয়সীদের মধ্যে পুরুষের সংখ্যা কিছুটা বেড়ে সাধারণত এ অনুপাত হয় ৬:৪ বা ৭:৩।

চিকিৎসকরা বলছেন তাদের ধারণা আগামী পাঁচ বছরে নন-কমিউনিকেবল যেসব রোগে মানুষ বেশি আক্রান্ত হয় তার মধ্যে শীর্ষ পাঁচে এই হাড় ক্ষয় রোগ উঠে আসবে।

“হার্ট, স্ট্রোক, ডায়াবেটিস ও ফুসফুসের সমস্যার পর হাড় ক্ষয় রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেশি হবে বলে আমরা ধারণা করছি,” বলছিলেন মিস্টার সালেক।

হাড় ক্ষয় কেন হয়?

Osteoporosis in human bone illustration

কারও যদি ধূমপান, অতিরিক্ত মদপান ও মাদক সেবনের মতো অভ্যাস থাকে, সেটিও অস্টিওপরোসিসের ঝুঁকি বাড়ানোর কারণ। আবার ভিটামিন ডি ও ক্যালসিয়ামের ঘাটতি হলে, হাইপার থাইরয়েডিজম বা হরমোনের ভারসাম্যহীনতা থাকলে, ডায়াবেটিস, ক্যান্সারের মতো জটিল রোগের কারণে যেকোনো বয়সীদের অস্টিওপরোসিস হতে পারে।

অস্টিও অর্থ হাড় এবং পরোসিস অর্থ পোরস বা ছিদ্র। সে হিসেবে অস্টিওপরোসিস বলতে বোঝায় যখন হাড়ে বেশি পরিমাণে ছিদ্র থাকে।

হাড়ে বেশি ছিদ্র থাকা মানে বোন ডেনসিটি বা হাড়ের ঘনত্ব কমে যাওয়া। এতে হাড় দুর্বল হয়ে পড়ে। ফলে সহজেই হাড় ভেঙ্গে যাওয়া বা ফ্র্যাকচার হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। হাড় দুর্বল হওয়ার এই স্বাস্থ্যগত অবস্থাই অস্টিওপরোসিস।

হাড়ের দু’টি অংশ থাকে। ওপরের শক্ত আবরণটিকে বলা হয় কমপ্যাক্ট বোন। ভেতরে স্পঞ্জের মতো ছিদ্র ছিদ্র করা স্তরটিকে বলা হয় স্পঞ্জি বোন বা ট্রেবাকুলার বোন।

অস্টিওপরোসিস হলে হাড়ের ওপরের আবরণ বা কম্প্যাক্ট বোন অনেক পাতলা হয়ে যায় এবং স্পঞ্জি অংশটির ছিদ্র বেড়ে যায় বা ঘনত্ব কমে যায়, যা হাড়কে দুর্বল করে ফেলে।

হাড় সাধারণত একদিকে ক্ষয় হতে থাকে আরেকটি গঠন হতে থাকে। যদি ক্ষয় হওয়ার গতি, নতুন হাড় গঠন হওয়ার গতির চাইতে কমে যায়, তখনই অস্টিওপরোসিস হয়।

কম্প্যাক্ট বোনের গঠন প্রতি ১০ বছর অন্তর আর স্পঞ্জি বোন প্রতি তিন বা চার বছর পর পর বদলায়।

মূলত বয়স বাড়ার সাথে সাথে হাড় দুর্বল হতে থাকে যা বার্ধক্যের একটি স্বাভাবিক বিষয়। তবে কিছু মানুষের এই হাড় ক্ষয়ের প্রবণতা স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি।

ব্রিটেনের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের তথ্যমতে, মানুষের হাড় সবচেয়ে বেশি মজবুত অবস্থায় থাকে ২৫ থেকে ৩০ বছর বয়সের মধ্যে। এরপর থেকে হাড় দুর্বল হতে শুরু করে।

 

উপসর্গ :

20240225_125936

আশঙ্কার বিষয় হচ্ছে আপনার অস্টিওপরোসিস আছে কিনা সেটা আগে থেকে বোঝার কোনো উপায় নেই। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে হাড় ভাঙলে বা ফ্র্যাকচার হলেই কেবল বিষয়টি সামনে আসে।

প্রাথমিক অবস্থায় এই রোগের কোনো লক্ষণ থাকে না কিন্তু পরিস্থিতি যখন জটিল রূপ নেয় তখন রোগীর-

ঘাড়ে, কোমরে, মেরুদণ্ডে প্রতিনিয়ত ব্যথা হয়
পেশী ব্যথা করে বা পেশী দুর্বল লাগে
বয়স্কদের ক্ষেত্রে উচ্চতা কমে যায় বা কুঁজো হয়ে যায়, কারণ হাড় ক্ষয় হওয়ার কারণে মেরুদণ্ড শরীরের ভার নিতে পারে না, এজন্য মেরুদণ্ড বাঁকা হয়ে শরীর ঝুঁকে আসে, অনেক সময় হাড় ভেঙে যায়
পাঁজরের হাড় নীচের দিকে ঝুলে পড়ে
হাড় না ভাঙ্গা পর্যন্ত অস্টিওপরোসিস সাধারণত কষ্টকর হয় না, তবে মেরুদণ্ডের হাড় একবার ভাঙলে সেটা দীর্ঘদিন ধরে ভুগতে হয়।

পরীক্ষা:

অস্টিওপরোসিস পরীক্ষা করা হয় ডুয়েল এনার্জি এক্স রে অ্যাবজরপ-শিওমেট্রি বা সংক্ষেপে ডেক্সা স্ক্যানের মাধ্যমে।

এখানে রোগীকে শুইয়ে তার শরীরের বিভিন্ন অংশ স্ক্যান করা হয় যা সম্পূর্ণ ব্যথামুক্ত পদ্ধতি। এটা করতে ১০ থেকে ২০ মিনিট সময় লাগে, এক্ষেত্রে শরীরের যে অংশটি স্ক্যান করা হচ্ছে তার উপর সময় নির্ভর করে।

একজন সুস্থ প্রাপ্তবয়স্ক তরুণের হাড়ের সাথে তুলনা করে রোগীর হাড়ের ঘনত্ব পরিমাপ করা হয়। এই গণনা করা হয় টি স্কোর দিয়ে।

পরীক্ষায় রোগীর টি স্কোর যদি মাইনাস দুই দশমিক পাঁচ বা তার কম আসে, তাহলে বুঝতে হবে তার অস্টিওপরোসিস আছে।

এছাড়া পরীক্ষায় রোগীর হাড়ের পরিস্থিতি কয়েকটি গ্রেডে ভাগ করা হয়। রোগীর হাড়ের অবস্থা কোন গ্রেডে আছে, রোগীর বয়স, লিঙ্গ, ভবিষ্যতে হাড় ভাঙার ঝুঁকি কতোটা আছে, আগে হাড় ভেঙেছিল কিনা সেটার ওপর ভিত্তি করে চিকিৎসা দেয়া হয়ে থাকে।

আপনার যদি অস্টিওপেনিয়া অর্থাৎ প্রাথমিক অবস্থায় রোগটি ধরা পড়ে তাহলে আপনার হাড় সুস্থ রাখতে এবং অস্টিওপরোসিস হওয়ার ঝুঁকি কমাতে আপনি কিছু পদক্ষেপ নিতে পারেন।

যদি অস্টিওপরোসিস ধরা পড়েই যায় তাহলে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নেয়ার পাশাপাশি চলাফেরায় সাবধান হতে হবে এবং নিয়মিত চোখের দৃষ্টি ও শ্রবণশক্তি পরীক্ষা করাতে হবে।

প্রতিরোধ:

অস্টিওপরোসিস প্রতিকারের চাইতে প্রতিরোধের ওপর বেশি জোর দিতে বলেছেন বিশেষজ্ঞরা।

এই রোগের ঝুঁকি যেহেতু বয়সের সাথে বাড়ে তাই আগে থেকেই সতর্ক হতে হবে। আমরা বয়স্কদের শুয়ে বসে থাকতে বলি। কিন্তু বয়সের সাথে সাথে শারীরিক পরিশ্রম করা বেশ জরুরি।

যারা নিয়মিত কায়িক শ্রম করেন বা শরীরচর্চা করেন তাদেরও হাড়ের গঠন মজবুত হয়, হাড় ক্ষয়ের গতি কমে যায় এবং হাড় গঠনের গতি বেড়ে যায়।

রক্তের ক্যালসিয়াম, ফসফেট সেইসাথে অ্যাস্ট্রোজেন, টেস্টোটেরন ও গ্রোথ হরমোন হাড়ের গঠনে সাহায্য করে।

তাই ক্যালসিয়াম, ভিটামিন, প্রোটিন, ওমেগা-থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড, অ্যান্টি অক্সিডেন্টযুক্ত খাবার খেলে সেইসাথে নিয়মিত চিকিৎসকের পরামর্শে ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি সাপ্লিমেন্ট খেলে, অস্টিওপরোসিস প্রতিরোধ করা সম্ভব। প্রতিদিন অন্তত ১০ মাইক্রোগ্রাম ভিটামিন ডি সমৃদ্ধ খাবার খেতেই হবে।

সেইসাথে ধূমপান ও মদপানের অভ্যাস থাকলে তা পরিত্যাগ করতে হবে।

চিকিৎসা:

pexels-mart-production-7089289

হাড় মজবুত করার ওষুধ দিয়ে অস্টিওপরোসিসের চিকিৎসা করা যায়।

প্রতিনিয়ত আমাদের যে হাড় গঠন হচ্ছে সেটা কেমন মজবুত হবে, সেটা নির্ভর করবে শরীরের সেরাম ক্যালসিয়াম লেভেলের ওপর।

মানবদেহের প্যারাথাইরয়েড হরমোন ও ক্যালসাটোনিন হরমোন আর ভিটামিন ডি এই সেরাম ক্যালসিয়াম লেভেলকে প্রভাবিত করে।

চিকিৎসকরা সাধারণত রোগীর পরিস্থিতি বুঝে, ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি সাপ্লিমেন্ট, ন্যাসাল স্প্রে, সাপ্তাহিক বা মাসিক ট্যাবলেট, বছরে একবার হরমোনাল ইনজেকশন, হরমোনাল ওষুধ, ইত্যাদি প্রেস্ক্রাইব করে থাকেন।

মেনোপজের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছেন এমন নারীদের ওষুধ বা ইনজেকশনের মাধ্যমে অ্যাস্ট্রোজেনের মাত্রা বাড়ানো হয় যা হাড়ের ঘনত্ব বাড়াতে সাহায্য করে।

তবে এসব ওষুধের বেশ কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া আছে। সে বিষয়ে চিকিৎসকের কাছ থেকে জেনে নেয়া দরকার।

ঢাকার সার্জারী বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের তালিকা

সিরিয়ালের জন্য যোগাযোগ করুন -

ঢাকার সেরা সার্জারি বিশেষজ্ঞ ডাক্তারদের তালিকা: যোগ্যতা, বিশেষত্ব ও চেম্বার

Published: August 12-2026

ঢাকার সেরা সার্জারি বিশেষজ্ঞ ডাক্তারদের তালিকা: যোগ্যতা, বিশেষত্ব ও চেম্বার

ঢাকায় সার্জারি বিশেষজ্ঞ ডাক্তার খুঁজছেন? পেটের ব্যথা, অ্যাপেন্ডিসাইটিস, হার্নিয়া, পিত্তথলিতে পাথর, পাইলস, ফিস্টুলা, ব্রেস্টের সমস্যা, টিউমার কিংবা অন্য কোনো সার্জিক্যাল সমস্যার জন্য সঠিক চিকিৎসক নির্বাচন করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

একজন অভিজ্ঞ জেনারেল সার্জন রোগ নির্ণয় থেকে শুরু করে প্রয়োজন অনুযায়ী ওষুধ, ছোটখাটো প্রক্রিয়া অথবা অস্ত্রোপচারের পরামর্শ দিতে পারেন। আবার নির্দিষ্ট রোগের ক্ষেত্রে ল্যাপারোস্কোপিক সার্জন, কোলোরেক্টাল সার্জন, ব্রেস্ট সার্জন বা সার্জিক্যাল অনকোলজিস্টের পরামর্শ প্রয়োজন হতে পারে।

এই আর্টিকেলে ঢাকার সেরা সার্জারি বিশেষজ্ঞ ডাক্তারদের তালিকা, তাদের চিকিৎসার ক্ষেত্র, রোগ অনুযায়ী কোন ধরনের সার্জনের কাছে যাবেন এবং ডাক্তার বাছাই করার গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো তুলে ধরা হলো।

ঢাকার সেরা সার্জারি বিশেষজ্ঞ ডাক্তারদের তালিকা

নিচের তালিকাটি বিভিন্ন চিকিৎসকের প্রকাশিত পেশাগত তথ্য ও বিশেষায়িত চিকিৎসা ক্ষেত্রের ভিত্তিতে তৈরি। ডাক্তার নির্বাচন করার আগে সংশ্লিষ্ট হাসপাতাল বা চেম্বার থেকে বর্তমান তথ্য যাচাই করা উচিত।

ডাঃ বিদ্যুৎ চন্দ্র দেবনাথ জেনারেল ও ল্যাপারোস্কোপিক সার্জারি বিশেষজ্ঞ এমবিবিএস (ঢাকা), এফসিপিএস (সার্জারী)। ব্রেস্ট, এন্ডোক্রাইন জেনারেল এন্ড ল্যাপারোস্কপিক সার্জন। সহযোগী অধ্যাপক- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা।

ডাঃ বিদ্যুৎ চন্দ্র দেবনাথ

জেনারেল ও ল্যাপারোস্কোপিক সার্জারি বিশেষজ্ঞ

 

এমবিবিএস (ঢাকা), এফসিপিএস (সার্জারী)। ব্রেস্ট, এন্ডোক্রাইন জেনারেল এন্ড ল্যাপারোস্কপিক সার্জন।

সহযোগী অধ্যাপক- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা।

পিত্তথলীর পাথর, এ্যাপেন্ডিক্স, হার্নিয়া, পাইলস, ফিস্টুলা, টিউমার, স্তন, পায়ুপথ ও ক্যান্সার সার্জারী বিশেষজ্ঞ।

চেম্বারের ঠিকানা: বাড়ি নম্বর #১ ও ৩, রোড – ২, ব্লক – বি, মিরপুর – ১০, ঢাকা

ডাক্তারের প্রোফাইল দেখতে ক্লিক করুন

ডা. মো. সিরাজুস সালেহীন অনকোলোজিস্ট ও অর্থোপেডিক সার্জন এমবিবিএস (ঢাকা), বিসিএস (স্বাস্থ্য) এমএস (অর্থো সার্জারি) পঙ্গু হাসপাতাল, ঢাকা ফেলোশিপ ইন অর্থো অনকোলোজি এন্ড আর্থোপ্লাস্টি (ইংল্যান্ড) সহকারী অধ্যাপক. অর্থোপেডিক সার্জারি এবং ইউনিট প্রধান, অর্থো অনকোলজি ইউনিট জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা ইন্সটিটিউট ও হাসপাতাল অর্থোপেডিক আলোক হাসপাতাল .

ডা. মো. সিরাজুস সালেহীন

অনকোলোজিস্ট ও অর্থোপেডিক সার্জন

 

এমবিবিএস (ঢাকা), বিসিএস (স্বাস্থ্য)

এমএস (অর্থো সার্জারি) পঙ্গু হাসপাতাল, ঢাকা ফেলোশিপ ইন অর্থো অনকোলোজি এন্ড আর্থোপ্লাস্টি (ইংল্যান্ড)

সহকারী অধ্যাপক. অর্থোপেডিক সার্জারি এবং ইউনিট প্রধান, অর্থো অনকোলজি ইউনিট জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা ইন্সটিটিউট ও হাসপাতাল অর্থোপেডিক

চেম্বারের ঠিকানা: বাড়ি-১, সড়ক-৫, ব্লক-এ, সেকশন-৬, মিরপুর-ঢাকা

ডাক্তারের প্রোফাইল দেখতে ক্লিক করুন

ডাঃ তনিমা আহমেদ তনু সার্জারি বিশেষজ্ঞ স্তন সার্জন, কোলোরেক্টাল এবং ল্যাপারোস্কোপিক সার্জন, জেনারেল এবং ল্যাপারোস্কোপিক সার্জন

ডাঃ তনিমা আহমেদ তনু

সার্জারি বিশেষজ্ঞ

স্তন সার্জন, কোলোরেক্টাল এবং ল্যাপারোস্কোপিক সার্জন, জেনারেল এবং ল্যাপারোস্কোপিক সার্জন

এমবিবিএস, বিসিএস (স্বাস্থ্য) এফসিপিএস (সার্জারি)

রেজিস্ট্রার শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, ঢাকা।

তিনি পিত্তথলির পাথর, হার্নিয়া, অ্যাপেন্ডিসাইটিস, পাইলস, ফিস্টুলা এবং কোলন বা মলদ্বারের বিভিন্ন জটিল রোগের চিকিৎসা ও অপারেশন করে থাকেন।

চেম্বারের ঠিকানা: বাড়ি-১, সড়ক-৫, ব্লক-এ, সেকশন-৬, মিরপুর-ঢাকা

ডাক্তারের প্রোফাইল দেখতে ক্লিক করুন

ডাঃ মো. আশরাফুর রহমান (তামীম) জেনারেল, ল্যাপোরোস্কোপিক এন্ড ক্যান্সার সার্জন এমবিবিএস (ঢাকা), বিসিএস (স্বাস্থ্য), এফসিপিএস (সার্জারি), কনসালটেন্ট (সার্জারি) ক্যান্সার সার্জারি বিভাগ জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল, ঢাকা

ডাঃ মো. আশরাফুর রহমান (তামীম)

জেনারেল, ল্যাপোরোস্কোপিক এন্ড ক্যান্সার সার্জন

এমবিবিএস (ঢাকা), বিসিএস (স্বাস্থ্য),
এফসিপিএস (সার্জারি), কনসালটেন্ট (সার্জারি)

ক্যান্সার সার্জারি বিভাগ
জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল, ঢাকা

চেম্বারের ঠিকানা: বাড়ি নম্বর #১ ও ৩, রোড – ২, ব্লক – বি, মিরপুর – ১০, ঢাকা

ডাক্তারের প্রোফাইল দেখতে ক্লিক করুন

ডাঃ সাদিয়া রসুল/Dr. Sadia Rasul. ব্রেষ্ট সার্জন, পায়ু রাস্তা ও মলদ্বার বিশেষজ্ঞ সার্জন, জেনারেল ও ল্যাপারোস্কোপিক সার্জারি বিশেষজ্ঞ। এমবিবিএস (ঢাকা), এমএস (জেনারেল সার্জারি) সার্জারি বিশেষজ্ঞ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা। ( পিজি হাসপাতাল) বিএমডিসি রেজিঃ ৭৪৫৬৪।

ডাঃ সাদিয়া রসুল

             জেনারেল, ল্যাপোরোস্কোপিক

এমবিবিএস (ঢাকা), এমএস (জেনারেল সার্জারি)

সার্জারি বিশেষজ্ঞ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা। ( পিজি হাসপাতাল) বিএমডিসি রেজিঃ ৭৪৫৬৪।

ব্রেষ্ট সার্জন, পায়ু রাস্তা ও মলদ্বার বিশেষজ্ঞ সার্জন, জেনারেল ও ল্যাপারোস্কোপিক সার্জারি বিশেষজ্ঞ।

চেম্বারের ঠিকানা: রোড-১৩, বাড়ী-৩৩, রূপনগর আবাসিক এরিয়া, মেইন রোড, মিরপুর, ঢাকা-১২১৬।

ডাক্তারের প্রোফাইল দেখতে ক্লিক করুন

লে. কর্নেল ডা. কাজী সবরান উদ্দিন আহম্মদ পিবিজিএমএস এমবিবিএস, এফসিপিএস (জেনারেল সার্জারী) এমএসপিএস (সার্জারী) এফসিপিএস (কোলোরেক্টাল সার্জারী) এফএমএএস (ইন্ডিয়া), এফএসিএস (ইউএসএ) সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল (CMH), ঢাকা।

লে. কর্নেল ডাঃ কাজী সবরান উদ্দিন আহম্মদ

জেনারেল, ল্যাপারোস্কপিক ও কোলোরেক্টাল সার্জন

পিবিজিএমএস এমবিবিএস, এফসিপিএস (জেনারেল সার্জারী)
এমএসপিএস (সার্জারী) এফসিপিএস (কোলোরেক্টাল সার্জারী)
এফএমএএস (ইন্ডিয়া), এফএসিএস (ইউএসএ)
সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল (CMH), ঢাকা।

চেম্বারের ঠিকানা: বাড়ি নম্বর #১ ও ৩, রোড – ২, ব্লক – বি, মিরপুর – ১০, ঢাকা

ডাক্তারের প্রোফাইল দেখতে ক্লিক করুন

অধ্যাপক ডা. আফরোজা গণি

স্ত্রীরোগ, প্রসূতীবিদ্যা ও বন্ধ্যাত্ব রোগ বিশেষজ্ঞ এবং সার্জন
এমবিবিএস, এমসিপিএস, ডিজিও,
এমএস (গাইনি এন্ড অবস্)
ডিএমইউ (আলট্রাসনোগ্রাফি), বিসিএস (স্বাস্থ্য),
এমপিএইচ
ফেলো অফ মিনিমাল অ্যাক্সেস (ল্যাপারোস্কপিক) সার্জারি, ভারত
ডিপ্লোমা ইন এসিস্টেড রিপ্রডাক্টিভ টেকনোলজি, ভারত
ডিপ্লোমা ইন অবস্টেটিক্স এন্ড গাইনিকোলজি আল্ট্রাসনোগ্রাফি, ভারত
অধ্যাপক (সিসি), গাইনি এন্ড অবস্
শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল, ঢাকা

চেম্বারের ঠিকানা: বাড়ি নম্বর #১ ও ৩, রোড – ২, ব্লক – বি, মিরপুর – ১০, ঢাকা

ডাক্তারের প্রোফাইল দেখতে ক্লিক করুন

ডা. ফারজানা ইসলাম বীথি প্রসূতি, স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ এবং গাইনি ক্যান্সার বিশেষজ্ঞ ও সার্জন এমবিবিএস, এফসিপিএস, এমএস (অবস্ এণ্ড গাইনি), এফসিপিএস (গাইনি অনকোলজি) আলট্রাসনোগ্রাম, ডায়াবেটিস (সিসিডি), কলপোস্কোপি ও ল্যাপারোস্কোপিক সার্জারিতে প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত সহকারী অধ্যাপক ( গাইনী অনকোলজি) বিভাগ, জাতীয় ক্যান্সার ইন্সটিটিউট ও হাসপাতাল, মহাখালী, ঢাকা।

ডা: ফারজানা ইসলাম বীথি

    প্রসূতি, স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ এবং গাইনি ক্যান্সার বিশেষজ্ঞ ও সার্জন


এমবিবিএস, এফসিপিএস, এমএস (অবস্ এণ্ড গাইনি), এফসিপিএস (গাইনি অনকোলজি)
আলট্রাসনোগ্রাম, ডায়াবেটিস (সিসিডি), কলপোস্কোপি ও ল্যাপারোস্কোপিক সার্জারিতে প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত


সহকারী অধ্যাপক ( গাইনী অনকোলজি) 
জাতীয় ক্যান্সার ইন্সটিটিউট ও হাসপাতাল, মহাখালী, ঢাকা।

চেম্বারের ঠিকানা: রোড-১৩, বাড়ী-৩৩, রূপনগর আবাসিক এরিয়া, মেইন রোড, মিরপুর, ঢাকা-১২১৬।

ডাক্তারের প্রোফাইল দেখতে ক্লিক করুন

Dr. Ariful Islam MBBS (Dhaka), DLO (O) MRCS (on course) Otolaryngology and head-neck surgery, Combined Military Hospital (CMH), Dhaka, Registrar, Delta Medical College and Hospital Dhaka, Member of Dundee Institute of Head and Neck Education (DI HNE, UK)

ডাঃ আরিফুল ইসলাম

            কান, নাক ও গলার সার্জন

এমবিবিএস (ঢাকা), ডিএলও (ও) এমআরসিএস

(অবশ্যই) অটোলারিনোলজি এবং হেড-নেক সার্জারি, কম্বাইন্ড মিলিটারি হাসপাতাল (সিএমএইচ), ঢাকা,

রেজিস্ট্রার, ডেল্টা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল ঢাকা, ডান্ডি ইনস্টিটিউট অফ হেড অ্যান্ড নেক এডুকেশনের সদস্য (ডিআই) এইচএনই, ইউকে)

চেম্বারের ঠিকানা:রোড-১৩, বাড়ী-৩৩, রূপনগর আবাসিক এরিয়া, মেইন রোড, মিরপুর, ঢাকা-১২১৬।

ডাক্তারের প্রোফাইল দেখতে ক্লিক করুন

কোন রোগের জন্য কোন সার্জারি বিশেষজ্ঞ?

সব সার্জন সব ধরনের অস্ত্রোপচারে সমানভাবে বিশেষায়িত নন। আপনার রোগ অনুযায়ী সঠিক ধরনের সার্জন নির্বাচন করা গুরুত্বপূর্ণ।

হার্নিয়ার জন্য

পেট বা কুঁচকির অংশে অস্বাভাবিক ফোলা, ব্যথা বা ভারী কিছু তুললে অস্বস্তি হলে হার্নিয়া থাকতে পারে। হার্নিয়ার চিকিৎসায় জেনারেল সার্জন বা ল্যাপারোস্কোপিক সার্জন প্রয়োজন হতে পারে।

অ্যাপেন্ডিসাইটিসের জন্য

ডান পাশের নিচের পেটে তীব্র ব্যথা, বমি বমি ভাব, জ্বর ইত্যাদি অ্যাপেন্ডিসাইটিসের লক্ষণ হতে পারে। সন্দেহ হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। প্রয়োজন হলে সার্জন অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।

গলব্লাডারে পাথরের জন্য

পিত্তথলিতে পাথর বা গলস্টোনের ক্ষেত্রে অনেক সময় ল্যাপারোস্কোপিক সার্জারির প্রয়োজন হতে পারে। এ ক্ষেত্রে জেনারেল ও ল্যাপারোস্কোপিক সার্জন দেখানো যেতে পারে।

পাইলস, ফিস্টুলা ও ফিশারের জন্য

মলদ্বারে ব্যথা, রক্তপাত, পুঁজ, ফোলা বা দীর্ঘদিনের অস্বস্তি থাকলে কোলোরেক্টাল সার্জন বা সংশ্লিষ্ট সার্জারি বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া যেতে পারে।

ব্রেস্টের গাঁট বা অন্যান্য সমস্যা

ব্রেস্টে গাঁট, অস্বাভাবিক পরিবর্তন বা অন্য কোনো সার্জিক্যাল সমস্যা দেখা দিলে প্রথমে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। প্রয়োজন অনুযায়ী ব্রেস্ট সার্জন বা সার্জিক্যাল অনকোলজিস্টের কাছে রেফার করা হতে পারে।

টিউমার বা ক্যান্সারের জন্য

টিউমার বা ক্যান্সারের ক্ষেত্রে রোগের ধরন ও অবস্থান অনুযায়ী সার্জিক্যাল অনকোলজিস্ট প্রয়োজন হতে পারে। এ ধরনের রোগে সার্জারি ছাড়াও অন্যান্য চিকিৎসা প্রয়োজন হতে পারে।


ল্যাপারোস্কোপিক সার্জারি কী?

ল্যাপারোস্কোপিক সার্জারি হলো এমন একটি আধুনিক অস্ত্রোপচার পদ্ধতি যেখানে সাধারণত বড় কাটার পরিবর্তে ছোট ছিদ্রের মাধ্যমে বিশেষ যন্ত্র ও ক্যামেরা ব্যবহার করে অপারেশন করা হয়।

কিছু নির্দিষ্ট অপারেশনে এই পদ্ধতি ব্যবহার করলে তুলনামূলকভাবে ছোট ক্ষত, কম ব্যথা এবং দ্রুত দৈনন্দিন কাজে ফেরার সুবিধা পাওয়া যেতে পারে। তবে প্রতিটি রোগীর জন্য ল্যাপারোস্কোপিক সার্জারি উপযুক্ত নয়। রোগীর শারীরিক অবস্থা ও রোগের ধরন বিবেচনা করে সার্জন সিদ্ধান্ত নেন।

সার্জারি বিশেষজ্ঞ ডাক্তার দেখানোর আগে কী করবেন?

ডাক্তারের কাছে যাওয়ার সময় আপনার আগের চিকিৎসার কাগজপত্র, রিপোর্ট, আল্ট্রাসনোগ্রাম/CT/MRI রিপোর্ট এবং বর্তমানে যে ওষুধগুলো খাচ্ছেন তার তালিকা সঙ্গে রাখুন।

ডাক্তারের কাছে গিয়ে জানতে পারেন:

  • রোগটির সঠিক নাম কী?
  • অপারেশন প্রয়োজন কি না?
  • অপারেশন না করলে কী সমস্যা হতে পারে?
  • ল্যাপারোস্কোপিক নাকি ওপেন সার্জারি প্রয়োজন?
  • অপারেশনের সম্ভাব্য ঝুঁকি কী?
  • হাসপাতালে কতদিন থাকতে হতে পারে?
  • অপারেশনের পর কতদিন বিশ্রাম প্রয়োজন?
  • চিকিৎসার আনুমানিক খরচ কত হতে পারে?

ঢাকার সেরা সার্জারি ডাক্তার নির্বাচন করবেন কীভাবে?

অনলাইনে “ঢাকার সেরা সার্জন” লিখে পাওয়া প্রথম নামটিই বেছে নেওয়া উচিত নয়। চিকিৎসক নির্বাচন করার সময় নিচের বিষয়গুলো বিবেচনা করুন:

১. শিক্ষাগত যোগ্যতা: চিকিৎসকের MBBS এবং সার্জারির উচ্চতর ডিগ্রি রয়েছে কি না দেখুন।

২. বিশেষায়িত অভিজ্ঞতা: আপনার নির্দিষ্ট রোগের চিকিৎসা ও সার্জারিতে চিকিৎসকের অভিজ্ঞতা আছে কি না বিবেচনা করুন।

৩. হাসপাতাল সুবিধা: যে হাসপাতালে চিকিৎসা বা অপারেশন হবে সেখানে প্রয়োজনীয় ICU, অ্যানেসথেশিয়া, ল্যাব ও জরুরি চিকিৎসা সুবিধা আছে কি না দেখুন।

৪. দ্বিতীয় মতামত: বড় বা জটিল অপারেশনের ক্ষেত্রে প্রয়োজনে অন্য একজন যোগ্য সার্জনের second opinion নিতে পারেন।

৫. বর্তমান তথ্য যাচাই: চিকিৎসকের চেম্বার, সিরিয়াল নম্বর, ভিজিটিং সময় এবং হাসপাতালের তথ্য আগে থেকে নিশ্চিত করুন।

কখন দ্রুত সার্জনের পরামর্শ নেবেন?

তীব্র পেটব্যথা, পেট ফুলে যাওয়া, বারবার বমি, রক্তপাত, হঠাৎ কোনো স্থানে প্রচণ্ড ফোলা বা ব্যথা, উচ্চ জ্বরের সঙ্গে পেটের সমস্যা অথবা আঘাতজনিত গুরুতর সমস্যায় দেরি না করে চিকিৎসা নেওয়া উচিত।

জরুরি অবস্থায় অনলাইনে ডাক্তার খোঁজার পরিবর্তে নিকটস্থ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে যাওয়াই নিরাপদ।

ঢাকার সার্জারি বিশেষজ্ঞ ডাক্তার — FAQ

ঢাকার সেরা সার্জারি বিশেষজ্ঞ ডাক্তার কে?

একজন নির্দিষ্ট ডাক্তারকে সবার জন্য “সেরা” বলা ঠিক নয়। রোগের ধরন অনুযায়ী উপযুক্ত বিশেষজ্ঞ নির্বাচন করাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। যেমন হার্নিয়ার জন্য জেনারেল/ল্যাপারোস্কোপিক সার্জন এবং ক্যান্সারের ক্ষেত্রে সার্জিক্যাল অনকোলজিস্ট প্রয়োজন হতে পারে।

হার্নিয়ার জন্য কোন ডাক্তার দেখাব?

হার্নিয়ার জন্য সাধারণত একজন জেনারেল সার্জন বা ল্যাপারোস্কোপিক সার্জন দেখানো যায়। রোগীর অবস্থা দেখে সার্জন চিকিৎসার পদ্ধতি নির্ধারণ করবেন।

গলব্লাডারে পাথর হলে কোন ডাক্তার দেখাব?

গলস্টোন বা পিত্তথলির পাথরের জন্য জেনারেল সার্জন বা ল্যাপারোস্কোপিক সার্জনের পরামর্শ নেওয়া যেতে পারে।

পাইলসের জন্য সার্জারি বিশেষজ্ঞ দেখানো প্রয়োজন কি?

পাইলসের সব রোগীর অপারেশন প্রয়োজন হয় না। রোগের মাত্রা ও উপসর্গের ওপর নির্ভর করে চিকিৎসা নির্ধারণ করা হয়। প্রয়োজন হলে জেনারেল বা কোলোরেক্টাল সার্জনের পরামর্শ নেওয়া যেতে পারে।

ল্যাপারোস্কোপিক সার্জারি কি সবার জন্য করা যায়?

না। রোগের ধরন, রোগীর বয়স, শারীরিক অবস্থা, আগের অপারেশনের ইতিহাসসহ বিভিন্ন বিষয় বিবেচনা করে সার্জন সিদ্ধান্ত নেন।

উপসংহার

ঢাকায় অভিজ্ঞ সার্জারি বিশেষজ্ঞ ডাক্তার খুঁজে পাওয়ার জন্য শুধু জনপ্রিয়তা নয়, চিকিৎসকের যোগ্যতা, আপনার নির্দিষ্ট রোগের ক্ষেত্রে অভিজ্ঞতা এবং সংশ্লিষ্ট হাসপাতালের চিকিৎসা সুবিধা বিবেচনা করা জরুরি।

হার্নিয়া, অ্যাপেন্ডিসাইটিস, গলস্টোন, পাইলস, ফিস্টুলা, ব্রেস্টের সমস্যা, টিউমার কিংবা অন্য কোনো সার্জিক্যাল রোগ থাকলে প্রথমে একজন যোগ্য চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। প্রয়োজন অনুযায়ী তিনি আপনাকে উপযুক্ত সার্জন বা সাব-স্পেশালিস্টের কাছে রেফার করতে পারবেন।

গুরুত্বপূর্ণ নোট: এই তালিকা শুধুমাত্র তথ্যের উদ্দেশ্যে। চিকিৎসকের চেম্বার, পদবি, হাসপাতাল, সিরিয়াল নম্বর ও ভিজিটিং সময় পরিবর্তিত হতে পারে। অ্যাপয়েন্টমেন্ট নেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট হাসপাতাল বা চিকিৎসকের অফিসিয়াল মাধ্যমে বর্তমান তথ্য যাচাই করুন।

ঢাকায় ব্রেন টিউমার অপারেশনের খরচ কত ?

সিরিয়ালের জন্য যোগাযোগ করুন -

ঢাকায় ব্রেন টিউমার অপারেশনের খরচ কত ?

ঢাকায় ব্রেন টিউমার অপারেশনের খরচ কত ? ব্রেন টিউমার নির্ণয়ের সাথে মোকাবিলা করা মানসিক এবং আর্থিকভাবে উভয়ই অপ্রতিরোধ্য হতে পারে। মস্তিষ্কের টিউমার অপারেশনের খরচ বোঝা পরিকল্পনা এবং উপযুক্ত চিকিৎসা সেবা চাওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক। এই নিবন্ধে, আমরা ঢাকায় ব্রেন টিউমার অপারেশনের খরচ সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করব।

ব্রেন টিউমার নির্ণয়ের সাথে মোকাবিলা করা মানসিক এবং আর্থিকভাবে উভয়ই অপ্রতিরোধ্য হতে পারে। মস্তিষ্কের টিউমার অপারেশনের খরচ বোঝা পরিকল্পনা এবং উপযুক্ত চিকিৎসা সেবা চাওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক। এই নিবন্ধে, আমরা ঢাকায় ব্রেন টিউমার অপারেশনের খরচ সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করব।

খরচ প্রভাবিত করার কারণগুলি:

হাসপাতাল এবং সার্জনের দক্ষতা: হাসপাতালের সুনাম, সুবিধা এবং দক্ষতা এবং অপারেশন সম্পাদনকারী সার্জনের খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে প্রভাবিত করতে পারে। বিখ্যাত হাসপাতাল এবং অভিজ্ঞ নিউরোসার্জনদের উন্নত কৌশল এবং বিশেষ সরঞ্জামের কারণে উচ্চ ফি থাকতে পারে।

ব্রেন টিউমার নির্ণয়ের পদ্ধতি: মস্তিষ্কের টিউমার নির্ণয়ের প্রক্রিয়ায় এমআরআই স্ক্যান, সিটি স্ক্যান এবং বায়োপসির মতো বিভিন্ন পরীক্ষা জড়িত। এই পদ্ধতির কারণে খরচ বেড়ে যায়।

টিউমারের ধরন এবং পর্যায়: ব্রেন টিউমারের ধরন এবং পর্যায় অপারেশনের জটিলতা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। আরও উন্নত বা জটিল ক্ষেত্রে অতিরিক্ত অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হতে পারে, যার ফলে খরচ বেড়ে যায়।

হাসপাতালে থাকা এবং অপারেটিভ পরবর্তী যত্ন: হাসপাতালে থাকার সময়কাল এবং অপারেটিভ পরবর্তী যত্নের প্রয়োজনীয় স্তর সামগ্রিক খরচে অবদান রাখে। এর মধ্যে রয়েছে রুম, ওষুধ, নার্সিং কেয়ার এবং ফলো-আপ পরামর্শ সংক্রান্ত খরচ।

পুনর্বাসন এবং ফলো-আপ যত্ন: মস্তিষ্কের টিউমার অপারেশনের প্রকৃতি এবং ব্যক্তির অবস্থার উপর নির্ভর করে, পুনর্বাসন এবং ফলো-আপ যত্ন প্রয়োজন হতে পারে। এই পরিষেবাগুলি, যেমন ফিজিওথেরাপি বা স্পিচ থেরাপি, সামগ্রিক খরচে অবদান রাখতে পারে।

ভ্রমণ এবং বাসস্থান: আপনি যদি ঢাকার বাইরে থাকেন, তাহলে আপনার নিজের এবং পরিবারের যে কোনো সদস্যের জন্য ভ্রমণ এবং বাসস্থানের খরচ বিবেচনা করতে হবে।

ঢাকায় ব্রেন টিউমার অপারেশনের খরচ:

ঢাকায় ব্রেন টিউমার অপারেশনের খরচ সাধারণত ১,০০,০০০ টাকা থেকে ২,৫০,০০০ টাকা পর্যন্ত হয়ে থাকে। যাইহোক, আপনার নির্দিষ্ট অবস্থা এবং চিকিত্সার প্রয়োজনীয়তার উপর ভিত্তি করে একটি সঠিক অনুমান পেতে একজন যোগ্যতাসম্পন্ন সার্জনের সাথে পরামর্শ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বিশেষ দ্রষ্টব্যঃ-  আপনি যদি ঢাকায় ব্রেন টিউমার অপারেশনের কথা বিবেচনা করেন, তাহলে আরও বিস্তারিত জানতে কল করুনঃ +880 1949-605525

সকল সার্জারি বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের তালিকা নিম্নে দেয়া হলো –

ডায়াবেটিসে কোন খাবার এড়িয়ে চলবেন

ডায়াবেটিসে কোন খাবার এড়িয়ে চলবেন? ১০টি খাবার ও পানীয়

ডায়াবেটিসের ১০টি প্রাথমিক লক্ষণ: যেসব উপসর্গ অবহেলা করবেন না লেখক: Hello Doctor Zone Editorial Team সর্বশেষ আপডেট: ২৫ জুলাই ২০২৬ পড়তে সময়: ৬ মিনিট ...

ডায়াবেটিস হলে কোন খাবার খাবেন

ডায়াবেটিস হলে কোন খাবার খাবেন? স্বাস্থ্যকর খাবারের তালিকা

ডায়াবেটিসের ১০টি প্রাথমিক লক্ষণ: যেসব উপসর্গ অবহেলা করবেন না লেখক: Hello Doctor Zone Editorial Team সর্বশেষ আপডেট: ২৫ জুলাই ২০২৬ পড়তে সময়: ৬ মিনিট ...

ডায়াবেটিস কী? কারণ, লক্ষণ, পরীক্ষা ও নিয়ন্ত্রণের উপায়

ডায়াবেটিস কী? কারণ, লক্ষণ, পরীক্ষা ও নিয়ন্ত্রণের উপায়

ডায়াবেটিসের ১০টি প্রাথমিক লক্ষণ: যেসব উপসর্গ অবহেলা করবেন না লেখক: Hello Doctor Zone Editorial Team সর্বশেষ আপডেট: ২৫ জুলাই ২০২৬ পড়তে সময়: ৬ মিনিট ...

গর্ভপাত: প্রকার, লক্ষণ, কারণ, রোগ নির্ণয় এবং চিকিৎসা

সিরিয়ালের জন্য যোগাযোগ করুন -

গর্ভপাত: প্রকার, লক্ষণ, কারণ, রোগ নির্ণয় এবং চিকিৎসা

গর্ভপাতের লক্ষণ ও কারণ মেডিকেল রিভিউ করেছেন ডা. সেঁজুতি সীমান্ত একটি গবেষণায় দেখা গিয়েছে যে, গর্ভধারণ নিশ্চিত হওয়ার পরে শতকরা ১০ ভাগ ক্ষেত্রে গর্ভাবস্থার পরিণতি গর্ভপাত হয়ে থাকে। তাছাড়া অনেক ক্ষেত্রে গর্ভধারণ নিশ্চিত হওয়ার পূর্বেই গর্ভপাত হয়ে যায়। সাধারণত প্রথম ত্রৈমাসিকে গর্ভপাত হওয়ার ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি। মা ও শিশুর স্বাস্থ্য এবং আশেপাশের স্বাস্থ্য সেবা প্রদানকারী কেন্দ্রের চিকিৎসা ব্যবস্থার সক্ষমতার ওপর ভিত্তি করে প্রত্যেক শিশুর বাইরের জগতে বেঁচে থাকার জন্য প্রস্তুত হতে সময় কিছুটা কম-বেশি লাগতে পারে। তাই গর্ভপাতের সময়সীমা একেক দেশে একেক রকম হয়। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে গর্ভাবস্থার ২৮ সপ্তাহ সম্পূর্ণ হওয়ার আগে গর্ভের সন্তান মারা গেলে তাকে গর্ভপাত বলে। অপরদিকে ২৮ সপ্তাহের পর গর্ভে সন্তানের মৃত্যু ঘটলে তাকে মৃতপ্রসব বলা হয়।

মেডিকেল রিভিউ করেছেন ডা. সেঁজুতি সীমান্ত

একটি গবেষণায় দেখা গিয়েছে যে, গর্ভধারণ নিশ্চিত হওয়ার পরে শতকরা ১০ ভাগ ক্ষেত্রে গর্ভাবস্থার পরিণতি গর্ভপাত হয়ে থাকে। তাছাড়া অনেক ক্ষেত্রে গর্ভধারণ নিশ্চিত হওয়ার পূর্বেই গর্ভপাত হয়ে যায়। সাধারণত প্রথম ত্রৈমাসিকে গর্ভপাত হওয়ার ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি।

মা ও শিশুর স্বাস্থ্য এবং আশেপাশের স্বাস্থ্য সেবা প্রদানকারী কেন্দ্রের চিকিৎসা ব্যবস্থার সক্ষমতার ওপর ভিত্তি করে প্রত্যেক শিশুর বাইরের জগতে বেঁচে থাকার জন্য প্রস্তুত হতে সময় কিছুটা কম-বেশি লাগতে পারে। তাই গর্ভপাতের সময়সীমা একেক দেশে একেক রকম হয়।

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে গর্ভাবস্থার ২৮ সপ্তাহ সম্পূর্ণ হওয়ার আগে গর্ভের সন্তান মারা গেলে তাকে গর্ভপাত বলে। অপরদিকে ২৮ সপ্তাহের পর গর্ভে সন্তানের মৃত্যু ঘটলে তাকে মৃতপ্রসব বলা হয়।

গর্ভপাতের লক্ষণ

গর্ভপাতের সবচেয়ে পরিচিত লক্ষণ হলো যোনিপথ বা মাসিকের রাস্তা দিয়ে রক্ত যাওয়া। এই রক্তপাতের মাত্রা কারও বেশি আবার কারও কম হয়। অন্তর্বাসে অথবা পায়জামায় রক্তের হালকা ছোপ ছোপ দাগ লাগা কিংবা বাদামী রঙের অল্প পরিমাণে রক্তপাত হওয়া থেকে শুরু করে টকটকে লাল রঙের এবং জমাট বাঁধা রক্তের দলাসহ ভারী রক্তপাত হতে পারে।

এই রক্তপাত কারও একটানা কয়েকদিন পর্যন্ত স্থায়ী হয়। আবার কারও ক্ষেত্রে রক্তপাত কিছু সময় বন্ধ থেকে কয়েক দিন পরে পুনরায় শুরু হতে পারে।

যোনিপথে রক্তপাত ছাড়াও গর্ভপাত হলে অন্যান্য যেসব লক্ষণ দেখা দিতে পারে সেগুলো হলো—

  • তলপেট মোচড়ানো অথবা ব্যথা হওয়া
  • যোনিপথ দিয়ে তরল নির্গত হওয়া
  • যোনিপথ দিয়ে মাংসের দলার মতো কিছু নির্গত হওয়া
  • গর্ভধারণের লক্ষণগুলো না থাকা। যেমন: বমি বমি ভাব ও স্তনে ব্যথা

দ্রষ্টব্য, গর্ভকালের প্রথম দিকে যোনিপথে রক্তপাত হলে তা সব ক্ষেত্রে গর্ভপাত নির্দেশ করে না। এক্টোপিক প্রেগন্যান্সি বা জরায়ুর বাইরে গর্ভধারণ করলে, মোলার প্রেগন্যান্সি, অর্থাৎ গর্ভধারণের পরিবর্তে গর্ভে থোকা থোকা মাংসের দলা সৃষ্টি হলে এবং ইমপ্ল্যানটেশন ব্লিডিং, অর্থাৎ ভ্রূণ জরায়ুর গায়ে বসার কারণেও মায়ের যোনিপথে রক্তপাত হতে পারে।

এসব ছাড়াও এই সময়ে অন্যান্য কোনো রোগের কারণেও রক্তপাত হতে পারে।  তাই এই সময়ে যোনিপথে রক্তপাত হলেই আতঙ্কিত না হয়ে নিকটস্থ চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

তবে এক্টোপিক প্রেগন্যান্সি একটি ভয়াবহ জটিল সমস্যা। কেননা এর ফলে হঠাৎ করে শরীরের ভেতরে প্রচুর পরিমাণে রক্তপাত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। এমনকি রোগী রক্তপাতের কারণে মৃত্যুবরণও করতে পারে। তাই এক্টোপিক প্রেগন্যান্সির লক্ষণ প্রকাশ পাওয়া মাত্র যত দ্রুত সম্ভব নিকটস্থ হাসপাতালে যেতে হবে।

এক্টোপিক প্রেগন্যান্সির লক্ষণ এবং লক্ষণ দেখা দিলে কী হতে পারে এসব জানতে এক্টোপিক প্রেগন্যান্সি আর্টিকেলটি পড়ুন।

গর্ভপাতের কারণসমূহ

গর্ভপাত নানান কারণে হতে পারে। সাধারণত গর্ভের সন্তান অথবা মায়ের বিভিন্ন রোগ ও ত্রুটির কারণে গর্ভপাত ঘটে। তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে গর্ভপাতের কারণ সুনির্দিষ্টভাবে বের করা সম্ভব হয়ে ওঠে না।

প্রথম ত্রৈমাসিকে সাধারণত গর্ভের শিশুর কোনো ধরনের সমস্যার কারণে গর্ভপাত হয়ে থাকে। প্রথম ত্রৈমাসিকের পরের সময়গুলোতে মায়ের নানান রোগের কারণে গর্ভপাত হতে পারে।

এ ছাড়াও গর্ভের শিশুর চারপাশে কোনো ধরনের ইনফেকশন হলে ধীরে ধীরে পানি ভাঙতে শুরু হয়। এর ফলে কোনো ধরনের ব্যথা কিংবা রক্তপাত শুরু হওয়ার আগেই গর্ভপাত হয়ে যেতে পারে।

আবার কখনো কখনো জরায়ুমুখ নির্দিষ্ট সময়ের বেশ আগে খুলতে শুরু করে। এ কারণেও গর্ভপাত হতে পারে।

গর্ভপাতের কারণগুলোকে ত্রৈমাসিক অনুযায়ী দুইটি ভাগে ভাগ করা যেতে পারে। যেমন—

প্রথম ত্রৈমাসিকে গর্ভপাতের কারণ

গর্ভাবস্থার ১৩তম সপ্তাহ পর্যন্ত যে সময়কাল তাকে প্রথম ত্রৈমাসিক বলে। এসময়ে গর্ভপাত হওয়ার কারণগুলো হলো—

১. ক্রোমোজোমের সমস্যা

আমাদের দেহের যেকোনো অংশের গঠন কেমন হবে তা নির্ভর করে ‘ডিএনএ’ এর ওপর। অর্থাৎ শিশুর চেহারা অথবা চুলের রঙ থেকে শুরু করে তার শরীরের ভেতরের নানান অঙ্গের গঠনও ‘ডিএনএ’ এর ওপর নির্ভরশীল। আর ক্রোমোজোম হলো একাধিক ‘ডিএনএ’ এর সমষ্টি।

প্রতিটি মানুষের দেহে মোট ২৩ জোড়া, অর্থাৎ ৪৬টি ক্রোমোজোম থাকে। এর মধ্যে ২৩টি আসে মায়ের শরীর থেকে আর বাকী ২৩টি আসে বাবার শরীর থেকে।

কখনো কখনো গর্ভধারণের সময়ে মা-বাবার কাছ থেকে ২৩টির কম অথবা বেশি ক্রোমোজোম চলে আসতে পারে। এর ফলে গর্ভের শিশুর দেহে ক্রোমোজোম সংখ্যা কম-বেশি হয়। ফলে সে স্বাভাবিকভাবে বেড়ে উঠতে পারবে না। এর পরিণতি স্বরূপ গর্ভপাত হতে পারে।

এ ধরনের ঘটনা কেন ঘটে সে সম্পর্কে এখনো সঠিকভাবে কিছু জানা যায়নি। এমনকি এ ধরনের ঘটনার পেছনে গর্ভের শিশুর মা-বাবার কোনো ধরনের শারীরিক সমস্যাও দায়ী নয়। যে কারও ক্ষেত্রে এই ঘটনা ঘটতে পারে।

তবে স্বস্তির বিষয় এই যে, পরবর্তী কোনো গর্ভাবস্থায় এর পুনরাবৃত্তি হওয়ার আশঙ্কা কম।

২. গর্ভফুলের সমস্যা

গর্ভফুল বা প্লাসেন্টার মাধ্যমে মায়ের শরীর থেকে গর্ভের শিশুর দেহে রক্ত সরবরাহ হয়। এই রক্তের মাধ্যমে সে গর্ভের ভেতরে বেড়ে ওঠার জন্য পুষ্টি উপাদান পায়। তাই গর্ভফুলে কোনো সমস্যা থাকলে শিশুর রক্ত সরবরাহে বিঘ্ন ঘটে গর্ভপাত হয়ে যেতে পারে।

৩. অন্যান্য কারণ

যে কারও যেকোনো সময় গর্ভপাত হতে পারে। তবুও কিছু বিষয় প্রথম ত্রৈমাসিকে গর্ভপাত হওয়ার হওয়ার আশঙ্কা বাড়িয়ে দেয়। যেমন—

  • গর্ভবতী মায়ের বয়স বেশি হওয়া
  • গর্ভবতী মায়ের ওজন অতিরিক্ত হওয়া
  • অতিরিক্ত ক্যাফেইনযুক্ত খাবার খাওয়া অথবা পানীয় পান করা। যেমন: চা ও কফি
  • ধূমপান করা অথবা ধূমপায়ীদের আশেপাশে থাকার কারণে সিগারেটের ধোঁয়া সেবন করা
  • মাদকদ্রব্য গ্রহণ করা
  • মদপান করা

দ্বিতীয় ত্রৈমাসিকে গর্ভপাতের কারণ

গর্ভাবস্থার ১৪তম সপ্তাহ থেকে ২৮ সপ্তাহ পর্যন্ত সময়কালকে দ্বিতীয় ত্রৈ মাসিক বলে। এই সময়ে যেসব কারণে গর্ভপাত হতে পারে—

১. মায়ের দীর্ঘমেয়াদী অসুস্থতা

দীর্ঘ দিন মায়ের কোনো স্বাস্থ্য সমস্যা থাকলে এবং বিশেষ করে ঠিকমতো তার চিকিৎসা না নিলে অথবা তা নিয়ন্ত্রণে না থাকলে, গর্ভপাতের আশঙ্কা বেড়ে যায়। যেসব রোগ থাকলে গর্ভপাতের ঝুঁকি বেড়ে যেতে পারে সেগুলো হলো—

  • অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস
  • অতিরিক্ত উচ্চ রক্তচাপ
  • সিস্টেমিক লুপাস ইরাইথামেটোসাস বা এসএলই
  • কিডনির রোগ
  • হাইপারথাইরয়েডিজম বা রক্তে থাইরয়েড হরমোন বেড়ে যাওয়া
  • হাইপোথাইরয়েডিজম বা রক্তে থাইরয়েড হরমোন কমে যাওয়া
  • অ্যান্টি ফসফোলিপিড সিনড্রোম

২. ইনফেকশন

গর্ভাবস্থায় মা কিছু ইনফেকশনে আক্রান্ত হলে গর্ভপাতের আশঙ্কা বেড়ে যেতে পারে। যেমন –

  • রুবেলা ভাইরাস
  • সাইটোমেগালো ভাইরাস
  • ব্যাকটেরিয়াল ভ্যাজাইনোসিস। এক্ষেত্রে যোনিপথে স্বাভাবিক অবস্থায় থাকা নির্দিষ্ট কিছু ব্যাকটেরিয়ার সংখ্যা অতিরিক্ত বেড়ে যায়
  • এইচআইভি
  • ক্ল্যামাইডিয়া
  • গনোরিয়া
  • সিফিলিস
  • ম্যালেরিয়া

৩. খাদ্যে বিষক্রিয়া

কিছু নির্দিষ্ট জীবাণু দ্বারা দূষিত খাবার খাওয়ার ফলে বিষক্রিয়া হলে গর্ভপাতের আশংকা বেড়ে যেতে পারে। যেমন—

  • অপাস্তুরিত দুধ অথবা দুগ্ধজাত খাবার থেকে লিসটেরিয়া ব্যাকটেরিয়ার বিষক্রিয়া
  • কাঁচা অথবা ভালোমতো সেদ্ধ না হওয়া মাংস থেকে টক্সোপ্লাসমার বিষক্রিয়া
  • কাঁচা অথবা আধা সিদ্ধ ডিম থেকে স্যালমনেলার বিষক্রিয়া

এজন্য দুধ ভালো ভাবে ফুটিয়ে খাওয়ার চেষ্টা করুন। পাশাপাশি ডিম, মাছ ও মাংস ভালো মতো রান্না করে খান। সুশি জাতীয় কাঁচা অথবা ভালোমতো সেদ্ধ না করা খাবার এড়িয়ে চলুন।

৪. ঔষধপত্র

কিছু ঔষধ সাধারণ মানুষের জন্য নিরাপদ হলেও সেসব গর্ভের শিশুর জন্য ক্ষতির কারণ হতে পারে। গর্ভাবস্থায় এসব সেবন করলে তা গর্ভের সন্তানের বিভিন্ন সমস্যা তৈরি করতে পারে। এমনকি গর্ভপাতও ঘটাতে পারে।

গর্ভপাতের ঝুঁকি বাড়ায় এমন কিছু ঔষধ হলো—

  • মিসোপ্রস্টল
  • রেটিনয়েড
  • মেথোট্রেক্সেট 
  • বিভিন্ন ব্যথানাশক ও প্রদাহনাশক ঔষধ

সবচেয়ে ভালো হয় যদি গর্ভাবস্থায় যেকোনো ঔষধ নেওয়ার আগে ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে নেওয়া হয়। ‘ওভার দ্যা কাউন্টার’, অর্থাৎ প্রেসক্রিপশন ছাড়া ক্রয় করা যায় এমন ঔষধগুলো নিরাপদ কি না সেটিও ডাক্তারের সাথে কথা বলে নিশ্চিত হয়ে নিলে ভালো হয়। ঔষধের নির্দেশিকা পড়ে নিলেও এক্ষেত্রে আপনি কিছু তথ্য জানতে পারেন।

৪. জরায়ুর গঠন

মায়ের গর্ভ, অর্থাৎ জরায়ুর গঠনে কিছু সমস্যা হলে দ্বিতীয় ত্রৈমাসিকে গর্ভপাত ঘটতে পারে। যেমন: গর্ভাবস্থায় জরায়ুতে টিউমার বা ফাইব্রয়েড হলে এবং জরায়ুর আকৃতি অস্বাভাবিক হলে।

৫. দুর্বল জরায়ুমুখ

কিছু কিছু ক্ষেত্রে জরায়ুমুখের পেশিগুলো স্বাভাবিকের চেয়ে দুর্বল হয়ে যেতে পারে। পূর্বে কখনো জরায়ুমুখে কোনো আঘাত পেয়ে থাকলে বিশেষত কোনো অপারেশন হওয়ার কারণে আঘাতপ্রাপ্ত হলে এমন সমস্যা হতে পারে।

পেশির দুর্বলতার কারণে জরায়ুমুখ গর্ভকাল শেষ হওয়ার আগেই প্রসারিত হয়ে যেতে পারে। ফলে গর্ভপাত ঘটতে পারে।

৬. পিসিওএস

পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোম বা পিসিওএস এটি একটি হরমোনজনিত সমস্যা, যার ফলে ওভারি বা ডিম্বাশয় স্বাভাবিকের চেয়ে বড় হয়ে যায়। ফলে ডিম্বাশয়ের স্বাভাবিক কাজকর্ম বাধাগ্রস্ত হয়। এই রোগে একজন নারীর শরীরে বিভিন্ন রকমের সমস্যা তৈরি হতে পারে। কিছু গবেষণায় ধারণা করা হয়েছে যে, পিসিওএস আক্রান্ত নারীর গর্ভপাত হওয়ার আশংকা বেশি

ঢাকার গাইনিকোলজিষ্ট বা গাইনি বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের তালিকা নিম্নে দেয়া হলো –

সহকারী অধ্যাপক ডাঃ জেসমিন জেরিন ASSISTANT PROFESSOR DR. JESMIN JERIN এমবিবিএস,এফসিপিএস(গাইনি ও অবস্‌)। সহকারী অধ্যাপক (ল্যাপারোস্কপিক সার্জন) - বারডেম হাসপাতাল, ঢাকা। প্রসূতি ও স্ত্রীরোগ এবং বন্ধ্যাত্ব বিশেষজ্ঞ, ঢাকা।

সহকারী অধ্যাপক ডাঃ জেসমিন জেরিন

সিরিয়ালের জন্য যোগাযোগ করুন - +8801301-971282 সহকারী অধ্যাপক ডাঃ জেসমিন জেরিন প্রসূতি ও স্ত্রীরোগ এবং বন্ধ্যাত্ব ব ...

ডায়াবেটিসে কোন খাবার এড়িয়ে চলবেন

ডায়াবেটিসে কোন খাবার এড়িয়ে চলবেন? ১০টি খাবার ও পানীয়

ডায়াবেটিসের ১০টি প্রাথমিক লক্ষণ: যেসব উপসর্গ অবহেলা করবেন না লেখক: Hello Doctor Zone Editorial Team সর্বশেষ আপডেট: ২৫ জুলাই ২০২৬ পড়তে সময়: ৬ মিনিট ...

ডায়াবেটিস হলে কোন খাবার খাবেন

ডায়াবেটিস হলে কোন খাবার খাবেন? স্বাস্থ্যকর খাবারের তালিকা

ডায়াবেটিসের ১০টি প্রাথমিক লক্ষণ: যেসব উপসর্গ অবহেলা করবেন না লেখক: Hello Doctor Zone Editorial Team সর্বশেষ আপডেট: ২৫ জুলাই ২০২৬ পড়তে সময়: ৬ মিনিট ...

ডায়াবেটিস কী? কারণ, লক্ষণ, পরীক্ষা ও নিয়ন্ত্রণের উপায়

ডায়াবেটিস কী? কারণ, লক্ষণ, পরীক্ষা ও নিয়ন্ত্রণের উপায়

ডায়াবেটিসের ১০টি প্রাথমিক লক্ষণ: যেসব উপসর্গ অবহেলা করবেন না লেখক: Hello Doctor Zone Editorial Team সর্বশেষ আপডেট: ২৫ জুলাই ২০২৬ পড়তে সময়: ৬ মিনিট ...

জীবনরক্ষাকারী উচ্চমূল্যের ওষুধ দেশে তৈরি সম্ভব: অধ্যাপক ডা. আবদুল্লাহ

সিরিয়ালের জন্য যোগাযোগ করুন -

জীবনরক্ষাকারী উচ্চমূল্যের ওষুধ দেশে তৈরি সম্ভব: অধ্যাপক ডা. আবদুল্লাহ

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমিরেটাস অধ্যাপক ও প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. এবিএম আবদুল্লাহ বলেছেন, বিভিন্ন ধরনের জটিল রোগের অনেক ওষুধ বিদেশ থেকে আমদানী করতে হয়। এতে যেমন সময় ব্যয় হয়, তেমনি ওষুধের দামও অনেক বেড়ে যায়। দেশেই অনেক ওষুধ কোম্পানি রয়েছে, যারা এ ধরনের ওষুধ তৈরি করতে সক্ষম। দেশে এসকল ওষুধ উৎপাদন করতে পারলে জীবনরক্ষাকারী ওষুধ প্রাপ্তি যেমন সহজলভ্য হতো, আবার দামও হতো তুলনামূলকভাবে অনেক কম।

শনিবার (১০ জুন) বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেসা মুজিব কনভেনশন হলে অনুষ্ঠিত পালমোনারি হাইপারটেশন বিষয়ক প্রথম বৈজ্ঞানিক সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। এক্ষেত্রে চিকিৎসকরা যদি উদ্যোগ নেন, তাহলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রয়োজনীয় সহযোগিতা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সহায়তার আশ্বাস দেন অধ্যাপক ডা. এবিএম আবদুল্লাহ।

সম্মেলনে প্রধান অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর (ভিসি) অধ্যাপক ডা. মোঃ শারফুদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, পালমোনারি হাইপারটেশন নীরব ঘাতক রোগ। বুকে ব্যাথা, বুক ধরফর করা, অজ্ঞান হয়ে যাওয়া, পায়ে পানি আসা, সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠতে না পারা, স্মৃতি শক্তি লোপ পাওয়া বা কিছু মনে রাখতে না পরা এ ধরনের উপসর্গ দেখা দিলে অবশ্যই চিকিৎসককের পরামর্শ নিতে হবে।

তিনি আরও বলেন, বিএসএমএমইউয়ে পালমোনারি হাইপারটেশন রোগ নির্ণয় ও সুচিকিৎসার সব ধরনের সুযোগ নিশ্চিত করতে কার্যকরী উদ্যোগ নেয়া হবে। এ ধরনের রোগীর ক্ষেত্রে রেজিস্ট্রি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এ পর্যন্ত এ ধরনের ৬৫ রোগী রেজিস্টার্ড হয়েছে এবং এই প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখতে হবে।

অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) অধ্যাপক ডা. একেএম মোশাররফ হোসেন, ইউজিসির অধ্যাপক প্রখ্যাত হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. সজল কৃষ্ণ ব্যানার্জী, প্রখ্যাত বাতরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. সৈয়দ অতিকুল হক, ইন্টারনাল মেডিসিন বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. মোঃ আবুল কালাম আজাদ, সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. সোহেল মাহমুদ আরাফাত, রিউমাটোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. মিনহাজ রহিম চৌধুরী, অধ্যাপক ডা. মোঃ আবু শাহীনসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন।

পালমোনারি হাইপারটেশন সাপোর্ট গ্রুপ আয়োজিত এই সম্মেলনে জানানো হয়, মাল্টি ডিসিপ্লিনারি উদ্যোগের মাধ্যমে এই রোগের চিকিৎসার জন্য জনগণকে উদ্বুদ্ধ করা এবং চিকিৎসকদের মধ্যে একটি ঐক্যবদ্ধ সিস্টেম চালু করা এই সম্মেলনের মূল্য উদ্দেশ্য।


Source: doctortv.net

Omega-3 Fatty Acid: শরীরে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিডের ভূমিকা সম্পর্কে জানেন?

সিরিয়ালের জন্য যোগাযোগ করুন -

Omega-3 Fatty Acid: শরীরে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিডের ভূমিকা সম্পর্কে জানেন?

Omega-3 Fatty Acid

 

আমরা যে সব স্বাস্থ্যকর খাদ্য গ্রহণ করি তার মধ্যে বেশির ভাগ খাদ্যেই থাকে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড। এমনকি মাছের তেলের মধ্যে রয়েছে এই উপাদানটি। শরীরে এই উপাদানটির অভাব থাকলে দেখা দেয় একাধিক রোগ, তাই সাপ্লিমেন্টও উপলব্ধ ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিডের। কিন্তু কেন! আমাদের শরীরে এই ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড কী প্রভাব ফেলে জানেন?

ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড মূলত তিন রকমের হয়, যথা- এএলএ (ALA), ইপিএ (EPA) এবং ডিএইচএ (DHA)। এই ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড। ফ্লাক্স সিড, মাছের তেল, বিভিন্ন সামুদ্রিক মাছ, বাদাম এবং আরও খাবারের মধ্যে পাওয়া যায়।

১) দূর করে মানসিক অবসাদ- ডিপ্রেশন, অ্যানজাইটি বিশ্বের সবচেয়ে সাধারণ একটি মানসিক রোগ। ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড এই মানসিক রোগের ওপর দারুণ প্রভাব ফেলে এবং এই মানসিক অবসাদের সমস্যাকে দূর করে। তার সঙ্গে উন্নত করে মানসিক স্বাস্থ্য। ইপিএ (EPA) মূলত ডিপ্রেশনের সঙ্গে লড়াই করতে সক্ষম।

২) চোখের স্বাস্থ্য উন্নত করে- ডিএইচএ নামে একটি ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড আপনার চোখের রেটিনার একটি প্রধান কাঠামোগত উপাদান। দৃষ্টিশক্তির দুর্বলতা এবং অন্ধ হওয়ার জন্য দায়ী ম্যাকুলার ডিজেনারেশনকে এটি প্রতিরোধ করতে সহায়তা করতে পারে।

৩) ভ্রূণের মস্তিষ্কে বিকাশে সক্ষম- গর্ভা‌বস্থায় শিশুর মস্তিষ্কের বিকাশে সাহায্য করে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড। অস্টিজম সহ একাধিক রোগকে প্রতিরোধ করতে সক্ষম এই ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড। তার সঙ্গে শিশু অবস্থাতেও মস্তিষ্কের বিকাশে এবং শিশুর বুদ্ধির বিকাশ ঘটাতে সহায়ক ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড।

৪) হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়- ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড ট্রাইগ্লিসারাইড ও এলডিএল কোলেস্টেরলের মাত্রা কমায়। এইচডিএলের মাত্রা বৃদ্ধি করে। রক্তচাপকে নিয়ন্ত্রণে রাখে এবং রক্ত জমাট বাঁধতে দেয় না। এই সব কারণে হ্রাস পায় হৃদরোগের ঝুঁকিও। সুতরাং হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের ঝুঁকি কমাতে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড সমৃদ্ধ খাবার খান।

৫) ক্যান্সার প্রতিরোধে সক্ষম- গবেষণায় দেখা গিয়েছে যে সব মানুষের মধ্যে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিডের মাত্রা বেশি তাদের মধ্যে ৫৫% কোলন ক্যান্সারের আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি কম। এছাড়াও এই ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড উপাদানটি প্রস্টেট ও স্তন ক্যান্সারের মত রোগের ঝুঁকি কমাতেও সাহায্য করে।

৬) আস্থমার প্রতিরোধ করে- বিশেষত শিশুদের মধ্যে আস্থমার উপসর্গ এবং এই রোগকে পুরোপুরি দূর করতে এবং প্রতিরোধ করতে সক্ষম ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড। তার সঙ্গে প্রাপ্তবয়ঃস্কদের মধ্যেও আস্থমার উপসর্গকে দূর করতে সহায়ক ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড।

৭) প্রদাহ বিরোধী বৈশিষ্ট্য- ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিডের মধ্যে অ্যান্টি ইনফ্লেমটরি বৈশিষ্ট্য রয়েছে, যা শরীরকে যে কোনও ধরনের সংক্রমণের হাত থেকে রক্ষা করে এবং শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তোলে।

Omega-3 Fatty Acid: শরীরে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিডের ভূমিকা সম্পর্কে জানেন?

পণ্যটি কিনতে নি‌চের লিঙ্কে ক্লিক করুন